Tuesday, June 25, 2024

পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘরে ঢুকে এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ অষ্টম শ্রেণীর বালককে! প্রতিবেশী বালকের জিঘাংসায় হতভম্ব এলাকাবাসীরা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ফাঁকা ঘরে ঢুকে এক নাবালককে এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ মেরে মারাত্মক ভাবে আহত করল আরেক বালক। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বালককে ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে। আহত বালকের শরীরে একাধিক গভীর আঘাত থাকায় তার অবস্থা বিপজ্জনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল থানার পান্না গ্রামে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে আহত ওই বালকের নাম  সায়ন পাল। পান্না উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সায়নকে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুই হাত ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত হয়েছে তার।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে একমাত্র সন্তান সায়নকে বাড়িতে রেখে পান্না গ্রামের বাসিন্দা শিপ্রা পাল ১০০ দিনের কাজে গিয়েছিল গ্রামেরই অনতি দুরে। কিছুক্ষণ পরেই শিপ্রা স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পান যে তাঁর ১৪ বছরের ছেলে বাড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যন্ত্রনায় ছটফট করছে। তিনি তখুনি দৌড়ে ঘরের উদ্দেশ্যে ছুটে যান এবং দেখেন তার ছেলে সায়নের শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের কোপ, রক্তাক্ত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতিবেশীরা শিপ্রা জানান, সায়নের আর্ত চিৎকার শোনার পর তার বাড়িতে ছুটে যায়। তখনই তাঁরা লক্ষ্য করেন পাশের গ্রামেরই অন্য একটি নাবালক ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। পরে ওই ছেলেটিকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের চেষ্টায় আহত সায়নকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে ঘাটাল হাসপাতালে ।

প্রতিবেশী যে বালক (নাবালক অভিযুক্তর নাম গোপন রাখা হল)এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে সেও সায়নের সমবয়সী। কী কারণে সেই এই ঘটনা ঘটালো তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ একটা ব্যাপারে নিশ্চিত যে, এই ঘটনা কোনও আকস্মিক ভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। রীতিমতো পরিকল্পনা করেই পাশের গ্রামের ওই বালক আক্রমনের সময় বেছে নিয়েছিল এবং জেনেই এসেছিল যে ওই সময় সায়নের মা বাড়িতে থাকবেনা। পাশাপাশি সে একটি ছুরিও যোগাড় করে এনেছিল। অর্থাৎ একটা পুরানো রাগ, শত্রুতা, জিঘাংসা অথবা প্রতিহিংসা মনে মনে বহন করে চলেছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে শিপ্রা স্বামী হীনা বিধবা। অন্যদিকে প্রতিবেশী গ্রামের ওই অভিযুক্ত নাবালকের মা ও মারা গেছেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দুই বালকের বাবা মা য়ের মধ্যে কোনও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল কী যা কিনা আক্রমনকারী বালকের মনে একটা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছিল আর নিজের অভিব্যক্তি বাবা কিংবা সায়নের মা কে বলতে না পেরে সায়নের মায়ের প্ৰতি তৈরি হওয়া তীব্র ক্রোধ থেকে সায়নকেই সে আক্রমনের লক্ষ্য হিসাবে বেছে নিয়েছিল। পুলিশের এক আধিকারিক বলেছেন, এও হতে পারে যে আক্রমনকারী নাবালকের বাবা ও আক্রান্ত নাবালকের মায়ের মধ্যে কোনও সম্পর্কই নেই। হয়ত নিছক চেনা পরিচয় আছে। কথাবার্তা বলেন দু’জনে। সেটাকেই বালক একটা কল্পিত সম্পর্ক ধরে নিয়ে জিঘাংসায় ভুগতে ভুগতে এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে।

সমাজবিদরা বলছেন, দুটি নিঃসঙ্গ নরনারীর মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক হওয়াটা কোনও আপত্তিকর বিষয় নয়। বরং সেটা স্বাভাবিক ও কাম্য। কিন্তু যদি তাঁদের নাবালক ছেলে মেয়ে থাকে তবে সেই সম্পর্কে তাদের অভ্যস্থ করে তুলতে হবে কাউন্সিলিং বা কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে। এই সম্পর্ক শৈশব বা পরিণত বয়সের ছেলেমেয়েরা হয়ত মেনে নিতে পারে কিন্তু কিশোর বয়সের জন্য একটু কঠিন হয়ে পড়ে। শিশু বা কিশোর কিশোরীরা সহজে তাদের বাবা মার জায়গাটা অন্য কাউকে দিতে চায়না। যদিও এই ক্ষেত্রে ঠিক কী কারন তা এখনো জানা যায়নি। ঘাটাল থানার পুলিশ অভিযুক্ত ওই বালককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news