Tuesday, April 16, 2024

Kharagpur: ২ কিলোমিটারেই ‘জিনা হারাম’ খড়গপুরের গ্রামের! অবরোধের পর তালা পড়ল পঞ্চায়েত অফিসে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাত্র ২কিলোমিটার গেলেই রাজ্যসড়ক  কিন্তু ওই দু’কিলোমিটার পথ ভাঙতেই যেন ‘জিনা হারাম’ হয়ে যায় দুই গ্রামের। বর্ষাকাল তো দুরের কথা, সাধারণ সময়েই ঢুকতে চায়না চারচাকা গাড়ি। ফলে রোগী অথবা প্রসূতিকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে কালঘাম ছুটে যায় দুই গাঁয়ের বাসিন্দাদের। আদ্দিকালের মোরাম বেছানো রাস্তা থেকে অনেকদিন আগেই উবে গেছে লাল রঙ। খানাখন্দ, গর্ত ভরা রাস্তায় সাইকেল কিংবা বাইক দুর্ঘটনা প্রায় নিত্য সঙ্গী তো বটেই , পায়ে হাঁটাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে আবেদন নিবেদন, চিঠি চাপাটি চলেছে পঞ্চায়েত থেকে মুখ্যমন্ত্রী অবধি। আশ্বাস মিলেছে কিন্তু আশ্বস্ত হওয়ার মত কাজের কাজ হয়নি। ফলে ক্রুদ্ধ গ্রামবাসীরা রাস্তায় নেমেছেন। সোমবার, সপ্তাহের শুরুর দিনই পথ অবরোধে নেমেছেন গ্রামবাসীরা, তালা পড়েছে পঞ্চায়েত অফিসেও। ঘটনা খড়গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত সাঁকোয়া এলাকার।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

সোমবার খড়গপুর ২ব্লকের অন্তর্গত বেনাপুর-সাঙ্গাড় প্রধানমন্ত্রী গ্রামীন সড়ক যোজনার অধীন সাঁকোয়া লক এলাকায় পথ অবরোধে সামিল হন ফতেচক ও চকসাঁতরা এলাকার গ্রামবাসীরা। তাঁরা জানিয়েছেন সাঁকোয়া লক থেকে ফতেচক ও চকসাঁতরা যাতায়তের মূল ২ কিলোমিটার রাস্তাটি গত ২বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সাঁকোয়ার লক তাঁদের মূল বাজার শুধু তাই নয় তাঁদের স্কুল কলেজ, হাসপাতাল, বিডিও অফিস সহ সর্বত্রই যাওয়ার জন্য তাঁদের সাঁকোয়া লক দিয়েই যেতে হয়। সেই রাস্তার এমনই বেহাল দশা যে আ্যম্বুলেন্স তো দুরের কথা সাধারণ মারুতি ভ্যান ঢুকতে চায়না। স্থানীয় বাসিন্দা এক হাইস্কুলের শিক্ষক সেক দিলওয়ার আলী বলেন, ” আসন্ন প্রসবাকে চিকিৎসককের অনুমান করা প্রসব দিনের আগেই আমাদের কোনও আত্মীয় বাড়িতে রেখে আসতে হয় ভয়ে। যাতে প্রসব বেদনা উঠলে তাঁকে সহজেই হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয়। কারন ওই সময়ে যদি গ্রাম থেকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় তবে ২কিলোমিটার রাস্তার মধ্যেই তাঁর প্রসব হয়ে যেতে পারে।”

সারোয়ার আলী নামক আরেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ” বহুবার বলার পর বছর দুয়েক আগে ওই রাস্তায় মোরাম ফেলে গর্ত বুঝিয়ে রাস্তাটি মেরামত করা হয়েছিল কিন্তু কয়েকমাসও যায়নি রাস্তা আবারও বেহাল হয়ে পড়ে। তারপর থেকে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলাপরিষদ, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও তদবির করেছি আমরা। কিন্তু শুকনো আশ্বাস ছাড়া আমাদের কিছুই মেলেনি। আমাদের দুটি গ্রামে ৪০০টি পরিবারে বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ২০০০ মানুষ এই নরকযন্ত্রনা ভোগ করে চলেছি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানিয়েছেন, ২০১৮-১৯ সালে ফতেচক-জামঝাটিয়া রাস্তার কাজ শুরু হয়। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অন্তর্গত এই রাস্তাটি ফতেচকের পরিবর্তে বাসুদেবপুর থেকে শুরু হয়ে এবং জামঝেটিয়া অবধি যায়। বাসুদেবপুর যা কিনা সাঁকোয়া ডাক নামে পরিচিত সেখান থেকে রাস্তা ফতেচক অবধি আসেনি। ফলে সাঁকোয়া আসতে হলে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে ফতেচক ও চকসাঁতরা দুই গ্রামের বাসিন্দাদের। কিন্তু এখানেই উঠছে একটা প্রশ্ন যে, প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার রাস্তা যদি ফতেচক থেকে জামঝেটিয়া অবধি অনুমোদন হয় তবে তা ফতেচক থেকে শুরু না হয়ে বাসুদেবপুর থেকে শুরু হল কী করে?

উত্তরে খড়গপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান বলেছেন, ” প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার টাকা পুরো বরাদ্দ না হওয়ায় আমরা ওই অবধি কাজ করতে পেরেছিলাম। বাকি টাকা বরাদ্দ হলে ফের পুরো কাজ করা হবে। এছাড়া অন্য কয়েকটি প্রকল্পে ওই রাস্তাটি ধরা আছে। কোনোও একটি প্রকল্প অনুমোদিত হলেই ওই রাস্তাটি সম্পূর্ণ করা যাবে।” যদিও এক সরকারি আধিকারিকের বক্তব্য হল, “সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার অন্তর্গত রাস্তায় এইভাবে অর্ধেক টাকা বরাদ্দ হওয়ার কথা নয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোথাও একটি সমস্যা হয়েছে।”

এদিকে সোমবার সকাল ৮টা থেকে অবরোধ শুরু হওয়ার ফলে বেনাপুর থেকে বাড়গোকুলপুর হয়ে সাঙ্গাড় অবধি সমস্ত জায়গায় যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় প্রায় ৪ঘন্টা ধরে। ইতিমধ্যে আন্দোলনকারীদের একাংশ ১ কিলোমিটার দুরে সাঁকোয়া গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনে জড়ো হয়। গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন খড়গপুর লোকাল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক, খড়গপুর ২ বিডিও, খড়গপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। আন্দোলনকারীদের আলোচনার পর বিডিও সন্দীপ মিশ্র ওই রাস্তাটি আপাততঃ মেরামতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারপরই অবরোধ প্রত্যাহৃত হয়।

- Advertisement -
Latest news
Related news