Monday, June 17, 2024

MIdnapore: পশ্চিম মেদিনীপুরের স্কুলে ভোজের অনুষ্ঠানকে ঘিরে চরম বিক্ষোভ! আড়ালে তৃনমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আভাস

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোজের অনুষ্ঠানকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা তৈরি হয়ে রয়েছে।শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আটকে রাখা থেকে শুরু করে ৩ স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ করে দেওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। মঙ্গলবার পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এলাকায় এখনও যথেষ্ট উত্তেজনা বহাল রয়েছে। আর এই ঘটনাকে ঘিরে শাসকদলের দ্বন্দ্বই সামনে চলে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর-১ চক্রের মাইপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযোগ বিক্ষোভের পর তিনদিন স্কুল বন্ধ, স্কুলে মদ মাংস হয়েছে বলে চাপ দিয়ে প্রধান শিক্ষককে লিখিয়ে নেওয়া হয়ছে বলে জানা গেছে। শেষ অবধি শিক্ষকরা পুলিশের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

ঘটনাটির বহিঃপ্রকাশ ঘটে সোমবার। ওই দিন সবিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারা পৌঁছানোর পরই বহুসংখ্যক গ্রামবাসী প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। সেই প্ল্যাকার্ডগুলিতে লেখা ছিল , ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মদ-মাংস হবে কেন? জবাব চাই, জবাব দাও।’ সেই সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা এও অভিযোগ করেন যে , শনিবার স্কুল চত্বরেই একটি ছাগল কেটে রান্না খাওয়ার পাশাপশি মদেরও আসর বসে ছিল। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটবে কেন? তাঁরা তারই প্রতিবাদ করছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ‘আমাদের স্কুলে প্রতি বছর শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে প্রীতিভোজ হয়। এবার স্কুলের এক শিক্ষক করোনাকালে বিয়ে করেছেন। তাই তাঁকে আমাদের চক্রের (সার্কেলের) কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা খাওয়ানোর আবদার করেন। উনি খাওয়াতে রাজি হন। তারপর ভিইসি (ভিলেজ এডুকেশন কমিটি)-র সঙ্গে আলোচনা করে গত শোনিবার তারিখ ঠিক করা হয়। কমিটিকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রামের বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সদস্যরাই খাওয়াদাওয়ার উদ্যোগ নেন। কেনাকাটা থেকে আমন্ত্রন সবকিছু তাঁরাই করেছেন। শিক্ষক-শিক্ষিকারা শুধু খেয়েছেন মাত্র। এখানে গ্রাম কমিটি সহ অন্য স্কুলের ১২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাও আমন্ত্রিত ছিলেন। শনিবার শিক্ষকদের এই খাওয়া দাওয়ার পর সোমবার পড়ুয়াদের জন্যও ওই প্রীতিভোজের ব্যবস্থা ছিল। সেইমত সরঞ্জাম কেনাকাটা করাও হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভের কারনে সেই অনুষ্ঠান করা যায়নি।’

স্কুলের এক শিক্ষক জানিয়েছেন, ‘ গোটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন গ্রাম শিক্ষা কমিটির সদস্যরাই। ওই শিক্ষক শুধু টাকা দিয়েছিলেন। প্রায় ৪৫ জন ওখানে খাওয়া দাওয়া করেছেন। কিন্তু মদের আসর ইত্যাদির কোনও প্রশ্নই উঠেনা। কেউ ওখানে মদের বোতল পেয়েছেন বা কেউ ভিডিও, ছবি ইত্যাদি করেছেন এমন কোনও প্রমান দেখাতে পারলে এই অভিযোগ মেনে নিতাম। গোটা বিষয়টাই গ্রামেরই দুই শাসকদল অনুগত গোষ্ঠীর গোলমাল। আগের গ্রাম শিক্ষা কমিটিতে যাঁরা ছিলেন তাঁরা আমন্ত্রিত হননি। সম্ভবতঃ সেই রাগ থেকেই পরের কমিটির লোকেদের জব্দ করতে এই কল্পিত অভিযোগ করে মানুষকে ক্ষেপানো হয়েছে। এবং বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে শিক্ষকদের। শিক্ষকদের হেনস্থা করার জন্যই এক গোষ্ঠী এই বিক্ষোভ করেছে।’

স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এও বলেন, শুধু বিক্ষোভ দেখানো নয়। ছাত্রছাত্রীদের বের করে দিয়ে, স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে আমাদের ঘিরে রাখে। তারপর স্কুলে মদ মাংসের আসর বসেছিল বলে প্রধান শিক্ষককে দিয়ে লিখিয়ে নেওয়া হয়! ঘটনায় প্রধান শিক্ষক স্বপন মিশ্র অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েকজন এলাকাবাসীও বলেন, বয়স্কপ্রধান শিক্ষিক-কে মানসিক ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। বার বার অনুরোধ করার পরেও তাঁকে ছাড়া হয়নি।  ঘটনা প্রসঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বিদ্যালয় সংসদের সভাপতি কৃষ্ণেন্দু বিষই বলেন, “সমাজে এতটা অবক্ষয় এখনও হয়নি, যে শিক্ষকরা স্কুলে বসে মদ খাবেন। তবুও বিষয়টি আমাদের মত করে দেখা হচ্ছে। ’

- Advertisement -
Latest news
Related news