Monday, April 15, 2024

Midnapore: পশ্চিম মেদিনীপুরে মধ্যযুগীয় বর্বরতা, মেয়ে কে জমি দিয়ে ‘ডাইনি’ বাবা! ডেবরা উড়াল পুলের নীচে ঠাঁই কয়েক মাস

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধানঃ স্বামী পরিত‌্যক্তা মেয়ে, তাঁর দিন কাটবে কী করে? তাই নিজের চাষের জমি থেকে ৫ কাটা জমি লিখে দিয়েছিলেন মেয়েকে। আর তারই জন্য ডাইনি অপবাদ দিয়ে বাবাকে বের করে দিয়েছে ছেলে এবং বৌমা। শুধু তাই নয় গত চার মাস ধরে নিজের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করতে ব্যর্থ হয়েছেন ওই বৃদ্ধ। বাড়ি ঢুকলেই জুটছে ব্যাপক মারধর। ‘আদিবাসী ‘ সেন্টিমেন্ট’ নিয়ে দ্বিধায় পুলিশ। ফলে বৃদ্ধের ঠাঁই হয়েছে কার্যত রাস্তায়। এমনই মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা! ডাইনি অপবাদ আর প্রাণনাশের হুমকি নিয়ে বিতাড়িত ওই বৃদ্ধের দিন কাটছে পাড়ায় পাড়ায় ভিক্ষে করে আর রাত কাটছে ডেবরা বাজারের ওপর দিয়ে যাওয়া হাওড়া-মুম্বাই জাতীয় সড়কের আন্ডার পাশের নীচেই।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

গত মাস খানেক ধরে এদিক ওদিক ঘুরতে আর রাত হলেই আন্ডারপাশের একটি অস্থায়ী দোকানের সামনের চাতালে মশারি খাটিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছিল ওই বৃদ্ধকে। প্রথমে ভবঘুরে বলে মনে হলেও বৃদ্ধের মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোর দৃশ্য দেখে ‘কেজিপি বাংলা’র তরফে খোঁজ নিয়ে জানা যায় একটি গৃহস্থ পরিবারের মানুষ তিনি। তাঁর বাড়ি ডেবরা ব্লকের ৩ নম্বর ব্লকের সত্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বৃন্দাবনচক এলাকায়। তাঁর নাম দুখুরাম টুডু। তাঁর সঙ্গে কথা বলতেই বেরিয়ে এল সেই মর্মান্তিক কাহিনী।

৬৭ বছর বয়সী জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস আগে তাঁরই এক পুত্রের রোগের কারণে শরীরের অবনতি হলে, চিকিৎসা করিয়েও তেমন আশানুরুপ শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় কুসংস্কারে আছন্ন গ্রামবাসীদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে তাঁর ওপর। অন্ধ বিশ্বাসে বশীভূত হয়ে গ্রামবাসীরা তাঁকে “ডাইনি” অপবাদ দেয়। বলা হয় তারই কুনজরে তার ছেলে সুস্থ হতে পারছে না। তিনি গ্রামে থাকলে আরও মানুষের বিপদ বা জীবনহানি হতে পারে,তাই গ্রাম ছাড়ার নিদান দেওয়া হয় তাঁকে।

বৃদ্ধ প্রথমে বুঝতে পারেননি যে হঠাৎ ছেলের অসুস্থতার জন্য তাঁকে দায়ী করা হচ্ছে কেন আর ছেলেই বা তাতে সায় দিচ্ছে কেন? তিনি আপত্তি করায় শুরু হয় অত্যাচার! লাঠি, ঘুষি,কিল, চড় মারা হয়। অবিলম্বে গ্রাম ছাড়া না হলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয় গ্রামেরই কয়েকজন মাতব্বর। আর তাতে মদত দেয় ছেলে বউমা। প্রাণে বাঁচতে শেষে উপায় না পেয়ে গ্রাম ছেড়ে সোজা ডেবরা পুলিশের দ্বারস্থ হন দুখুরাম। অভিযোগ পাওয়ার পরেই ডেবরা প্রশাসন থেকে দুজন সিভিক বাহিনীদের দিয়ে বৃদ্ধকে বাড়ি ফেরানোর জন্য উদ্যোগী হয়। কিন্তু কয়েক ঘন্টা পরেই ফের ঐ বৃদ্ধের উপর চড়াও হন কিছু মানুষ।

একবার নয়, বারবার এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকে। পুলিশ ছেড়ে দিয়ে আসে আর কিছুক্ষন পরেই বৃদ্ধ ফিরে আসে। এরপর বৃদ্ধ জানতে পারে তিনি তাঁর অসহায় মেয়ে কে জমি লিখে দেওয়ার কারনেই ছেলে-বউমা গ্রামেরই কিছু মাতব্বরের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেই এই কাজ করছে। মাস খানেক ফের বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন বৃদ্ধ কিন্তু এবার ছেলে-বউমা জানিয়ে দেয় বাড়িতে থাকলে খুন করে দেবে রাতের অন্ধকারে। তারপর আর গ্রামে থাকার সাহস পাননি বৃদ্ধ। তারপর থেকে এখানেই ঠাঁই নিয়েছেন।

আদিবাসী জগোষ্ঠীর সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহালের ডেবরা মুলুকের নেতা গোপাল মুর্মু বলেন, খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। পুলিশের কথা মত আমি নিজেও ওই বৃদ্ধ কে বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমি নিজে গিয়ে বৃদ্ধকে বাড়ি ছেড়ে দিয়ে আসি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বুঝিয়েও আসি। কিন্তু আমরা ফিরে আসতেই সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। বৃদ্ধ প্রাণনাশের আশংকা করছেন। তাই বাড়িতে থাকতে পারছেন না।

- Advertisement -
Latest news
Related news