Saturday, April 20, 2024

Haldia: বছর ভরের লড়াই শেষে মধ্য রাতে গ্রেফতার হলদিয়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান শ্যামল আদক!রক্ষা কবচ এড়িয়ে ভিন্ন মামলায় গ্রেফতার শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০২১সাল থেকে একের পর এক মামলা করেও বারবার হাইকোর্টে ধাক্কা খেয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার করা যায়নি শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ হলদিয়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান শ্যামল আদককে। হাইকোর্টের রক্ষা কবচ নিয়ে প্রতিবারই পুলিশের জাল কেটে বেরিয়ে গেছেন তৃনমূলের এই প্রাক্তন ট্রেড ইউনয়ন নেতা। শেষবার তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের মাস দুয়েক আগে, সেপ্টেম্বর মাসে কিন্তু এবারও হাইকোর্ট তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল পুলিশকে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল রাজনৈতিক শিবির পরিবর্তনের জন্যই প্রতিহিংসা মুলক আচরনের অঙ্গ হিসাবেই পুলিশ গ্রেফতার করতে চাইছে শ্যামল আদককে। এবারও হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল তদন্তে সহযোগিতা করলে গ্রেফতার করা যাবেনা শ্যামল আদককে। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই হলদিয়ার এই প্রাক্তন পুর প্রধান পুলিশি তদন্তে ‘ সহযোগিতা’ করতেই হলদিয়ার ভবানীপুর থানায় হাজিরা দিতে আসছিলেন। জানা যাচ্ছে সেই হাজিরা দিতে এসেই গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। শনিবার দীর্ঘক্ষন থানায় বসিয়ে রাখার পর মধ্যরাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেই জানা গেছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

একটি সূত্র মারফত জানা গেছে চলতি যে মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল সেই মামলায় নয় ভিন্ন একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে যে মামলার এফআইআরে তাঁর নাম ছিলনা কিন্তু তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছে এমনই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য গত ২৯ শে সেপ্টেম্বর শ্যামল আদকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরই এক পরিচিত ঠিকাদার। আর সেই দিনই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষন, জালিয়াতি ইত্যাদি একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। পুলিশের এই অদ্ভুত তাড়াহুড়ো উল্লেখ পেয়েছে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষনে। হাইকোর্ট জানিয়েছে কোনও তদন্ত ছাড়াই পুলিশ শুধু অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর করে ফেলল! হাইকোর্ট আরও অবাক হয়েছিল যে দ্রুততার সঙ্গে শ্যামলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, হুলিয়া ইত্যাদি জারি হয়েছিল তা দেখে। সব মিলিয়ে হাইকোর্টের কাছ থেকে রক্ষা কবচ পেতে খুব কষ্ট হয়নি।

ওদিকে পুলিশও বুঝতে পারে যে এই মামলায় শ্যামলকে গ্রেফতার অসম্ভব। ইতিপূর্বেও শ্যামলকে বন্দরে তোলাবাজি মামলায় গাঁথতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। হাইকোর্টের রায়ে মামলা শেষ অবধি পুলিশের হাত থেকে চলে গেছে সিবিআইয়ের হাতে। আর স্বাভাবিক ভাবেই সেই মামলার পরিণতি অনেকটাই হিমঘরে যাওয়ার মত। শুভেন্দু ঘনিষ্ট শ্যামল আদকের বিরুদ্ধে সিবিআই আর কাঁহাতক এগুতে পারে? তারপর এই চলতি মামলায় শ্যামল রক্ষাকবচ পেয়ে যাওয়ায় শ্যামল কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়েই হলদিয়ার ভবানীপুর থানায় হাজিরা দিতে আসছিলেন কিন্তু পুলিশ এবার অন্য রাস্তায় হাঁটে। এবার শ্যামলকে এমন একটি মামলায় জড়ানো হল যেখানে এফআইআরে তাঁর নামই নেই। কারন এফআইআরে নাম থাকলে ফের প্রমাণ হয়ে যায় যে পুলিশ তাঁকে ইচ্ছা করে জড়াচ্ছে। সেক্ষেত্রে আবারও আগাম জামিন পেয়ে যাবেন।

সম্প্রতি একটি দুর্নীতি মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে হলদিয়ার প্রাক্তন কাউন্সিলর সত্যব্রত দাস কে। কমলেশ চক্রবর্তী নামে জনৈক ব্যাক্তি অভিযোগ করেন যে, সত্যব্রত একই কাজ দুবার দেখিয়ে পুরসভার তহবিল থেকে টাকা তুলেছেন। এই সময় চেয়ারম্যান ছিলেন শ্যামল আদক। পুলিশের দাবি সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়েই উঠে এসেছে শ্যামল আদকের নাম। আর সেই কারনেই শ্যামলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি শনিবার মধ্যরাতে শ্যামল আদক যখন হলদিয়া থেকে কলকাতায় নিজের বাড়ি যাচ্ছিলেন তখনই রাস্তা থেকে আটক করা হয় তাঁকে। পরে গ্রেফতার করা হয়। যদিও ভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে চলতি মামলায় পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা করতে এসেছিলেন শ্যামল। সেখানেই দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার পর মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এই গ্রেফতারের মধ্যে দিয়ে পুলিশের বছরভর ধরে চালিয়ে যাওয়া লড়াইয়ের একটি অধ্যায় শেষ হল বলে অনেকেই মনে করছেন। এদিন হলদিয়ার বিশেষ আদালতে শ্যামলকে তোলা হলে তাঁকে একদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। আগামী কাল নিয়মিত আদালতে পেশ করে পুলিশ তাঁকে নিজস্ব হেফাজতে চাইবে বলেই জানা গেছে তবে আগামী কাল শ্যামল আদকের আইনজীবী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কিনা সেটাই এখন দেখার।

- Advertisement -
Latest news
Related news