Friday, April 19, 2024

MIdnapore: পশ্চিম মেদিনীপুরে গৃহবধূকে পিটিয়ে খুন! যাবজ্জীবন মামা ও ভাগ্নের

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: এক গৃহবধূকে পিটিয়ে খুন করার অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে সাজা ঘোষণা করল আদালত। খুনের নৃশংসতার পাশাপাশি ওই গৃহবধূকে রক্ষা করতে গিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছিল শিশুকন্যটিও। মামা ও ভাগ্নের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সেও। বাবা এবং মামাদাদুর হাতে নির্মমভাবে প্রহৃত হয় সে। সেই ঘটনার জন্যও পৃথকভাবে ওই দুজনকে সাজার পাশাপাশি জরিমানাও ঘোষণা করেছেন বিচারক। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই কন্যাকে খুঁজে বের করে তাঁকে অন্ততঃ পক্ষে ২লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমা আদালত এমনই রায় দিয়েছেন। অভিযুক্ত মামার নাম যোগেন হেমব্রম, ভাগ্নে দীপু পড়িয়া।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

সরকার পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার পাঁচবেড়িয়া গ্রামে। ২০১৫ সালের ৬ ই নভেম্বর ওই পাঁচবেড়িয়া গ্রামের যোগেন হেমব্রমের বাড়ির পেছনের একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হয় সোনালী পড়িয়া নামে গৃহবধূর দেহ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে সোনালী হল দীপু পড়িয়ার স্ত্রী। দীপু ও সোনালী তাঁদের শিশু কন্যা বৈশাখীকে নিয়ে যোগেনের বাড়িতেই থাকত। যোগেন সম্পর্কে দীপুর খুড়তুতো মামা। আগের দিন যোগেন দাবি করে যে তাঁর কিছু টাকা চুরি হয়েছে এবং সোনালীই সেই টাকা চুরি করেছে। এই দাবি তুলে সোনালীকে মারধরও করে সোনালীর মামাশ্বশুর যোগেন। ঘটনার সময় দীপু বাড়ি ছিলনা।

দীপু বাড়ি ফিরে আসার পর যোগেন তাঁকে একই অভিযোগ করে। এরপর মামা ও ভাগ্নে মিলে সোনালী কে পেটাতে থাকে। সোনালী বারংবার বলছিল যে সে টাকা নেয়নি কিন্তু তাতেও মার থামেনি তাঁদের। মাকে বাঁচাতে গিয়ে বেধড়ক মার খায় ছোট্ট মেয়ে বৌশাখীও। সে অজ্ঞান হয়ে যায়। ওদিকে মারের চোটে মৃত্যু হয় সোনালীর। তাঁকে পেছনের কলাবাগানে ফেলে রেখে আসে মামা ও ভাগ্নে মিলে। পরের দিন কলাবাগানে পাওয়া মৃতদেহের সূত্র ধরেই গ্রেফতার হয় মামা ভাগ্নে। অসুস্থ মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ময়নাতদন্তে প্রমাণিত হয় শরীরে একাধিক আঘাত নিয়েই মৃত্যু হয়েছে সোনালীর। পুলিশ গৃহবধূ নির্যাতন, খুন সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে। শিশুটিকে মারধর করার জন্যও পৃথক মামলা রুজু হয়।

গত সাত বছর ধরেই সেই মামলা চলছিল। মাঝখানে করোনা আতিমারীর প্রকোপের জন্য মামলা প্রক্রিয়া কিছুটা প্রলম্বিত হয়। প্রায় ১১জন স্বাক্ষী ও প্রমানাদির ভিত্তিতে গত ৯ ই মার্চ ওই দুজনকে দোষী সব্যস্ত করেন ঘাটালের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সঞ্জয় কুমার শর্মা। দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদানের পাশাপাশি শিশুকন্যাকে মারধরের জন্যও আলাদা করে ৩বছরের জেল ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের জরিমানাও করা হয়েছে অপরাধীদের যার সর্বোচ্চ পরিমান ২০ হাজার টাকা। জরিমানা আদায় হলে তা ওই কন্যাকেই দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ওই কন্যাকে জেলার শিশু সুরক্ষা দপ্তরকে অন্ততঃ ২লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। উল্লেখ্য ঘটনার পর থেকে ওই কন্যা বর্তমানে কোথায় রয়েছে তার খোঁজ করছে পুলিশ।

- Advertisement -
Latest news
Related news