Saturday, April 20, 2024

Garbeta Murder: গড়বেতায় প্রতিবাদী কৃষককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ তৃনমূল নেতাকে খুঁটিতে বেঁধে পেটালো গ্রামবাসীরা! গ্রেফতার ৩ তৃণমূল নেতা কর্মী

- Advertisement -spot_imgspot_img
মৃত কৃষকের মা

নিজস্ব সংবাদদাতা: এলাকায় জুয়া খেলার প্রতিবাদ এক কৃষককে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা থানার সাঁইনাড়া গ্রাম। অভিযুক্ত এক তৃনমূল নেতাকে খুঁটিতে বেঁধে ব্যাপক মারধর করার পাশাপাশি আরেক নেতার ঘরেও চড়াও হয় গ্রামবাসীরা। উত্তেজিত গ্রামবাসীদের জনরোষ থেকে তৃনমূলের ওই নেতাদের উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পরে ৩ তৃনমূল নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে মৃত ব্যক্তির নাম হরিপদ হাজারী। ৪৭ বছরের ওই কৃষককে একটি অনুষ্ঠানস্থল থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে চেলা কাঠ দিয়ে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ হাজারীর পরিবারের।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
বেঁধে রাখা হয়েছে তৃনমূল নেতাকে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সাঁইনাড়া গ্রামে একটি হরিনাম সংকীর্তনের অনুষ্ঠান হচ্ছিল। প্রচুর লোক সমাগম হয়। আশেপাশের গ্রামগুলি থেকেও লোকজন আসেন এখানে। আর সেই ফায়দা তোলার জন্যই ওই অনুষ্ঠান স্থল থেকে কিছুটা দূরে জুয়ার আসর বসানো হয়। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ মেলা কিংবা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মদ এবং জুয়ার আসর বসানো একটা রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং এর জন্য জুয়া কারবারিরা মোটা টাকার বিনিময়ে তৃনমূল নেতাদের প্রশ্রয় পায়। এই জুয়ার আসর বসানো নিয়েই গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়। পরস্পর বচসায় জড়িয়ে পড়ে নিহত হরিপদ হাজারী ও স্থানীয় কয়েকজন তৃনমূল নেতা কর্মী যাঁদের মধ্যে ছিলেন সাঁইনাড়া বুথের তৃণমূলের সভাপতি অরূপ ঘোষের ভাই দিলীপ ঘোষ, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা দিপালী মহাদন্ডের স্বামী প্রশান্ত মহাদন্ড, তৃনমূল কর্মী সুকুমার সেন সহ আরও কয়েকজন।

অভিযোগ রাত ১১টা নাগাদ বচসা চলার সময় হরিপদকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ফাঁকা জায়গায় তারপর তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর হরিপদ নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাঁকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি গাছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে হরিপদর কোনও খোঁজ পাচ্ছিলনা তাঁর পরিবার। প্রায় মধ্যরাতে কানাঘুষা ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। জানতে পারে হাজারীর পরিবারও। কীর্তনকে কেন্দ্র করে জুয়া বসানো নিয়ে আপত্তি ছিল গ্রামবাসীদের কিন্তু মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাত ঘনিষ্ঠ আবার সভাপতির ভাই, পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী ইত্যাদি কারণে মুখ খুলতে পারছিলনা গ্রামের মানুষ। পিটিয়ে মারার ঘটনা চাউর হতেই আগুনে ঘি পড়ে। রাতেই একত্রিত হয় গ্রামবাসীরা। ঘিরে রাখে অভিযুক্তদের বাড়ি।

তৃনমূল নেতার ঘর ঘিরে জনতা ও পুলিশ

শুক্রবার সকালে আরও মানুষ জড়ো হয় ওই তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ঘেরার জন্য। কিন্তু তারই মধ্যে পালাতে সক্ষম হয় কয়েকজন অভিযুক্ত। পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামী প্রসান্ত মহাদন্ডকে বাড়ি থেকে ধরে এনে গ্রামবাসীরা গামছা দিয়ে বেঁধে রাখে। কেউ কেউ দু’এক ঘা মারেও। কিন্তু খবর পেয়ে পুলিশ চলে আসে এবং উদ্ধার করে ওই নেতাকে নিয়ে যায় থানায়। তৃণমূল নেতাদের ঘর বাড়ি যাতে না ভাঙচুর হয় তাই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘিরে রাখে। জনতাকে পুলিশ আশ্বস্ত করে ধরা হবে অভিযুক্তদের। উত্তেজনা এড়াতে গ্রামে বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট। মৃত ব্যাক্তির দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে খুন হয়ে যাওয়া ব্যাক্তির স্ত্রী অসীমা হাজারী, ছেলে শুকচাঁদ হাজারী বলেন আমরা নির্দিষ্ট ভাবে তৃনমূল সভাপতি ও তার ভাই সহ ৪জনের নামে গড়বেতা থানার চন্দ্রকোনারোড ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা বাবা কে ওরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। এখন ফাঁসির গল্প চাপানো হচ্ছে।” গ্রামবাসীদের অভিযোগ এলাকায় ৩টি জুয়ার আসর বসিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা জুয়ার মালিকদের কাছে নিয়েছে ওই নেতারা। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে এখানে অবধি পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী, সভাপতির ভাই সহ ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে নাম উঠে আসবে এমন কাউকেই ছাড়া হবেনা।

- Advertisement -
Latest news
Related news