Sunday, April 14, 2024

Fraud letter name of CPM: পুরোটাই জালিয়াতি! আনন্দবাজারে প্রকাশিত চিঠির কেউ পশ্চিম মেদিনীপুরের স্কুলে চাকরি করেনা, জানালেন তৃনমূল নেতা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ১৪ বছর আগের একটা প্যাডে লেখা চিঠি ছেপে বাজারে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল আনন্দবাজার। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নাকি পাওয়া সিপিএমের সেই চাকরির সুপারিশ পত্র প্রকাশ করে দেখানোর চেষ্টা হয় তৃনমূলের মতই সিপিএম আমলে স্কুলে কেমন দুর্নীতি হত। যখন এসএসসি দুর্নীতি মামলায় শাসকদল তৃনমূল নাজেহাল তখন সিপিএমও যে কম যায়না হয়ত এটাই হয়ত প্রমাণের উদ্দেশ্য ছিল কিন্তু ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তাতে জল ঢেলে দিয়ে ওই স্কুলেরই স্থানীয় তৃনমূল নেতা জানিয়ে দিলেন ওই নামে সংশ্লিষ্ট স্কুলে কেউ চাকরি করেনা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

কী লেখা ছিল ওই চিঠিতে? লাল কালির লেটার হেডে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) পাচরা লোকাল কমিটির প্যাডে ২০০৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর জনৈক খগেন্দ্রনাথ মাহাতোর উদ্দেশ্যে লেখা ‘ মাননীয় কমরেড, আমি শ্রী মোহিতলাল হাজরা গ্রাম পালজাগুল পোস্ট জাগুল জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর জানি ও চিনি। এবং খুব দুঃস্থ পরিবারের ছেলে। বামপন্থী আন্দোলনের সাথে যুক্ত। একে আপনার কাছে পাঠালাম। ধেড়ুয়া অঞ্চল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গ্রুপ ডি পদে যে লোক নেওয়া হবে, সেই বিষয়ে যাহাতে একে নেওয়া যায়, তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে অনুরোধ করছি। পরে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করে নেব।’ নীচে প্রেরকের নাম লেখা জয়জীম আহাম্মদ।

আনন্দবাজারের ওই ‘এক্সক্লুসিভ চিঠি’ বাজারে নামার পরই সিপিএম জানিয়েছিল, “পুরো জালিয়াতি। কারন চিঠিতে দু’রকম কালি ব্যবহার করা হয়েছে, একবার বাংলায় আরেকবার ইংরেজিতে তারিখ ব্যবহার করা হয়েছে। সিপিএম আরও জানিয়েছিল, চিঠিতে ‘মাননীয় কমরেড’ কথাটা ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু সিপিএমের চিঠিতে মাননীয় সম্বোধনের রেওয়াজই নেই।” সিপিএমও আরও বলে, “সিপিএমের তরফে জানানো হয়, ওই চিঠি দলের কেউ দেয়নি। তাদের যুক্তি, চিঠিতে যাঁর নামে স্বাক্ষর রয়েছে, তাঁর পদে কোনও উল্লেখ নেই।”

আনন্দবাজার নিজেও কোনও সত্যাসত্য যাচাই করেনি। কথা বলার চেষ্টাও করেনি যাকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে, যে চিঠি দিচ্ছে এবং যার হয়ে চিঠি দিচ্ছে তাঁদের কারোরই সঙ্গে। হয়ত খুব তাড়া ছিল। বরং আনন্দবাজার কথা বলেছে সরাসরি বিজেপি আর তৃনমূলের সঙ্গে। বলাবাহুল্য চাকরির সুপারিশ চিঠি লুফে নিয়েছে তৃনমূল আর বিজেপি। নিজেদের দুর্নীতি নিয়ে নাস্তানাবুদ তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজয় হাজরা যেন ঝড়ের মধ্যে হাল খুঁজে পেয়েছিলেন আনন্দবাজাররের ওই আবিষ্কার হাতের কাছে পেয়ে। বলেছিলেন , ‘‘ সিপিএম কী করেছিল, সেটা সকলেরই জানা। এ ভাবেই চাকরি হত। যে ২৬৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তাতে বাম নেতাদের পরিবারের সদস্যেরা রয়েছেন।’’ অন্য দিকে, সিপিএম ও তৃণমূলকে একযোগে কটাক্ষ করে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অরূপ দাস বলেন, ‘‘তৃণমূল আর সিপিএম মুদ্রার এ পিঠ-ও পিঠ। এতে মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।’’

কিন্তু পুরো বেলুনটা ফুটো করে দিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ধেরুয়া অঞ্চল তৃণমূলের উপপ্রধান কাজল সিংহ। সংবাদ পরিবেশনের নূন্যতম শর্ত মেনে ওই চিঠি নিয়ে খবর করার আগে আনন্দবাজারের উচিৎ ছিল সেই স্কুলে খোঁজ নেওয়া, জানা যে সত্যি সত্যি ওই নামে স্কুলে কেউ কাজ করেন কিনা? তবে খোঁজ নিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা কাজল সিংহ। তাঁরই এলাকার মধ্যে পড়ে ওই স্কুল। কাজল সিংহ বলেন, ‘‘ ভিত্তিহীন খবর। খবর কাগজে পড়ার পর ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গেও কথা বলেছিলাম । উনি জানালেন মোহিতলাল হাজরা নামে কেউ ওই স্কুলে কাজ করেন না।’’

- Advertisement -
Latest news
Related news