Saturday, April 20, 2024

Haldia-Abbas Siddiqui: হলদিয়ায় তৃণমূলকে ধুরমুস করে উত্থান ISF-এর! পঞ্চায়েত ভোটের মুখে সংখ্যালঘু ভোটে ফাটল ধরিয়ে শাসকের আতঙ্ক ভাইজান

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে দাঁত ফোটাতে পারেনি পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা ISF. বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সদ্য তৈরি হওয়া সেই দল বামেদের সঙ্গে আঁতাত করে মাত্র ১টি আসন পেলেও বাম-কংগ্রেস জোট শূন্য হয়ে যায়। ঘটনায় তীব্র সঙ্কটের মুখে পড়েন আব্বাস সিদ্দিকী। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। বরং বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল স্তরে সংগঠন গড়ার কাজ চালিয়ে গেছেন আর সম্ভবতঃ সেই কারণেই বছর গড়িয়ে নজির বিহীন সাফল্যও এলো তাঁর ঝুলিতে। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার ব্রজলালচক সংলগ্ন একটি হাই মাদ্রাসার পরিচালন কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে তৃনমূল কে কার্যত ধুরমুস করল সেই ভাইজান বা আব্বাস সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

জানা গেছে পরিচালন সমিতির অভিবাবকদের জন্য বরাদ্দ ৬টি পদের মধ্যে ৪টিতে জয়ী হয়েছে ভাইজানের দল। হলদিয়ার গ্রামীণ এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় এই জয় আতঙ্ক ধরিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের। কারন তাঁরা এই ঘটনার মধ্যে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে ধসের ইঙ্গিত পাচ্ছেন। উল্লেখ্য ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে এখানে পরপর জয়ী হয়ে নিজেদের মৌরসি পাট্টা কায়েম করেছিল তৃণমূল। ওই ৬টি আসনের ৬টিতেই জিতে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব স্থাপন করে শাসকদল।কিন্তু ৮ বছরের মাথায় সেই কর্তৃত্বে ফাটল ধরালো ISF. নিশ্চিত ভাবেই এই নির্বাচনে ভাইজানের পাশেই দাঁড়িয়েছিল বামেরা। ২০১০ সালে শেষবার এখানে জেতার পর চলতি নির্বাচনে কোনও মনোনয়ন জমা না দিয়ে ভাইজানের পাশেই দাঁড়িয়েছিল তারা।

উল্লেখ্য রবিবারই ব্রজলালচক সংলগ্ন কুমারপুর হাই মাদ্রাসাককের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সারাদিনের উত্তেজনা পূর্ন সেই ভোট গ্রহন শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যায় ভোট গণনা হয়। দেখা যায় ৪-২ ফলাফলে এগিয়ে সিদ্দিকীর দল। এই নির্বাচনে পুনর্বার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ISF প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন বিদায়ী পরিচালন সমিতির সভাপতি সেখ মঈনুদ্দিন। এই পরাজয়ের পেছনে তৃণমূলের লাগামছাড়া দুর্নীতিকেই দায়ী করেছেন অভিভাবকরা। তাঁদের বক্তব্য গত ৪ বছর ধরে পরিচালন সমিতির সভাপতি এই মাদ্রাসাকে নিজস্ব আয়ের উৎস হিসাবে ব্যবহার করেছেন। মাদ্রাসার খেলার মাঠ সমতল করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য সরকারি বরাদ্দ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। নিজে কোনও সন্তোষজনক পেশায় যুক্ত না হয়েও নিজের সম্পত্তি বৃদ্ধি করেছেন।
স্থানীয় ISF নেতা সইফুল্লা মাইতি বলেছেন, “অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন মানুষ। চোখের সামনে দেখেছে হাভাতে নেতার জোড়া বাড়ি। গ্রামের মানুষের হাতে কাজ নেই, ১০০দিনের কাজও বন্ধ এই নেতাদের দুর্নীতির জন্য। যে মানুষটা কোনও কাজই করেননা তিনি ১১০টাকা লিটার পেট্রল পুড়িয়ে দিন রাত মোটর সাইকেল ছোটান কী করে? এর হাতে আর মাদ্রাসার ভার থাকলে যেটুকু টিকে আছে সেটুকুও শেষ হয়ে যাবে মনে করেছেন মানুষ। তাই নিজেদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই রায় দিয়েছে মানুষ।”
যদিও শুধু মাত্র এটাই কারন এমনটা মনে করছেন না এলাকার রাজনৈতিক মহল। তাঁদের মতে গত কয়েক মাসে হলদিয়া এলাকার সংখ্যালঘু মানসিকতায় একটি গুনগত পরিবর্তন হয়েছে। শুধু ভাইজানের দলই নয়, হলদিয়া এলাকায় দারুন সক্রিয় অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি ফোরাম বা AIMA-র মত অরাজনৈতিক সংগঠনও সরে আসছে শাসকদলের পক্ষ থেকে। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ আন্দোলনে এক সময় তৃণমূলের পাশে থাকা AIMA-র মনোভাব পাল্টেছে। বিশেষ করে আনিস কাণ্ড ও পূর্ব মেদিনীপুরের খঞ্চিতে এক মুসলিম ধর্মগুরুর গাড়িতে আক্রমনের পর থেকে বিভিন্ন ধর্মগুরুদের মধ্যেও সরকার বিরুপতা তৈরি হয়েছে যা কিনা ফাটল ধরিয়েছে হলদিয়ার মুসলিম সমাজের তৃণমূল সমর্থনে। এমন কি তৃণমূলের হয়ে বিভিন্ন পদে আসীন শাসক দলের মুসলিম নেতাদের মধ্যেও। কুমারপুর হাই মাদ্রাসার নির্বাচনেও ISF কে গোপনে সমর্থন দিয়েছেন একজন তৃণমূলী উপপ্রধান এবং তাঁর দলবল জেলা তৃণমূলের কাছে এমনই রিপোর্ট পাঠিয়েছে তৃণমূলের হলদিয়া উন্নয়ন ব্লক কমিটি। তাঁরা বলেছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াতে চলেছে দলের কাছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news