Saturday, April 20, 2024

Medinipore: মাদুরের পর বিশ্বনাথের হাত ধরে বিশ্ব জয় করার পথে সবংয়ের পান! মন্ত্রীর জন্যই লড়াইয়ের উৎসাহ পেয়েছি জানালেন তরুন

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধানঃ মাত্র ৩৩ বছর বয়স তাঁর কিন্তু কৃষিতে বিশ্ব পাড়ি দেওয়ার পাল তুলে নিয়েছেন নিজের হাতেই। শুরুতে হোঁচট খেয়েছেন অনেক। বিদেশে বাণিজ্য দেওয়ার নাম করে বড় চাষে নামিয়ে কথা রাখেনি রপ্তানিকারী ব্যবসায়ীরা। তাঁর উৎসাহ কটাক্ষ করে ছোট বাচ্চা বলে কটাক্ষ করেছেন সরকারের বড় পদাধিকারী আধিকারিক। ‘ধ্যাড়ধ্যাড়ে গোবিন্দপুর’ বলে পরিচিত সবং থানার মোহাড় গ্রামের স্নাতক বিশ্বনাথ খাটুয়া তাতে দমে যাননি বরং সপাট জবাব দিয়ে বলেছেন, জাহাজ যতই বড় হোক না কেন দেড় হাত কাপড়ের পালই তার জন্য যথেষ্ট। সেই বিশ্বনাথকে ঘিরেই শুরু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের পান চাষীদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। শুক্রবার বিশ্বনাথের পুরোপুরি জৈব সার ও কীটনাশক নির্ভর চাষ করা পান পাড়ি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যেখানে একটা পান খেতে গেলে মানুষকে ২ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫০টাকা) খরচ করতে হয়। বিশ্বনাথ জানিয়েছেন, “পরীক্ষামূলক ভাবে এই দফায় এগারশো পান গেছে। আমি নিশ্চিত এই পান ওখানকার পরীক্ষাতে একশ তে একশ পেয়ে পাশ করবে কারন এর আগে দেশের একাধিক বড় ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় পাশ করেছে আমার চাষ করা এই পান। তারপরেই বিদেশে পান পাঠানোর ছাড়পত্র
পেয়েছি আমি।”

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

২০১৯ সাল থেকে আরব দেশ গুলিতে পান পাঠাতে শুরু করেন বিশ্বনাথ। শুধু পান সময় বুঝে পাঠাতেন সবজিও। বিশ্বনাথ জানান সপ্তাহে ২টন অবধি পান পাঠাতাম কিন্তু এক সময় বাংলাদেশের পান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছু হটতে হল। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যেখানে ৯৬ টাকা প্রতি কেজি বিমান ভাড়ায় আরবে পান পাঠাতে পারেন আমাদের দেশ থেকে পান পাঠালে খরচ পড়ে যায় ১২৫টাকা। সেই সময় রাজ্যসভার সাংসদ মানস ভূঁইঞা। তাঁর দ্বারস্থ হলাম। তিনি চিঠি লিখে দিলেন অসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে। সেখানে গেলাম কিন্তু নীতির পরিবর্তন করাতে ব্যর্থ হলাম। কিন্তু হার না মেনে কৌশল বদল করলাম। শীতকালে বাংলাদেশে পানের তীব্র সংকট দেখা দেয়। পানের উৎপাদন কমে যায় ফলে দাম বেড়ে যায় আমি সেই সময়টাকে বেছে নিলাম আরবে পান পাঠানোর জন্য। লাভের মুখ দেখতে শুরু করলাম। কিন্তু শুধু সিজনাল ব্যবসা দিয়ে চলেনা তাই সারা বছরের ব্যবসার ক্ষেত্র শুরু করলাম। পাশে দাঁড়ালেন সাংসদ এবং সবং পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তরুন মিশ্র। সারা বিশ্বে বাংলার পান তখন মার খাচ্ছে সালমোনিলা ব্যাকটেরিয়ার জন্য। তরুন বাবু বিধানচন্দ্র কৃষি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিলেন। তাঁদের পরামর্শ মত সম্পূর্ন জৈব পদ্ধতিতে চাষ শুরু করলাম। রপ্তানীকারক সংস্থা আশ্বাস দিল এই পান রপ্তানি করবেন তাঁরা। ২২টি বরোজ লিজ নিয়ে ৩৫জন শ্রমিক সহ চাষ শুরু করলাম। পান উঠল কিন্ত তার উপযুক্ত মূল্য দিতে রাজী হলনা ওই সংস্থা ফলে প্রচুর লোকসানের মুখে পড়লাম।

এরপর আরবেরই এক পরিচিত ব্যবসায়ীর হাত ধরে বিশ্বনাথ খোঁজ পেলেন অস্ট্রেলিয়ার বাজারের। কথাবার্তা চুড়ান্ত হওয়ার পর চারমাস আগে বলপাইয়ে দেড় একর জায়গার ওপর নতুন করে চাষ শুরু করলেন বিশ্বনাথ। পাশে দাঁড়ালেন কল্যাণীর অধ্যাপক গবেষকরা। সেই চাষের প্রথম পান তোলা হয়েছে শুক্রবার। বিশ্বনাথ জানিয়েছেন অন্য পান যেখানে চার পাঁচ দিনেই পচনের কবলে পড়ে যায় সেখানে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এই পান অন্ততঃ ২০দিন টিকে থাকবে। শুক্রবার সেই পান রওনা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির উদ্দেশ্যে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্বাগত জানাতে বলপাইয়ে উপস্থিত ছিলেন সবং-এর প্রাক্তন বিধায়িকা সম্মানীয় গীতা রানী ভূঁইয়া সবং-এর যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বাপ্পাদিত্যকর সবং পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী হাজরা বিবি,বিধায়ক প্রতিনিধি বাদল চন্দ্র বেরা কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তরুণ কুমার মিশ্র। সবং ব্লক সভাপতি আবু কালাম বক্স ,কৃষি অধিকর্তা অশোক মাল সহ অন্যান্যরা। বিশ্বনাথ খাটুয়া জানান, “এই পান চাষের পর বিভিন্ন স্বনামধন্য ল্যাবরেটরীতে টেস্ট হয়ে প্রমাণ হয়েছে যে এই পানে কোনও প্রকার ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা কোন রাসায়নিক যোগ নেই। তাই এই পান ছাড় পত্রের অনুমোদন পেলো। আজ অস্ট্রেলিয়া সিডনির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে এই পান, আগামী দিনে অন্যান্য দেশে আমাদের এই সবং এলাকার পান রপ্তানি হবে, নাম উজ্জ্বল করবে সবংয়ের, অনেক বেকার যুবক যুবতীদের চাষ করে লাভ জনক আয়ের দিশা দেখাবে বলে আমি মনে করি।”

রাজ্যের সেচমন্ত্রী তথা সবংয়ের ভূমিপূত্র মানস রঞ্জন ভূঁইঞা বলেন, “সবংয়ের মাদুর বিশ্বজয় করেছে অনেক দিন আগেই এবার বিশ্বনাথের হাত ধরে সবংয়ের পানের বিশ্বজয়ের পথ খুলতে চলেছে। যদিও শুধু সবং নয় বিশ্বনাথের পথ ধরলে সারা বাংলার পান চাষীরাই উপকৃত হবেন পাশাপশি বাংলায় বৈদেশিক মুদ্রার আমদানিও বাড়বে। বিশ্বনাথের এই জয়যাত্রার সাফল্য কামনা করি আমি। ওর লড়াই আমাকে মুগ্ধ করেছে।” তরুন মিশ্রও বলেন, ” বাংলার যুবকদের কাছে এক নতুন সম্ভবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন বিশ্বনাথ। আমার বিশ্বাস পান চাষীরা আরও বৃহত্তর বাজারের সন্ধান পাবেন বিশ্বনাথের হাত ধরে। ওকে সব রকম সাহায্য করব আমরা।’

- Advertisement -
Latest news
Related news