Monday, May 20, 2024

Midnapore TMC: গোঁজ আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চোরা স্রোতেই মেদিনীপুরে মনোনয়ন তৃনমূলের! দেখা মেলেনি নির্মাল্যর

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবদাদাতা: মেদিনীপুর পুর নির্বাচনে এক সাথে মনোনয়ন জমা দিতে পারলেন না তৃনমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা। শুধু তাই নয় এক জায়গা থেকেও মনোনয়ন জমা দিতে যেতে পারেননি তাঁরা। আর তারও চেয়ে বড় কথা একদল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বিধায়ক সঙ্গে থাকলেও অন্যদল মনোনয় জমা দেওয়ার সময় দেখা মেলেনি বিধায়কের।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
মঙ্গলবার

আবার তৃনমূলের এই দুই গোষ্ঠীর মনোনয়নের মাঝে গোঁজ প্রার্থীও গুঁজে দিয়ে গেলেন এক তৃনমূল নেতা। আর দুই দলেরই মনোনয়নে গরহাজির থাকলেন বিদ্রোহে আপাততঃ ক্ষান্ত দেওয়া তরুণ তুর্কি নেতা। সব মিলিয়ে মেদিনীপুর শহর তৃনমূলের ঐক্যবদ্ধ অথচ ফুটিফাটা চেহারাটা পরিস্কার হয়ে গেল মনোনয়নেই।

মেদিনীপুর পুরসভার লড়াইয়ে ২৫ টি আসনের মধ্যে মঙ্গলবার ১১জন তৃনমূল প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। অরবিন্দ স্টেডিয়াম লাগোয়া ফেডারেশন হল থেকে এই প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে যান।

বুধবার

নেতৃত্বে ছিলেন মেদিনীপুর বিধায়ক জুন মালিয়া এবং হালে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে আসা মেদিনীপুর পুরসভার প্রশাসক সৌমেন খান প্রমুখরা। মঙ্গলবারের মনোনয়নে দেখা মেলেনি মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজয় হাজরার।

বুধবার দ্বিতীয় দফায় ১৪ জন মনোনয়ন জমা দিতে গেলেন মেদিনীপুর শহরে অবস্থিত নান্নুর চক জেলা পার্টি অফিস থেকে। এখানে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেল সভাপতি সুজয় হাজরা, খড়গপুর গ্রামীনের বিধায়ক দীনেন রায়, শহরের প্রবীণ তৃনমূল নেতা আশিস চক্রবর্তী, বিশ্বনাথ পান্ডব প্রভৃতিদের। উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি বিধায়ক জুন মালিয়া কিংবা পুর প্রশাসক সৌমেন খানকে।

আবার এই দুই মনোনয়নেই হাজির থাকলেন না শহরের তরুণ তুর্কি যুব নেতা নির্মাল্য চক্রবর্তী। ২ নম্বর ওয়ার্ডের এই বিদায়ী কাউন্সিলরের স্ত্রীর নাম প্রথম তালিকায় থাকলেও দ্বিতীয় তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ক্ষুব্ধ যুব নেতা প্রথমে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে স্ত্রীকে দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নেন। দেওয়ালও লেখা হয়ে যায়। কিন্তু দলের নির্দেশে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন। সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করেন, দলের মতেই চলবেন তিনি। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রার্থীদের জেতানোর কাজে নামবেন। কিন্তু মঙ্গল কিংবা বুধ কোনও মনোনয়নেই দেখা মেলেনি অভিমানী যুব নেতার। দেখা মেলেনি শহরের লড়াকু নেতা গোপাল সাহা কিংবা প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান জিতেন্দ্র নাথ দাস।

এদিকে গোঁজ কাঁটাও মুক্ত হতে পারেনি তৃনমূল। ১৪নম্বর ওয়ার্ডে তৃনমূলের প্রার্থী তালিকায় প্রথমে নাম ছিল অর্পিতা রায় নায়কের। অর্পিতা ওই ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর বিশ্বনাথ বা বিশু নায়েকের স্ত্রী। বিশু নায়েক গত নির্বাচনে নির্দল হিসাবে জয়ী হন। সিপিএম, বিজেপি, তৃনমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করেই জয়ী হয়েছিলেন তিনি। পরে গোয়ালতোড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিয়ে তৃনমূলে যোগ দেন তিনি। আশা করেছিলেন দল তাঁকে প্রার্থী করবে। যদিও ওই আসনটি মহিলা সংরক্ষিত হয়ে যায়। সেই হিসাবে পিকের সুপারিশে তালিকায় নাম উঠেছিল তাঁর স্ত্রী অর্পিতার কিন্তু দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত সেই নাম বাদ দিয়ে প্রার্থী করা হয় সঙ্ঘমিত্রা পালকে। ক্ষুব্ধ বিশু নায়েক বুধবার নিজের স্ত্রীর নামেও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তৃনমূল রইল তৃনমূলেই।

- Advertisement -
Latest news
Related news