Monday, April 15, 2024

Ghatal: যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে বছরের পর বছর বাপের বাড়িতে ! দেবীপক্ষের মুখে লক্ষ্ণী সরস্বতীকে নিয়ে স্বামীর বাড়ির অধিকার চেয়ে দুয়ারে উমা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ পিতৃপক্ষ শেষে আসতে চলেছে দেবীপক্ষ! আকাশে বাতাসে বাজছে আলোর বেণু! পুজো পুজো গন্ধে মাতোয়ারা বাঙালি। এসময়ে স্বামীর বাড়ি নয় বাপের বাড়িতেই থাকতে চায় মেয়ে। মায়ের কাছে বসে সমবৎসরের বারোমাস্যা উগরে দেয় মেয়ে। কিন্তু বারো মাস ৩৬৫ দিন যে মেয়েকে বাপের বাড়িতেই থাকতে হয় তাঁর গতি কী হবে? ঠিক যেমনটা পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার ‘ উমা ‘ মৌমিতা ঘোড়াই! বছর উন্ত্রিসের মৌমিতার অপরাধ সে একই সাথে যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছিল। আর তারপর থেকেই শ্বশুর বাড়ি থেকে দুই কন্যা সহ বিতাড়িত সে। গত প্রায় ৬ বছর বাপের বাড়িতেই বাস। বুধবার অভাগানী মায়ের সাথে এসেছে ফুটফুটে সেই মেয়ে দুটি কিন্তু মৌমিতার জন্য যেমন দরজা খোলেনি তাঁর শ্বশুর বাড়ির ঠিক তেমনি ওই দুই ছোট্ট উমার জন্য দরজা খোলেনি বাপের বাড়ির। বাবা, দাদু, ঠাকুমা কিংবা কাকা এসে বরণ করে ঘরে তোলেনি তাঁদের। এমন কী তেষ্টা পেলে জল চেয়ে খেতে হয়েছে পাশের বাড়ি থেকে। দেবী আসছে, মাটির তৈরি মৃন্ময়ীকে বরণ করে নিতে তৈরি হচ্ছে বাঙালি কিন্তু রক্তে মাংসের উমারা সকাল থেকে না খেয়ে না দেয়ে দাসপুর থানার বেলিয়াঘাটা গ্রামে নিজের বাড়ির দুয়ারে হা পিত্যেশ করে বসে রয়েছেন। দরজা খোলেনি। মেয়ে হয়ে জন্মানোটা যে কত অপরাধের তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ওই তিন কন্যা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে দাসপুর থানারই রানিচক গ্রামে বাপের বাড়িতে আর পাঁচটা মেয়ের মতই বেড়ে উঠেছেন মৌমিতা। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে হিসাবে বাবার আলাদা আদরের ছিলেন। ১৯ বছরে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবেন মৌমিতার বাবা হরেকৃষ্ণ ভৌমিক। হরেকৃষ্ণ জানিয়েছেন, “ছেলে হিসেবে আমার জামাই বিদ্যুৎ ঘোড়াইকে খুব একটা পছন্দ হয়নি কিন্তু তার বাবা স্বদেশ এবং মা বীণা ঘোড়াই আমাকে বলেছিলেন তাঁদের কোনোও মেয়ে নেই তাই আমার মেয়েকে তাঁরা তাঁদের মেয়ের মতই রাখবেন। ঘোড়াই পরিবার বেশ সম্ভ্রান্ত, মেয়ে আমার সুখে থাকবে মনে করেই শেষ অবধি বিয়েতে রাজী হয়ে যাই। কিন্তু কিছুদিন যেতেই জামাই এবং তার পরিবারের চরিত্র খুলে যায়। কারনে অকারণে মেয়ের ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু হয়। যদিও মেয়ে আমাদের প্রথম প্রথম এসব কিছু জানায়নি। কখনও বিষয়টি কানাঘুষো শুনেছি, ভেবেছি আসতে আসতে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু মেয়ে আমার দুই জমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর থেকেই সেই অত্যাচার চরমে ওঠে। শিশুদের শরীর খারাপ হলে ডাক্তার দেখানো হতনা, বাড়াবাড়ি হলে ওঝার কাছে নিয়ে যেত। অনেক বার আমরা গিয়ে বাচ্চাদের ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করেছি। এরকমই চলছিল, মেয়েকে মারধর করা হত। বছর ছয়েক আগে মেয়েকে একবার নিজের কাছে নিয়ে গেলাম। কিন্তু তারপর থেকে আর তাকে নিজের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।”

দুই মেয়েকে নিয়ে মনোরম দোতলা শ্বশুরবাড়ির বন্ধ দরজার বাইরে বসে মৌমিতা জানিয়েছেন, ” স্বামী ছাড়াও আমাকে মারধর করেছেন শ্বশুর শাশুড়ি দেওর। গোটা পরিবারই চায় আমি যেন না থাকি। এই ছ’বছরের বারবার শ্বশুর বাড়ি এসেছি কিন্তু আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রতিবার কুকুরের মত তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই মেয়ে জন্ম দেওয়ার পর থেকেই প্রচন্ড মারধর করা হত আমাকে। মেরে আমাকে রক্তাক্ত করে দেওয়া হয়েছে। চোয়াল কেটে দেওয়া হয়েছে অস্ত্র দিয়ে। কিন্তু এখন আমার দুই মেয়েকে নিয়ে আর আমি ফিরে যেতে রাজি নই। ওরা দরজা না খুললেও আমি আমার মেয়েদের নিয়ে এখানেই বসে থাকব।” সাংবাদিকদের আবাক করে দিয়ে মৌমিতা জানিয়েছেন, বিষয়টা পুলিশ অবধি জানে। একবার থানায় জানানোর পর উভয়পক্ষকে থানায় ডেকেছিল পুলিশ। আমরা গিয়েছিলাম কিন্তু ওরা আসেনি। আশ্চর্যের বিষয় হল তারপরও পুলিশ ওদের কিছুই বলেনি, কোনও ব্যবস্থাই গ্রহন করেনি।”
ঘটনার খবর পেয়ে ঘোড়াই বাড়িতে গিয়ে পৌঁছায় পুলিশ। কিন্তু না সাংবাদিক না পুলিশ কারও সামনেই বেরিয়ে আসেনি ঘোড়াই পরিবারের সদস্যরা। মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর রাজ্যে নিজের বাড়ির সামনে নিজের ও মেয়েদের অধিকারের দাবিতে বসে রয়েছেন মৌমিতা।

- Advertisement -
Latest news
Related news