Saturday, April 20, 2024

Midnapore: মাওবাদীদের সেই মৃত্যু বৃত্তেই ‘মাইন’! পোস্টারের গুরুত্ব উড়িয়ে দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ভারী বুটের শব্দে কাঁপল জঙ্গলমহল

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২৪ ঘন্টা আগে মিলেছিল পোস্টার। জঙ্গলমহল তথা জেলার এক বৃহৎ ঠিকাদারকে বালি মাফিয়া বলে দেগে তাঁকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার ‘মাওবাদী’ হুঁশিয়ারিকে ‘গুরুত্ব দিচ্ছিনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল পুলিশ। ২৪ ঘন্টা পের হলনা, এবার সেই পুলিশকেই দেখা গেল রনসজ্জা পরে ছুটে যেতে জঙ্গলমহলে। বৃহস্পতিবার ১৭ই মার্চ, প্রায় এক যুগ পর ফের পুলিশের ত্রস্ত ভারী বুটের শব্দে কেঁপে উঠল জঙ্গলমহলের সাবেক ‘মৃত্যু বৃত্ত’ বা এরিয়া অফ ডমিনেসন! যা ফিরিয়ে এনেছে ২০০৮-২০১১ জুড়ে জঙ্গলমহলের মাওবাদী আতঙ্কের স্মৃতিকে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

বৃহস্পতিবার সাত সকালেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের কাছে খবর পৌঁছে যায় যে শালবনী থানার পিড়াকাটা- গোয়ালতোড় রাজ্য সড়কের মধ্যবর্তী রঞ্জা বনদপ্তরের অন্তর্গত এলাকার একটি কালভার্ট থেকে উঁকি দিচ্ছে সন্দেহ ভাজন বস্তু। প্রায় চার ইঞ্চি ব্যাসের, ফুট খানেক দৈর্ঘ্যের সেই জি.আই. পাইপটির দুটি মুখই ইস্পাতের চাদর দিয়ে ওয়েল্ডিং করে জোড়া লাগানো। ঘর পোড়া গরু স্থানীয় বাসিন্দারা ‘মাইন’য়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েই খবর পাঠান স্থানীয় পুলিশের কাছে। সেখান থেকেই খবর পৌঁছায় জেলা সদরে। এরপরই ঝাঁকে ঝাঁকে পুলিশ আধিকারিকরা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। আসে বোম্ব স্কোয়াডের সদস্যরাও। সতর্কতার সঙ্গে বস্তুটি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় নিরাপদ দূরত্বে। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয় বস্তুটিকে।

যদিও বিষয়টি ল্যান্ডমাইন কী না এই নিয়ে দুপুর অবধি পুলিশের তরফে কোনও সরকারি ভাষ্য দেওয়া হয়নি। সাধারণভাবে জঙ্গলমহলে এতদিন যাবৎ এই ধরনের যে বস্তু মিলেছে তা ডিরেকশনাল মাইন বা আই.ই.ডি বলেই পরিচিত। ২০০৮ সালে শালবনী থানার কলাইচন্ডী খালের সেতুর পাশে মাওবাদীরা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে নিশানা করে যে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ছিলেন সেখানেই প্রথম মিলেছিল এই ধরনের মাইনের ব্যবহার। সময়ের ভুলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রক্ষা পেলেও আহত হয়েছিলেন একটি পাইলট ভ্যানের বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী। তারপর থেকে জঙ্গলমহলে আকছার ব্যবহৃত হয়েছে ডিরেকশনাল মাইন। যদিও বৃহস্পতিবার রঞ্জার জঙ্গলে উদ্ধার হওয়া বস্তুটি কিছুটা ডিরেকশনাল মাইনের মত দেখতে হলেও একটি মুলগত পার্থক্যও নজরে পড়েছে পুলিশের। পুলিশের এক আধিকারিক বলেছেন, ডিরেকশনাল মাইনের দুটি মুখ ইস্পাতের চাদরে মোড়া থাকেনা। একটি মুখ খোলা থাকে এবং সেই অংশ দিয়েই বিস্ফোরক ঠাসা হয়। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকেই তাক করে রাখা হয় ওই খোলামুখের অংশ। যাতে বিস্ফোরণের সময় ওই অংশ দিয়েই লক্ষ্যের দিকে স্প্লিনটার ধাবিত হয়। এক্ষেত্রে দুটি মুখই ঝালাই করা ছিল। ফলে এটি মাইন নাকি সকেট বোমা জাতীয় কিছু অথবা নেহাৎই বিভ্রম তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনা যাইহোক না কেন বুধবার লালগড় থানার পাথরডাঙায় পাওয়া পোস্টার পাওয়াকে গুরুত্ব দেয়নি ঝাড়গ্রাম পুলিশ কিন্ত বৃহস্পতিবার শালবনীর যে রঞ্জার জঙ্গলে সন্দেহভাজন বস্তুটি পাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুলিশ কর্তাদের মধ্যে। যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে বিষয়টিকে। পোস্টার আর মাইন মিলেছে একদা মাওবাদীদের তৈরি করা মৃত্যু উপত্যকায়। দুটি জায়গার মধ্যে দূরত্ব ২০কিলোমিটারের মত। শতাধিক মানুষ খুনের পাশাপাশি লুট তরাজ, অগ্নিসংযোগ, পুলিশ ফাঁড়ির দখল নেওয়ার পাশাপাশি পিড়াকাটা থেকে গোয়ালতোড় হয়ে পিংবনী, লালগড় হয়ে ফের পিড়াকাটা এই বৃত্তে একদা পুলিশ ঢোকাও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। করতে দেওয়া হয়নি নির্বাচন। ২০০৯ সালে যৌথবাহিনী এই মৃত্যু উপত্যকার দখল অভিযান শুরু করে যার নাম ছিল এরিয়া ডোমিনেসন। ১৪ বছর পর ফের চাঞ্চল্য সেই এলাকায়।

সন্ধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার জানিয়েছেন, ‘ আপাততঃ বস্তুটিকে ক্ষতিকারক কিছু নয় বলেই মনে হয়েছে। বস্তুটিকে নিষ্ক্রিয় করে তার নমুনা পাঠানো হয়েছে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য। তবে আইইডির মত করে ওই বস্তুটি রেখে পুলিশ ও প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করা ও এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য অজ্ঞাত পরিচয় দুস্কৃতিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

- Advertisement -
Latest news
Related news