Sunday, April 14, 2024

Midnapore: পশ্চিম মেদিনীপুরের অজ গাঁয়ে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আর বাগানবাড়ি ! পার্থর সম্পত্তির খোঁজে পিংলাতেও কী আসতে পারে CBI

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার ক্ষীরিন্দা গ্রামের ভেতরে একটা আস্ত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল! সঙ্গে একটা বিলাসবহুল বাগানবাড়ি। দেখলে আপনার মাথা ঘুরিয়ে যাবে। ১৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা সেই স্কুলের মস্ত ঝাঁ চকচকে ঘড়ি বসানো টাওয়ার নজর পড়ে তিন চার কিলোমিটার দূর থেকেও। এক কালের উর্বর কৃষি জমিতে গড়ে ওঠা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নাম বিসিএম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। এই বিসিএম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বিসিএম শব্দটির অর্থ অনেকে বলেন বাবলি চ্যাটার্জি মেমোরিয়াল। এই বাবলি চ্যাটার্জি নাকি এসএসসি দুর্নীতিকান্ডে অভিযুক্ত রাজ্যের শিল্প মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াত স্ত্রী!

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

আদালত যখন শিল্পমন্ত্রীর স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির হলফনামা জমা দিতে বলছেন, যখন বিচারপতি বলছেন, কলকাতার নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পোষ্য কুকুরের জন্য ফ্ল্যাট রয়েছে। তখন পিংলার খিরিন্দা গ্রামের কিছু ব্যক্তির দাবি, এই ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও সংলগ্ন বাগানবাড়িটির মালিকেরও হদিস করুক সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা খোঁজ নিক এই কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক পার্থ চট্টোপাধ্যায় নাকি তাঁর কোনও আত্মীয়ের নামে তিনি এই বেনামি সম্পত্তির মালিক!

জানা গেছে খড়গপুর শহরের বারোবেটিয়া থেকে পূর্ব দিকে জামনা মুখী সড়কের ওপর দুজিপুর লাগোয়া এই খিরিন্দা গ্রাম, বারোবেটিয়া থেকে দূরত্ব মাত্র ১৬ কিলোমিটার। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে নোটবন্দি চলার সময় কারখানা গড়ার নাম করে এই জমি কেনা হয়েছিল। স্কুল আর বাগানবাড়ি গড়ে উঠেছে মোট ২৭ বিঘা জমির ওপর যার বাজার মূল্য ৪৫ কোটি টাকা। স্থানীয় জমি বিক্রেতাদের একাংশ বলেছেন, একটি কারখানা গড়ার নাম করে এই জমি কেনা হয়েছিল। নারায়ন দে নামে এক ব্যক্তি এই জমি জোগাড় করার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি প্রস্তাবিত কারখানায় জমিদাতাদের পরিবার প্রতি ২জনের চাকরি হবে এমন কথাও বলেছিলেন।

জানা গেছে, বিঘা প্রতি দেড় কোটি টাকা বাজার মূল্যে ওই জমি কেনা হয়েছিল। জমি দিয়েছিলেন মুক্তি ভঞ্জ, দুলাল দে, শক্তি ভঞ্জ, গৌতম হুই, কৃষ্ণচন্দ্র দে প্রমূখরা। তাঁরাও বলেছেন, কারখানা গড়ার নাম করেই এই জমি কেনাবেচা হয়। স্থানীয়দের মতে এই জমি পার্থ চট্টোপাধ্যায় কিনেছেন তাঁর মেয়ে এবং জামাইয়ের নামে। জামাইয়ের মামাবাড়ি নাকি এই এলাকাতেই। স্থানীয়দের বক্তব্য এই স্কুল থেকে আধ কিলোমিটার এবং ১ কিলোমিটার দূরে দুটি ফলের বাগান, এ.সি যুক্ত ছোট ছোট কটেজ রয়েছে। এগুলি দেখাশোনা করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামাইয়ের দুই মামা।

স্থানীয়দের আরও দাবি ওই দুই মামা নাকি এক সময় যজমানি করে সংসার চালাতেন কিন্তু এখন তাঁদের কপাল ফিরে গেছে। বাগানবাড়ি দুটি দেখভাল করা ছাড়াও কিছুটা দূরে গড়ে তুলেছেন প্রকান্ড ধানের গোলা। তাঁদের এখন এসইউভি গাড়ি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি তিন ফসলি চাষের জমিতে গড়ে ওঠা গ্রানাইট ও বিদেশি মার্বেলে মুড়ে দেওয়া সেই ইন্টারন্যাশনাল স্কুলটির মালিকানা খতিয়ে দেখুক সিবিআই। এতে SSC দুর্নীতির টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে বেশ কয়েকবার এখানে এসেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সিবিআই একবার খোঁজ করুক শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা।

- Advertisement -
Latest news
Related news