Tuesday, April 16, 2024

Ghatal & Panskura: দাবদাহ থেকে বাঁচাতে ভবঘুরে মহিলাকে উদ্ধার ঘাটাল পুলিশের! সংবাদমাধ্যমে খবর দেখে ‘পাঁশকুড়া’র মাকে ফিরে পেলো সন্তানরা

- Advertisement -spot_imgspot_img
রাস্তা থেকে উদ্ধারের দিন! লাঠি হাতে আঙুরবালা

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাস্তায় ইতস্তত ঘুরে বেড়ানো মানুষটি কারও না কারও মা কিংবা বাবা। হঠাৎই কোনও মনোবিকলনে ঘর হারিয়েছেন তিনি। স্মৃতি হারিয়েছেন, হারিয়েছেন পরিবার। পরিবার তাঁকে খুঁজে খুঁজে হয়রান কিন্তু তিনি কিছুই মনে করতে পারেননা তাই কোনও বিকারও নেই তাঁর। এক সময় প্রিয়জনকে খুঁজে না পেয়ে আশা ছেড়ে দেয় পরিবার। জন্ম নেন একজন স্থায়ী ভবঘুরে। চিরতরে হারিয়ে যান। কিন্তু কখনও কখনও একটা মিরাক্যাল, একটা ম্যাজিক হয়ে যায়। সেরকমই এক ম্যাজিক হয়ে গেল পূর্ব মেদিনীপুরের আঙুরবালা ভৌমিকের জীবনে। সে গল্প সব হারিয়ে সব ফিরে পাওয়ার।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

ঘটনা গত ২৬শে এপ্রিল। পশ্চিম মেদিনীপুরের তাপমাত্রা সেদিন ৪৩ ডিগ্রী ছুঁইছুঁই। প্রচন্ড দাবদাহে কাঁপছে জেলা। সেই মহা তাপমানের দিনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল-চন্দ্রকোনা রাজ্য সড়কের ক্ষীরপাই অংশের হালদার দিঘী এলাকা থেকে ক্ষীরপাই ফাঁড়ির পুলিশ ও চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে উদ্ধার করা হয় এক পথবাসী ভবঘুরে মহিলাকে।

ঘাটাল হাসপাতালে মায়ের সাথে শ্রীমন্ত ও অনিমা

চন্দ্রকোনা ১ ব্লকের যুগ্ম বিডিও দেবাশিস গায়েন এবং ক্ষীরপাই ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক প্ৰশান্ত কীর্তনিয়ার উদ্যোগে দুপুর বেলায় এই উদ্ধার কার্য চলে। সেদিন স্থানীয় মানুষ দেখেছিলেন, বোধবুদ্ধি না থাকায় কিছুতেই ওই মহিলা পুলিশের গাড়িতে উঠতে রাজী হচ্ছিলনা। মানুষের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক না থাকায় অজানা ভীতি ও সন্দেহ হয়ত কাজ করেছিল তাঁর মধ্যে। নিজের মত করে জীবন যাপনে অভ্যস্ত ওই মহিলা সভ্য মানুষের এ হেন তৎপরতাকে মেনে নিতে পারছিলেননা। তীব্র বিরক্তি ও ক্রোধ ফুটে উঠতে দেখা যায় তাঁর মধ্যে।

মা, বাড়ি চলো

ফাঁড়ির মহিলা পুলিশ কর্মীরা অনেক বুঝিয়ে তাঁকে গাড়িতে তুললেও বারবার তাকিয়ে ছিলেন তাঁর ছেঁড়া জামা কাপড় পরিধান ইত্যাদির দিকে। যেন মনে করেছিলেন উচ্ছেদ করা হচ্ছিল তাঁকে। পরম মমতাভরে বারবার আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইছিলেন ফেলে যাওয়া ভাঙা থালা বাসনগুলিকে। তারপর দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় তাকে পুলিশ গাড়িতে তুলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ক্ষীরপাই হাসপাতালে।

পুলিশ আর প্রশাসনের সেই মানবিক ভূমিকা প্রকাশিত হয়েছিল বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। ‘KGP-বাংলা’ও প্রকাশ করেছিল সেই খবর। সংবাদ মাধ্যমে সেই খবর দেখার ও পড়ার পরে ঘাটাল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আঙুরবালার পরিবার। পুলিশও বাড়িয়ে দেয় সাহায্যের হাত। তারপর নিজের নিখোঁজ মাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল তার ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পাঁশকুড়া থানার বৃন্দাবনচক এলাকার বাসিন্দা আঙুরবালা প্রায় তিন মাস আগে হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে মানসিক অবসাদগ্রস্ত মহিলা নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তিন মাস ধরে বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ও অন্যান্য জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও একপ্রকার আশাই ছেড়ে দিয়েছিল তার ছেলে শ্রীমন্ত ভৌমিক ও মেয়ে অনিমা মন্ডল সহ সকলেই।

সোমবার রাতে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের সামনে আঙুরবালার ছেলে শ্রীমন্ত ভৌমিক জানান, ” আমরা ধরেই নিয়েছিলাম মা হয়তো আর জীবিত নেই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট এবং ছবি দেখে আমরা জানতে পারি পুলিশের উদ্যোগে মাকে উদ্ধার করে অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। এরপরই আমরা ঘাটাল মহকুমা পুলিশের সাথে আমরা যোগাযোগ করি। পুলিশের কথা মত ঘাটাল হাসপাতালে এসে পৌঁছে দেখি ইনি আমাদেরই মা।পুলিশকে আবেদন জানাই যে মা কে আমরা নিয়ে যেতে চাই। ঘাটাল থানায় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এবার আমরা মাকে বাড়ি নিয়ে যাব।”

শ্রীমন্ত ও অনিমা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকেও। অনিমা বলেছেন, ” পুলিশ ও প্রশাসন যদি সেদিন আমাদের মাকে উদ্ধার না করতেন হয়ত তিনি রাস্তাতেই মারা যেতেন। আমরা জানতেই পারতামনা। ঠিক তেমনই মিডিয়ায় যদি সেই খবর না বের হত, যদি মায়ের ছবি না প্রকাশ হত আমরা জানতেই পারতামনা মায়ের কথা। পাশাপাশি হাসপাতালে যাঁরা এতদিন আমার মায়ের দেখ ভাল করেছেন সেই চিকিৎসক, নার্স, পরিচারিকারদের কৃতজ্ঞতা জানাই।”

- Advertisement -
Latest news
Related news