Monday, May 20, 2024

Kharagpur poll :জো জিতা ওহি সিকন্দর! খড়গপুরে জয়া তেই জহর খুঁজছেন বহু তৃণমূল সমর্থক ! ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে এখনও দূরে অফিসিয়াল তৃনমূল

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও যে সত্যিটা তৃনমূলকে মানতেই হবে তা’হল খড়গপুর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে লড়াই থেকে অনেকদূরেই আছে অফিসিয়াল তৃনমূল কংগ্রেস। ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী জয়া পালকে বহিস্কার করেছে দল। বৃহস্পতিবার তেমনটাই ঘোষণা করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃনমূল। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসেনা তৃনমূল সমর্থক জনতার।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
জয়ার বাহিনী, প্রচারে নামার আগে

তালবাগিচার হাসপাতাল ময়দান কিংবা তালবাগিচা বাজারে তৃনমূল সমর্থকদের একটাই কথা, ভোট তো আর জয়া পালকে দেবনা, ভোট দেব জহর পালকে। তারপর ভোটে জিতিয়ে জয়া পালকে ফের দলে ফেরাবো? একেবারে হক কথা, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্তরা দলে ফিরতে পারে আর জয়া পাল ফিরতে পারেনা? আসল কথা, ভোটে জেতা। আর সেটা জিততেই মরিয়া হয়ে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন জয়ার সঙ্গীরা।

৩৫ নম্বরে লড়াই অন্যরকম। এখানে কেউই বিপক্ষের ভোটে থাবা বসানোর জায়গাতে নেই। বরং সবার লক্ষ্য নিজের ভোটকে ধরে রাখা। তৃনমূল, বিজেপি, সিপিএম সব্বাই নিজের ভোট ধরে রাখতে পারলেই অনেক বলে করছে দলীয় কর্মীরা কিন্তু সবারই জন্য সমস্যা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অন্য তিন নির্দল। গত বিধানসভার নিরীখে বিচার করলে সিপিএমের বেশ কিছু ভোট যাচ্ছে আমরা বামপন্থীদের ঘরে। তৃনমূলের সিংহভাগ ভোট যাচ্ছে জয়া পালের ঘরে আর বিজেপির কিছুটা হলেও ভোট যাচ্ছে বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃত প্রার্থীর ঘরে। কিন্তু সব চেয়ে বড় ভোট চলে যাচ্ছে অফিসিয়াল তৃনমূল প্রার্থী কবিতা দেবনাথের কাছ থেকেই। কারন এখানে তৃনমূলের ভোটের অর্থ জহর পালের ভোট, কাকার ভোট। গত ২২বছর এই এলাকায় কাকা দলের হয়ে যে ভোট ব্যাঙ্ক ও কর্মী বাহিনী তৈরি করেছেন তা মাইনাস কাকা তৃনমূলের নয়। ঝান্ডা দেখে ভোট দেওয়া তৃনমূল সমর্থকদের সংখ্যা তালবাগিচা এলাকায় বেশ ভালো রকমেরই কম। সেই কম টুকুই ভরসা অফিসিয়াল প্রার্থী কবিতা দেবনাথের।

মোট চার জায়গায় কেন্দ্রীয় অফিস করে দিনরাতের প্রচারে নেমেছেন জয়া পালের কর্মীবাহিনী। ২৫০ জনের ব্যাটেলিয়ানের ২০০ জনই ফুল আ্যক্টিভ, সার্বক্ষনের কর্মীর মত লড়ছেন। তার মধ্যে আবার ১৫০ জনের বেশিই মহিলা। জয়া পালের চারটি কার্যালয় দক্ষিণপাড়া বাঁশতলা, অশনিসঙ্ঘ , বঙ্গবানি, তালবাগিচা বাজার থেকে সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি যাওয়া। চলছে রাত ৯টা অবধি। মাঝখানে ঘন্টা খানেক খাওয়া দাওয়ার বিরতি। যদিও নিজেদের কৌশল বলতে নারাজ এরা তবুও জানা গেছে তালবাগিচা এলাকার ৬ টি ক্লাবের অধিকাংশ সদস্যকে নামাতে পেরেছেন তাঁরা। এখনও অবধি লড়াই থেকে অনেক দূরে রাখতে পেরেছেন অফিসিয়াল তৃনমূল কংগ্রেস।

জয়া পালের কর্মীদের একটা বড় প্লাস পয়েন্ট যে আতিমারী করোনার সময়ে তালবাগিচার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে তৃনমূলের তরফে গনভোজন সহ যে বিভিন্ন কর্মসূচী নেওয়া হয়েছিল তার বেশিরভাগেরই সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই কর্মীরা। ফলে চেনা মুখ এখন চেনা পরিবারে অবলীলায় ঢুকে যেতে পারছেন। কর্মী সংখ্যার বড় অংশ মহিলা হওয়ায় ঢুকে পড়ছেন অন্দর মহল অবধি। আলাপ আলোচনার পাশাপাশি ক্ষোভ বিক্ষোভ কিছু থাকলে তা জেনে নেওয়া হচ্ছে। পরে একটা আলাদা টিম গিয়ে সেই ক্ষোভ বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনা করে নিচ্ছেন।

জয়া পালের কর্মীরা বুঝে গিয়েছেন, এই নির্বাচনে জো জিতা ওহি সিকন্দর। জিতলেই আদর করে ঘরে ফেরাবে দল। এমনটা মানছে তৃনমূলের জেলা নেতারাও। খড়গপুরে নিশ্চিতভাবে হাং মিউনিসিপ্যালিটি হতে চলেছে। কেউই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জায়গায় নেই কিন্তু আসন বেশি পেতে পারে তৃনমূলই। সেক্ষেত্রে তৃনমূলের বাইরের সমর্থন চাই। আর সেটা চাইতে হলে আগে তো নিজেদের বিক্ষুব্ধদের কাছেই চাইতে হবে। তাই তাঁদের একটাই শ্লোগান, ‘ভোটে জেত, ঘরে ফের!’ ততৃনমূল কিন্তু কোথাও বলেনি যে তারা বোর্ড করতে বিক্ষুব্ধদের সমর্থন নেবেনা। বরং কলকাতা পুরভোটে দেখা গিয়েছে ভোটে জেতার পরই বিক্ষুব্ধদের বুকে টেনে নিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। তাই সিকান্দার হওয়ার লড়াইয়ে জয়া পালরা।

- Advertisement -
Latest news
Related news