Friday, April 19, 2024

Haldia B.C.Roy Hospital: হলদিয়ার বি.সি.রায় হাসপাতালে রিকশাওয়ালার হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন! দেড়লক্ষ টাকার অপারেশন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেই

- Advertisement -spot_imgspot_img

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

নিজস্ব সংবাদদাতা: অঙ্গ প্রতিস্থাপনে এবার নজির গড়ল হলদিয়ার বিধানচন্দ্র রায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (ICARE INSTITUTE OF MEDICAL SCIENCE AND RESEARCH & DR. B. C. ROY HOSPITAL)। করোনা কালে সাধারণ মানুষের সাহারা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই বেসরকারি অত্যাধুনিক হাসপাতালটি। সরকারের নিয়ম মেনেই তখন আইসিইউ, এইচডিইউ ইত্যাদি পরিষেবা দিয়েছিল। এবার অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মত একটি জটিল অস্ত্রপচারের কাজ সাফল্যের সঙ্গে করে দেখালেন এখানকার অধ্যাপক ও চিকিৎসকরা যা নতুন করে আশার আলো দেখালো হলদিয়াবাসীকে। কারন এই অপারেশনটি হয়েছে সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে এবং যার সুবিধা লাভ করেছেন একজন রিকশাওয়ালা। মঙ্গলবার ওই হাসপাতালে কৃত্রিম অঙ্গের মাধ্যমে হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে
রিকশাওয়ালা তথা দিন মজুর বাগম্বর মাইতির।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে জটিল এবং ব্যয়বহুল এই অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে যে কারনে বাগম্বর মাইতির যেমন এক পয়সাও খরচ হয়নি ঠিক তেমনই মাইতি এই পরিষেবা পেয়েছেন নিজের শহরের মধ্যেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হয়ত স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে এই অস্ত্রপচার তমলুকেও করা যেত কিন্তু তারজন্য বাগম্বর মাইতিকে ৬০ কিলোমিটার উজান বাইতে হত। একজন যন্ত্রনাক্লিষ্ট মানুষের পক্ষে সেটা হত আরও যন্ত্রনার এবং যাতায়াতের ব্যয় স্বাপেক্ষও বটে। সবচেয়ে বড় কথা বন্দর শহরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মত পরিকাঠামো ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক যে আছে এই ভরসা হলদিয়াবাসীকে জোগালো এই ঘটনা। জানা গেছে প্রায় দু ঘন্টা অস্ত্রোপ্রচারের মধ্য দিয়ে হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করতে সফল হন হাসপাতালের অস্থি বিশেষজ্ঞ সৌম্য ঘোষ তাঁর মেডিক্যাল টিম। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই রোগী উঠে দাঁড়াতে পারবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ঘোষ। হলদিয়া পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের রায়রাঞ্যাচকের বাসিন্দা, রোগী বছর পঁয়ষট্টির বাগম্বর মাইতিও আশ্বস্ত যে যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পেয়ে আবারও তিনি স্বাভাবিক হাঁটা চলা করতে পারবেন।

মাইতির পরিবার জানিয়েছে, গত ৯ জুলাই রিকশা নিয়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে চা খেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই বাড়ি ফেরার পথে ষাঁড়ের আক্রমণের শিকার হন। কোমরের হিপ জয়েন্ট ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিক হাঁটাচলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। ভর্তি করা হয় ওই বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, রোগীকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। কিন্তু সেই জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা ছিল না তাঁর কাছে। রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে জানার পর বাগম্বরবাবুর চিকিৎসা করতে রাজি হয়ে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বি.সি. রায় হাসপাতালের সুপার বিধান রায় বলেন, ‘এই অস্ত্রোপ্রচার খুবই ব্যয়বহুল, প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হত। কিন্তু স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে।’ এই ঘটনা হলদিয়াতে প্রথম বলেও দাবি করেছেন তিনি। সফল অস্ত্রোপ্রচারের পর বাগম্বরবাবুর ছেলে খোকন মাইতি বলেন, ‘ গত কয়েক দিন ধরে বাবা যে কি পরিমাণ কষ্ট পেয়েছেন তা আমি জানি। দিনমজুরি করে খেটে খাওয়া পরিবারের সদস্য আমরা।অভাবের সংসার বাবার চিকিৎসা কি করে করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পুরো চিকিৎসা হয়েছে। বাবা সুস্থ হয়ে উঠবেন জেনে খুব ভাল লাগছে। সব চেয়ে বড় কথা আমরা আমাদের হলদিয়াতেই এই অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম হয়েছি এই বি.সি রায় হাসপাতালের জন্য।’ খোকন মাইতি আরও বলেন, ” এই বেসরকারি হাসপাতালের বিশাল ইমারত আর আর পরিকাঠামো দেখে ভাবতাম এটা ধনীদের হাসপাতাল। কিন্তু এখানে যে সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে আমাদের মত গরিব পরিবারের মানুষজনও চিকিৎসা করাতে এমনকি এমন ব্যয়বহুল অপারেশন করতেও পারে তা জানা ছিলনা। ধন্যবাদ বি.সি. রায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারবাবুদের।”

 

 

- Advertisement -
Latest news
Related news