Tuesday, April 16, 2024

Midnapore: ‘অমৃতলোকে’ শিক্ষক অমলেন্দু শেখর! সবংয়ের বিজ্ঞান আন্দোলনের পথিকৃৎ প্রয়ানে শোকাহত গুনমুগ্ধরা

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধান: মানুষ শুধু জীবিত অবস্থাতেই মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যেতে পারে এমনটা নয়, মানুষ তাঁর মৃত্যুর পরও মানব কল্যানে কাজ করতে পারে। এমন কথাই ছাত্রছাত্রীদের বলতেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার অন্তর্গত মালপাড় উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অমলেন্দু শেখর মন্ডল। আমৃত্যু বিজ্ঞান মনস্ক, যুক্তিবাদী মানুষটির এই কথা শুনে অবাক হতেন তাঁর গুনমুগ্ধরা। ভাবতেন তা কী করে হয়? মৃত্যুর পর মানুষ মানুষের কোন কাজে লাগে। অমলেন্দু শেখর বলতেন, “যদি মানুষ মৃত্যুর পর তাঁর দেহটি চিকিৎসাবিদ্যার জন্য দান করার অঙ্গীকার করে যান। তবে মৃত্যুর পর সেই দেহটি পরীক্ষা করে মানবদেহের অনেক রহস্য খুঁজে বের করতে পারেন বিজ্ঞানীরা। এতে ভবিষ্যতে মানবজাতির উপকার হয়।’ শুধু কথার কথা নয় নিজেও তিনি মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করে গিয়েছিলেন। সোমবার তাঁর প্রায়নেরর পর পরিবারের সদস্যরা সেই দেহ তুলে দিয়েছেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছে এই প্রাক্তন শিক্ষক অমলেন্দু শেখর মন্ডলের। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সবংয়ের মালপাড় উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যলয়ের কর্মশিক্ষা বিভাবে নিয়োগ হয়েছিলেন কিন্তু তিনি ইংরেজী এবং বিজ্ঞান বিষয়ে ছিল তাঁর অসীম দক্ষতা। বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের তাই অনায়াসে পাঠ দিতেন ওই দুই বিষয়ে। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিজ্ঞান মঞ্চের সবং বিজ্ঞান কেন্দ্রের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ছিলেন। সবংয়ের মত গ্রামীণ এলাকায় বিজ্ঞান চর্চার পাশাপাশি কু-সংস্কার মুক্তির আন্দোলনেও নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন আজীবন। মৃত্যুর পরেই তাঁর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়েই পরিবারের সদস্যরা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি টিম পাঠান। বিশেষজ্ঞ ওই দলটি এসে প্রয়াত শিক্ষকের মৃতদেহ সংগ্ৰহ করে নিয়ে যান।

দেশজুড়ে অসংখ্য গুণমুগ্ধ, কৃতি ছাত্রছাত্রী রয়েছে তাঁর। প্রিয় শিক্ষকের প্রয়ানে তাঁরা শোকাহত। তাঁরই ছাত্র আইআইটি কানপুরের অধ্যাপক ডঃ শক্তিপদ ঘোড়ই, জেলার কৃতি চিকিৎসক ডাক্তার যুগল কর যেমন রয়েছেন তেমনই ওই স্কুলেরই শিক্ষক দেবব্রত ভৌমিক অমলেন্দু শেখরেরই ছাত্র। মালপাড় স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র লক্ষ্মীকান্ত মেইকাপ বলেন, ‘এমন সহজ সরল মানুষ ছিলেন ভাবা যায় না, আমরা যখন স্কুলে পড়তে আসতাম বাড়ির বাবার মতো স্নেহ করে পড়াতেন তিনি আরও আমার প্র‍থম শিক্ষাগুরু আমার বাবা মা তার পরই উনাকে শিক্ষাগুরু হিসাবে মানতাম তাইতো উনার শিক্ষায় আজ আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।’ তিনি আরও বলেন শিক্ষার পাশাপাশি অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতেন, কোন মানুষ বিপদে পড়লে উনি এগিয়ে যেতেন কান্না সুরে বলেন সত্যিই ভাবতে পারছিনা স্যার আজ আর আমাদের মধ্যে নেই তবে যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।

- Advertisement -
Latest news
Related news