Monday, May 20, 2024

Jhargram : দম বন্ধ হয়ে যাক কিন্তু বালি গাড়ি যেন বন্ধ না হয়! বড়বাবুর আবদার মেটাতেই মৃত্যু সিভিক ভলান্টিয়ারের, অভিযোগ ক্রুদ্ধ সহকর্মীদের

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: “দম বন্ধ হয়ে যাক কিন্তু বালি গাড়ি যেন বন্ধ না হয়” এমনই নাকি নির্দেশ ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক। আর সেই নির্দেশ কাঁটায় কাঁটায় মেনে চলে গিয়েই অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের এক সহকর্মী এমনই অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ঝাড়গ্রাম জেলা সিভিক ভলান্টিয়ারদের একটি অংশ। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল থানার মশাড় শালবনী গ্রামে মৃত সিভিক ভলান্টিয়ার বছর চৌত্রিশের নিতাই সিংয়ের মৃতদেহ এসে পৌঁছানোর পরই এই ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা যায় সেখানে হাজির সহকর্মী সিভিক ভলান্টিয়াররা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে গিয়ে ক্ষুব্ধ সিভিক ভলান্টিয়াররা বলেন, ২১ শে ফেব্রুয়ারি সিভিক ভলেন্টিয়ার নিতাই সিং রোহিনী তে সারারাত নাইট ডিউটিতে থাকাকালীন ভোর বেলায় আচমকাই স্ট্রোক হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ঘটনার খবর থানায় দেওয়া স্বত্ত্বেও কোনও সহযোগিতা করেনি থানা। ভোর সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে সাতটা অবধি ঘটনাস্থলেই পড়েছিলেন নিতাই। একটা গাড়ি জোগাড় করতেই তাঁদের তিন ঘন্টা সময় লেগে যায় মাত্র ৫ কিলোমিটার দুরে ভাঙাগড় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে । আর সেই কারণেই অনেকটা দেরি হয়ে যাওয়ায় নিতাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ায় তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যেতে বলেন।

অভিযোগ সেখানেও সাহায্য মেলেনি থানার। ফলে টাকা জোগাড় করে ফের মেদিনীপুর নিয়ে যেতে পরের দিন ২২তারিখ বিকাল হয়ে যায়। কিন্তু মেদিনীপুরেও নিতাইয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ভুবনেশ্বর এইমসে নিয়ে যেতে মনস্থ করেন সহকর্মীরা। অভিযোগ এক্ষেত্রেও বারে বারে সাহায্য মেলেনি সাঁকরাইল থানার। নিতাইয়ের বাড়ির যৎসামান্য আর সহকর্মীরা মিলে ২৩ শে ফ্রেবুয়ারী বুধবার তাঁকে এইমসে যাচ্ছিলেন কিন্তু হাসপাতালে যাওয়ার সামান্য আগেই মৃত্যু হয় ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার নিতাই সিংয়ের।

সহকর্মীরা ২৩ তারিখ রাতে নিতাইয়ে দেহ ফের ভাঙাগড় হাসপাতালে নিয়ে আসলে দেহ পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। ২৪ শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ওই মৃত সিভিক ভলেন্টিয়ার নিতাই সিং কে বাড়িতে আনা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিধবা মা। নিতাই-ই ছিলেন তাঁর একমাত্র অবলম্বন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে দুই বোনের বিয়ে দেওয়ার পর নিজে বিয়ে করার জন্য গুছিয়ে উঠতে একটু সময় নিচ্ছিলেন নিতাই। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক ঘটনা।

সহকর্মীর ওই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর তাঁর বাড়িতে জড়ো হন সাঁকরাইল থানার সিভিক ভলান্টিয়াররা। সেখানেই সম্মিলিতভাবে জোটবদ্ধ হয়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান থানার অসহযোগিতার বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বড়বাবু তথা ওসির একটাই কথা, তোমাদের দমবন্ধ হয়ে যাক ক্ষতি নেই কিন্তু বালি গাড়ী বন্ধ না হয়” তাঁরা আরও বলেন, “ওসির এইরকম ব্যবহার তাঁরা আগেও পেয়েছেন। যেনতেন প্রকারে সুবর্নরেখা নদী থেকে বালি তোলা ও স্থানীয় লোকেদের অসন্তোষ কে তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়া অবৈধ বালিগাড়ি গুলিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়াই যেন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশ প্রশাসনের।” যদিও বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি সাঁকরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক খন্দকার সাইফুদ্দিন আহমেদ।

- Advertisement -
Latest news
Related news