Monday, April 15, 2024

Midnapore: পশ্চিম মেদিনীপুরের গ্রামে খাপ-পঞ্চায়েতি নিদান! বয়কট পুরোহিতের সঙ্গে কথা বললে গুনতে হবে পাঁচ হাজার টাকার জরিমানা

- Advertisement -spot_imgspot_img
রাজীব চক্রবর্তী

নিজস্ব সংবাদদাতা: রীতিমত পোস্টার আর হ্যান্ডবিল ছড়িয়ে খাপ পঞ্চায়েত স্টাইলে গ্রামবাসীকে হুঁশিয়ারি! হুঁশিয়ারিতে বলা হয়েছে, গ্রামেরই এক পুরোহিত পরিবারের সঙ্গে গ্রামবাসীদের কেউই কোনও সম্পর্ক রাখতে পারবেনা। যদি কেউ ওই পুরোহিত পরিবারের সাথে যোগাযোগ কিংবা কথাবার্তা বলেন তবে তাঁকে গ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। বাংলায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত ত্রিস্তরিয় পঞ্চায়েতের যুগেও গ্রামে গ্রামে বহাল রয়েছে গ্রাম কমিটি নামক একটি ব্যবস্থা। খাপ পঞ্চায়েত বা মোড়লি ব্যবস্থায় সেই কমিটির মাতব্বরদের অত্যাচার কখনও কখনও মারাত্মক বাড়াবাড়ি হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে এই কমিটির নিদানে কমিটিকে বাদ দিয়ে জমি জিরেত বিক্রি করা যাবেনা বলে পোস্টার পড়েছিল আবার পটাশপুরে এক গৃহস্থবাড়ির আয়োজন করা আড়াই হাজার মানুষের অন্নভোগে অংশ গ্রহন করতে দেওয়া হয়নি। এরপর পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানা এলাকায় গ্রাম কমিটির এমনই হ্যান্ডবিল আর পোস্টারে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নাড়াজোল গ্রামে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

বুধবার সকালে এমনই পোস্টার আর হ্যান্ডবিল মিলেছে নাড়াজোল গ্রামের বিভিন্ন অংশে। যেখানে
গ্রামের মোড়লদের আজব ফতোয়ায় বলা হয়েছে, গ্রামের “এতদ্বারা দেশবাসী তথা দেশ কমিটির পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণভাবে জানানো যায় যে,মোহিনী চক্রবর্তী পিতা হরিপদ চক্রবর্তী নিম্ন আদালতে হেরে যাওয়ার পর পুনরায় উচ্চ আদালতে মামলা করার জন্য ওনার বা পরিবারের সঙ্গে কোনও প্রকার যোগাযোগ রাখা যাবেনা। দেশবাসী কোনও রূপ ভাবে কোনও রকম যোগাযোগ করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।” এই নিদান রীতিমত সামাজিক বয়কটেরই সামিল কারন এরফলে মোহিনী চক্রবর্তী নামে ওই ব্যক্তি বা তার পরিবার স্থানীয় বাজারঘাট থেকে কিছু কিনতে পারবেননা। তাঁর চাষবাস বা অন্য কিছুর প্রয়োজনে তিনি স্থানীয় ভাবে শ্রমিক, মিস্ত্রী ইত্যাদি পাবেননা। এক কথায় এই ফতোয়া ধোপা-নাপিত বন্ধেরই সামিল।

কিন্তু কেন এই ফতোয়া? এর উত্তরে গ্রাম কমিটির এক সদস্য অলক সামন্ত জানান, ২০০৯ সালে মোহিনী বাবু হঠাৎ দাবি করে বসেন যে, নাড়াজোল গ্রামে রাজার আমল থেকে যে শিতলা মন্দিরটি রয়েছে সেটি তাঁদেরই। এই নিয়ে গ্রামের বিরুদ্ধে আদালতে যান তিনি কিন্তু আদালতে তিনি হেরে যান। পরে ফের আরেকটি আদালতে যান কিন্তু সেখানেও হেরে যান। এরপর ফের তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। গ্রামকে বারবার হেনস্থা করার জন্যই গ্রাম কমিটির তরফে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। উনি চাইছেন ওনাকে মন্দিরের পুরোহিত হিসাবে বহাল করতে কিন্তু আমরা অন্য পুরোহিত বহাল করেছি।”

যদিও মোহিনী চক্রবর্তীর ছেলে রাজীব চক্রবর্তীর দাবি, তিনি আদালতে পরাজিত হননি। রাজার আমলের সময় থেকেই তাঁর পূর্বপুরুষ ওই মন্দিরে পুজো করে আসছে। ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই মন্দিরের পূজক তাঁরা। মন্দিরটি পুরানো রেকর্ড অনুযায়ী তাঁদেরই কিন্তু সাম্প্রতিক কম্পিউটারের গোলযোগের কারনে বা ভুলবশত ওই জায়গাটির রেকর্ড অন্য একজনের নাম উঠে যায়। সেই রেকর্ড সংশোধনের জন্য তিনি আদালতে গেছেন। রাজীববাবু জানান, “আমি গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে আদালতে যাইনি গেছি ভূমি রাজস্ব দপ্তরের ত্রুটি সংশোধন করার জন্য। সম্প্রতি আদালতে সেই মামলার শুনানি ছিল কিন্তু অন্য তরফে কেউ হাজির না হওয়ায় আদালত সেই শুনানি প্রায় দেড় বছর পিছিয়ে দিয়েছেন। আমি উচ্চ আদালতে গেছি সেই শুনানি দ্রুত শুরু করার দাবি নিয়ে।”

রাজীববাবু বলেন, “দীর্ঘ চারশ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় আমরা ওই মন্দিরের পূজক তাই আমাদের রাজপন্ডিত উপাধি। কিন্তু গত ৪ বছর আগে আমাদের বিতাড়িত করে অন্য পুরোহিতকে নিযুক্ত করা হয়েছে। মন্দিরের কাগজপত্র আমাদের নামেই আছে, ওই জমির স্বত্ত্ব আমাদেরই পরিবারের। তারই মধ্যে নাড়াজোল তারাশঙ্কর শীতলা মাতা কমিটির নামে ওই পোস্টারগুলি দেওয়া হয়েছে।
পোস্টার পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দাসপুর পুলিশ। সমস্ত পোস্টার ছিঁড়েও দেয় পুলিশ। গ্রামের ওই মোড়লদের পাশাপাশি ওই পুরহিতকেও আগামী ১৯ শে মে দাসপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news