Monday, April 15, 2024

Kharagpur Politics: বুনো ওলের সাহায্য নিয়েও ব্যর্থ প্রদীপ, বাঘা তেঁতুল হাসলেন অফিসে বসেই! নিঃসঙ্গ যাত্রায় বন্ধু সেই জহর

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: কোথাও নেই কিন্তু সর্বত্রই আছেন। দুপুর থেকেই বসে রয়েছেন মোবাইল হাতে। আশেপাশে অনুগামীরা রয়েছেন কিন্তু কেউ আজ অন্যদিনের মত হৈচৈ করছেনা। খবর এল প্রদীপ সরকার রওনা দিয়েছেন খড়গপু্র মহকুমা শাসকের অফিসের দিকে। নড়েচড়ে বসলেন, খেলা শুরু! বুধবার দুপুর তিনটা পনেরো, টান টান উত্তেজনা খড়গপু্র শহরে। আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়েও উত্তেজনার ম্যাচ। মাঠের বাইরে মেসি, ঝাপেটাপুরে। নির্ধারক গোলের বলটি সেখান থেকে অনেক আগেই কিক করে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সবংয়ের মাঠে। ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে পাশ করা সেই বল খরিদা হয়ে তাঁর পায়ে ঠেকেছিল। কোনও ঝুঁকি না নিয়েই বলটা ঠেলে দিয়েছিলেন সবংয়ের সেন্টার ফরোয়ার্ডের কাছে। সবং থেকে লম্বা টিকে সেই বল কালীঘাটের শান্তিনিকেতনে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

২০১৫ থেকে ২০২২! ধীরে ধীরে টিম সাজিয়েছেন খড়গপু্রের মেসি। নিজের সাজানো পুরানো দলকে ভাঙতে পারেনি খোদ ভারতী ঘোষ। কিন্তু খেলা বদলানো দরকার মনে করেই একে একে নিজের অনুগামীদের বিরোধী শিবিরে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছেন। তারপর সুযোগ বুঝে নিজেও ঢুকে গেছেন বিপক্ষ শিবিরে। বুঝেছেন দলের ভেতরেই নিজের দল ভারী করতে হবে। এক কালের পুরানো শত্রুতা হালকা করে ভারী করেছেন প্রদীপ সরকার বিরোধীদের পাল্লা। বুঝেছেন গোল মারতে হবে একবারই আর সেই গোল হবে এতটাই জোরালো যে প্রদীপ সরকার ঘুরে দাঁড়ানোর রাস্তা পাবেনা। হলও তাই, মোট ২৫ জনের মধ্যে ২১ জনকেই নিয়ে এলেন প্রদীপ শিবিরের বাইরে। ২১-৪ এর খেলায়‌ প্রদীপ দাঁড়াতে পারবে কেন? পারেও নি। খেলা শেষ হয়ে গেছিল দশদিন আগেই যেদিন শান্তিনিকেতন থেকে সবুজ সংকেত এসে পৌঁছেছিল জেলা নেতৃত্বের কাছে। তারপরই বিদ্রোহ শুরুর ইঙ্গিত পাঠানো হল প্রদীপ বিরোধীদের কাছে। কিন্তু রেজাল্ট বের হল বুধবার, প্রদীপকে কোনও গোল দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই।

বুনো ওলের বিরুদ্ধে বাঘা তেঁতুলের খোঁজ করেছিলেন প্রদীপ সরকার কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাঁরই পরামর্শে শেষবার গেছিলেন কলকাতায় কিন্তু লাভ হয়নি কিছুই। অর্থহীন কিছু আশ্বাস ছাড়া জোটেনি কিছুই। মঙ্গলবার প্রায় বিনিদ্র রাত যাপনের পর বুধবার সকাল। প্রদীপের ফোন ছুটেছে এদিক ওদিক। অবেশেষে নিরুপায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত। শেষমেশ নিজের অনুগামী আর সঙ্গীদের পার্টি আফিস জড়ো হওয়ার অনুরোধ। চেয়ারম্যান হিসাবে শেষ দিনটির সঙ্গী হিসাবে পেলেন জহর লাল পালকে। রাজ্যপাট হারিয়ে তিনিও আজ প্রায় নিঃসঙ্গ। অন্তরে তখন একটাই গান বেজে চলে, “চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়, আজকে যে রাজা ধীরাজ কাল সে ভিক্ষা চায়!” পৌনে ছ’টায় খেলা শেষ করে এক কাপ চা খেয়ে মেসি বাড়ির দিকে পা বাড়ান, বাড়ি খুব কাছেই।

 

- Advertisement -
Latest news
Related news