Sunday, April 14, 2024

Midnapore Mam killed: দিদি কিছু মিশিয়েছে, বলেছিল বোন! ‘পাকা’ মেয়ের কথা শোনেননি মা! কী মিশিয়েছিল মেয়ে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: মেয়েকে শাসন করতেন কিন্তু ভালো বাসতেন প্রচুর কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা এটা মনে প্রানে বিশ্বাস করতেন যে আর একটু বড় হলে নিজের ভুল বুঝতে পারবে আর মায়ের কথা মেনেই ‘প্রেম প্রেম’ পাকামি ছেড়ে পড়াশুনায় মন দেবে মেয়ে। মায়ের সেই বিশ্বাস এতটাই প্ৰগাঢ় ছিল যে মেয়ে তাকে মারার পরিকল্পনা করছে এমনটা তাঁর কল্পনাতেই আসেনি। আর সেই কারণেই ছোট মেয়ে যখন মাকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে দিদি তাঁর পানীয়তে কিছু মিশিয়েছে তা বিশ্বাস করেননি। বরং ছোট মেয়ের পাকামিকে মৃদু ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছেন।মেদিনীপুর শহরের পাটনা বাজারে অবস্থিত প্রতিষ্ঠিত স্বর্ণব্যবসায়ী পরিবারে নাবালিকা মেয়ের হাতে ঘাতক ওষুধ মেশানো পানীয় খেয়ে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এসেছে এমনই একটি অজানা তথ্য।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

জানা গেছে সিবিএসসি বোর্ডের মাধ্যমিক ওই পরীক্ষার্থীনী নাবালিকা মেয়ে যখন মায়ের জন্য ওই ঘাতক পানীয় তৈরি করেছিল তা দেখে ফেলেছিল তার ১০ বছরের ছোট বোন। সে নাকি সেই ঘটনা তার মাকেও বলেছিল। বলেছিল, ‘মা দিদি ওই গ্লাসে কিছু মিশিয়েছে, তুমি খেয়োনা।’ কিন্তু মা তাকে ধমকে দিয়ে বলেছিল, তুই পাকামি করিসনা। আমি বুঝে নেব। ছোট মেয়ে চুপ করে গেছিল শুধু তাই নয়, মায়ের ওই ধমকে বিষয়টি তার মাথা থেকে চলেও যায়। পয়লা বৈশাখের দিন মায়ের মৃত্যুর পরও বিষয়টি তার মাথায় আসেনি। আসার কথাও নয়, মায়ের অসুস্থ হয়ে পড়া, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হওয়া, কান্নাকাটি ইত্যাদির মধ্যে তার স্মৃতিও চলে যায়।

কিন্তু ছোট বোনের সেই স্মৃতি ফিরে এসেছিল আবার ১৩দিনের মাথায় যখন তার দিদির ফোনের চ্যাট থেকে পরিবারের সবাই জানতে পারল যে প্রেমিকের কথা মতই দিদি তার মায়ের পানীয়তে কিছু মিশিয়ে দিয়েছিল। যখন প্রেমিককে লেখা সেই চ্যাট প্রকাশ হল যে, ‘তুমি যেটা দিয়েছিলে সেটা খাইয়ে দিয়েছি, কাজ সাকসেসফুল হয়েছে।’ যখন সেই চ্যাট জানিয়ে দিল যে, দিদিই মাকে পানীয়ের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে মাকে খুন করেছে। যখন সেটা নিশ্চিত হওয়ার পর ন বাড়ির সব্বাই তাই নিয়ে আলোচনা করছে তখনই ছোট মেয়ে পরিবারকে জানালো যে, গ্লাসের পেছন দিক দিয়ে দিদিকে সে কিছু গুঁড়ো করতে দেখেছিল। সেই গুঁড়ো সে মায়ের পানীয়তে মেশাতেও দেখেছিল। কিন্তু মা সেটা বিশ্বাস করেনি। যদি সত্যি সত্যি ছোট মেয়ের কথা মা শুনতেন, যদি একটুও সন্দেহ করতেন তাহলে হয়ত এই পরিণতি হতনা।

কী ওষুধ ওই নাবালিকাকে তার মায়ের পানীয়ে মেশানোর জন্য দিয়েছিল তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। নাবালিকার বাড়ি থেকে মোট ৩২টি স্ট্রিপের যে পাতা পুলিশ উদ্ধার করেছে তারমধ্যে ১০টি খালি ছিল। অর্থাৎ ওই ১০টি ওষুধ গুঁড়ো করে মেশানো হয়েছিল। ওষুধের নাম পুলিশ গোপন রেখেছে। তবে ওই ওষুধ সাধারণ ঘুমের ওষুধ নয় কারন ওষুধটি ১০মিলিগ্রাম শক্তি সম্পন্ন ছিল। সাধারণ ঘুমের ওষুধ শতাংশ দিয়ে শুরু হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য, ঘুমের ওষুধ ছাড়াও অন্য স্নায়বিক বা অন্য কোনও রোগের জন্য ব্যবহৃত না এমন অনেক ওষুধ আছে যা অধিক পরিমান একসঙ্গে খাওয়ালে তা থেকে এই ধরনের বিপজ্জনক ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই ওষুধ নাবালিকার প্রেমিক কোথায় পেল, কে তাকে এই ধরনের ওষুধ প্রয়োগের কথা বলেছিল ইত্যাদি নানা বিষয় জানার জন্য পুলিশ প্রেমিক জিৎ আঢ্য কে নিজস্ব হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news