Friday, April 19, 2024

Chandrakona: আদি তৃনমূলীর জায়গা দখল করে নয়া তৃনমূলীদের পার্টি অফিস! চন্দ্রকোনায় শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাড়ির ছোট ছেলের বেয়াড়াপনা বাবা-মা একটু প্রশ্রয় দেয় কারন পরিবারের নব্য সন্তান বলে কথা। হালে বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসা নব্য তৃণমূলীর দলও বোধহয় সেই ভাবেই দলের প্রশ্রয় পেয়ে থাকেন। আর তাদেরই দাপটে প্রাণ ওষ্ঠাগত পুরানো এক তৃনমূলী পরিবারের। হয়ত এই দাপটে একদিন তাঁদেরই প্রাণ বাঁচাতে বিজেপির ছাতার তলায় যেতে হবে। আর এভাবে এ পাল্লা ও পাল্লা হয়ে টিকে থাকবে দুই দলই। গ্রামবাংলার এই চিত্রের ব্যতিক্রম নয় পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানা এলাকার হরিরামপুর গ্রাম। চন্দ্রকোনা ১ ব্লকের জাড়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিরামপুর গ্রামে এক আদি তৃনমূল কর্মী সমর্থক পরিবারের এখন সেরকমই অবস্থা। হরিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রিয়ব্রত রায়ের অভিযোগ তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের সক্রিয় তৃণমূলের কর্মী। তার কিন্তু চাষযোগ্য জমির সম্মুখভাগের কিছু অংশ দখল করে গ্রামেরই বেশকিছু তৃণমূলের কর্মী জোরপূর্বক তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নির্মানের কাজ শুরু করেছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

প্রিয়ব্রতবাবুর দাবি, তাঁর নিজস্ব কৃষিজমি লাগোয়া সরকারি খাস জায়গা রয়েছে যা কিনা রাস্তার সংলগ্ন। ওই জায়গায় তাঁরা দোকান ইত্যাদি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। জায়গাটি খাস অর্থাৎ সরকারের অংশ। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সেই জায়গায় সরকার নিজস্ব কোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করে থাকে অথবা কোনও গরিব মানুষকে পাট্টা দিতে পারে। এই দুটির কোনওটি না হলে ওই জমি যার সম্মুখভাগে তিনিই ভোগদখল করে থাকেন। আর তাই প্রিয়ব্রত এবং তাঁর অন্য দুই ভাই মিলে ওই জায়গায় দোকান বানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন কিন্তু বাধ সাধছেন হালের তৃণমূলীরা। প্রিয়ব্রতদের দাবি জোরপূর্বক এই দলীয় কার্যালয়ে বন্ধের জন্য ইতিমধ্যে দলের একাধিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানালেও, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

প্রিয়ব্রত রায়ের দাবি, ” গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে কাজ করেছেন এমন কিছু হাল আমলে তৃণমূলে যোগ দেওয়া অরুণ মাফুই,পরেশ মল্লিক, রহিম পাত্র, ঝন্টু ভাণ্ডারী নামে ৪ তৃনমূল কর্মী এই দলীয় কার্যালয় করছে।” প্রিয়ব্রতর আরও দাবি, “ওই চার জন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একাধিক দুর্নীতির সাথে জড়িত। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় থেকে শুরু করে নানাধরনের এলাকায় দুর্নীতির বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন এঁরা। তারই প্রতিবাদ করার মাশুল দিতে হচ্ছে আমাদের পরিবারকে। আর এভাবেই নয়া এই তৃনমূলীর দাপটে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছে আদি তৃনমূলের কর্মী সমর্থকরা।”

অভিযুক্ত এক তৃণমূল কর্মী পরেশ মল্লিক অবশ্য দাবি করছেন,” খাস জমি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। আমরা দলের অনুমতি নিয়েই সরকারী খাস জায়গার উপর ওই পাটি অফিস নির্মান করছি। আমাদের একটি দলীয় কার্যালয় করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।” যদিও বিষয়টি নীতিসম্মত নয় অনুধাবন করেই হয়ত স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, ” দলীয়ভাবে আমরা পার্টি অফিস করা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি, ওই জায়গাটি সরকারি এক নাম্বার খতিয়ানের, তাই আমরাও কাজ বন্ধ রাখার কথা বলেছি।” প্রায় একই কথা বলছেন জাড়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্বদেশ পরামানিকও। তিনি বলেন, ” লিখিত অভিযোগ কেউ করেননি, কিন্তু আমি বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। কাজ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।” যদিও এতেও হেলদোল নেই অভিযুক্তদের। বাড়ির নয়া সদস্যর আবদার নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

- Advertisement -
Latest news
Related news