Saturday, April 20, 2024

TMC: পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃনমূলের গোষ্ঠী কোন্দল! বন্টনের আগেই অফিস থেকেই মিনি কীট লুটের অভিযোগ বিধায়ক অনুগামীদের বিরুদ্ধে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: দুঃস্থ কৃষকদের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন শস্যের মিনী কিট লুট করার অভিযোগ আনলেন পঞ্চায়েত প্রধান আর সেই অভিযোগ আনলেন নিজেরই দলের পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। গোটা ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়নগড় ব্লক এলাকায়। এমনিতেই নারায়নগড় বরাবরই তৃনমূলের দুটি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে দু’ভাগ হয়ে রয়েছে। তারই মধ্যে নতুন করে এই ঘটনায় আরও একবার প্রকট হয়ে উঠল সেই দ্বন্দ্ব। ঘটনার পরপরই এলাকায় গিয়ে পৌঁছায় পুলিশ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

ঘটনা নারায়নগড় পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত কুনারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রঞ্জিত সাহু নারায়নগড় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন শুক্রবার। রঞ্জিত সাহু বলেছেন, ” সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন আহিরা সংসদের পঞ্চায়েত সদস্য কিঙ্কর গায়েন সহ বেশ কয়েকজন গ্রামপঞ্চায়েতের কার্যালয় থেকে মিনি কীটের প্যাকেট তুলে একটি টোটোতে করে নিয়ে চলে যায়। লুট হওয়া মিনি কীট গুলি হল ১৬০ কেজি বাদশাভোগ ধানের বীজ, ৬৪ কেজি গোবিন্দভোগ ধানের বীজ, ১৮০কেজি ভুট্টা দানার বীজ, ২১০কেজি বাদাম বীজ, অড়হর ডাল শস্য ইত্যাদি বীজ।” সাহু জানান, “কুনারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ১০০জন দুঃস্থ কৃষককে ওই বীজ বিলি করার জন্য কৃষিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। আগামী সোমবার কৃষকদের পঞ্চায়েত অফিসে আসার জন্য বলা হয়েছিল তার আগেই এই ঘটনা।”

প্রধান এই লুটের ঘটনায় কিঙ্কর গায়েন সহ মোট ৯ জনের নামে নারায়নগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এঁরা হলেন, মদনমোহন মিদ্যা, মদন নায়েক, রাধাকান্ত বেরা, অমূল্য টুডু, শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, শক্তি পাত্র, সুকদেব জিৎ, লক্ষীকান্ত বেরা। কিঙ্কর গায়েন এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ” গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিজেপির লোক। তিনি তাঁর মনোনীত লোকেদেরই ওই মিনিকীট পাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। আমাদের কাছে খবর আছে ইতিমধ্যেই প্রধান কয়েকজনকে ওই মিনিকীট দিয়ে দিয়েছেন। বাকি মিনিকীটও নিজেদের লোককে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার আগেই আমরা ওটা তুলে এনেছি। আগামী সোমবার আমরাই ওই মিনিকীট উপযুক্ত কৃষকদের হাতে তুলে দেব। আমি বিষয়টি বিধায়ক, বিডিও ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জানিয়ে দিয়েছি।”

প্রধান অবশ্য বলেছেন, “আমি কেন কুনারপুর গ্রাম সংসদের ১১জন সদস্যের কেউই বিজেপির লোক নই। তৃনমূল কংগ্রেসের হয়েই জিতেছি আর দলই আমাকে প্রধান করেছে। ওই মিনিকীট আমার বিতরণের কথাই নয়। আমাদের নোটিসে বলাই হয়েছে আগামী সোমবার ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা ওই বীজ বিতরণ করবেন। এটা গায়ের জোরে সরকারি অফিস থেকে লুট হয়েছে। আমরা আইনের কাছে অভিযোগ করেছি। এরপর আইন যা করার করবে।” এদিকে কিঙ্কর গায়েন যে বিধায়কের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি নারায়নগড় এলাকার বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট। নারায়নগড় ব্লক তৃনমূল কংগ্রেস বর্তমানে সূর্যকান্ত অট্ট বনাম ব্লক সভাপতি মিহির চন্দ গোষ্ঠীতে বিভাজিত। জানা গেছে এই কুনারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সূর্যকান্ত গোষ্ঠীর প্রতিপত্তি তেমন নেই।

গ্রামপঞ্চায়েতের মিহির গোষ্ঠীর এক নেতার কথায়, যেহেতু এলাকায় সূর্যবাবুর তেমন প্রতিপত্তি নেই তাই তাঁর অনুগামী কিঙ্কর গায়েন এই সব করছে যাতে মানুষ ভয় পেয়ে, সুযোগ সুবিধা পেয়ে সূর্যবাবুর দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু কিঙ্কর গায়েনের এই কার্যকলাপের ফলে মানুষ আরও বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ছেন। ইতিপূর্বেও কিঙ্কর গায়েনকে স্থানীয় বিদ্যালয়ের মাথায় বসানোর চেষ্টা হয়েছিল কিন্ত মানুষ তা প্রত্যাখান করেছে। এবারও তাই হবে।

- Advertisement -
Latest news
Related news