Saturday, May 25, 2024

Anirban Bhattacharya: পশ্চিম মেদিনীপুরে সিপিএম প্রার্থী অভিনেতা অনির্বানের জ্যাঠামশাই! পাল্টা দিতে নাজেহাল তৃনমূল

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলা থিয়েটার আর চলচ্চিত্র জগতের এই সময়ের সর্বাপেক্ষা প্রতিভাধর অভিনেতা অনির্বান ভট্টাচার্যের জ্যাঠামশাই বিদ্যুৎ ভট্টাচার্যকে মেদিনীপুর পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী করে মাস্টারস্টোক দিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সিপিএম। সেই স্টোকের ধাক্কা যে ওই এলাকায় প্রার্থী খুঁজতে রীতিমতো নাজেহাল হতে হচ্ছে তৃনমূল কংগ্রেসকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেদিনীপুর পুরসভার জন্য নিজেদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে মেদিনীপুর জেলা সিপিএম। দেখা গেছে মোট ২৫টি ওয়ার্ড সম্বলিত মেদিনীপুর পুরসভায় ১৬টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে সিপিএম এবং ৪টি আসনে রয়েছে সিপিআই। বাকি ৫টি আসন রাখা হয়েছে নির্দল এবং ধর্মনিরপেক্ষ দলের জন্য। সেই খানে কংগ্রেস আসবে কীনা এখন ঠিক নেই তবে কংগ্রেসের ৪টি জেতা আসন ছেড়েই এই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে যার মধ্যেই রয়েছেন অনির্বান ভট্টাচার্যর জ্যাঠামশাই।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

দেখা যাচ্ছে শহরের সবচেয়ে অভিজাত এলাকা বিধাননগর ও মিত্র কম্পাউন্ডের একাংশ নিয়ে গঠিত ৫নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছে পেশায় প্রাক্তন ব্যাঙ্ক কর্মচারী বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য। এই এলাকাতেই বেড়ে ওঠা আজকের কলকাতার মঞ্চ ও রুপালি পর্দা দাপানো অনির্বানের। জ্যাঠামশাই বিদ্যুৎ ভট্টাচার্যের বাড়ির সাথে এই পাড়াতেই একসময় অনির্বান কাটিয়েছেন বাবা মা এবং বোনের সঙ্গে। তাঁর পড়াশুনাও এখান থেকেই। বর্তমানে লাগোয়া শরৎপল্লীতে বাড়ি করলেও কলকাতা থেকে ফিরলে বাড়ির মতই জমিয়ে আড্ডা দেন জ্যাঠামশাইয়ের বাড়িতেও। দুর্গাপুজোয় এখনও এই বিধাননগরের মাঠে আড্ডা দেন তিনি। সেই বিদ্যুৎ ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করে চমকে দিয়েছে সিপিএম।

যদিও সিপিএমের কথায় এটা কোনও চমকই নয়। সিপিএম জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বিজয় পাল জানিয়েছেন, ‘বিদ্যুৎদা দীর্ঘদিনের বাম আন্দোলনের কর্মী। ব্যাঙ্ক কর্মচারী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে জেলার সমবায় বাঁচাও কমিটির আহ্বায়ক। ওনার ওই এলাকায় বসবাস সুতরাং এত ভালো প্রার্থী পাব কোথায়?’
এদিকে এই ওয়ার্ডে তৃনমূলের জয়ী কাউন্সিলর মৌ রায় কে আর দাঁড় করাতে রাজী নয় দলের একাংশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃনমূলের নেতা কর্মীদের কাটমানি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তখন মৌ রায়ের বাড়িতে কাটমানি ফেরৎ চেয়ে হাজির হয়েছিলেন কিছু ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের হয় থানায়। ক্ষুব্ধ মৌ রায় তখন বলে ফেলেন, ‘দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এমন বলছেন যেন আমরা সবাই চোর আর উনি একাই সৎ।’ বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট জলঘোলা হয়। দলের একাংশ ওঁকে প্রার্থী হিসেবে মানতে রাজি নয়। অন্যদিকে আসনটি অসংরক্ষিত হওয়ায় দলের পুরুষ নেতা কর্মীরা আসনটি মহিলাদের জন্য ছাড়তে রাজি হচ্ছেনা।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে এলাকাটি মূলতঃ চিকিৎসক, অধ্যাপক, শিক্ষক ইত্যাদির বসবাস। তাই দল চাইছে সেরকমই কাউকে দাঁড় করাতে। মেদিনীপুর শহরের নেতা সৌমেন খান কিছুদিন ধরেই মরিয়া চেষ্টা করছেন এলাকার এক জনপ্রিয় শিশু বিশেষজ্ঞকে দাঁড় করানোর জন্য। যদিও শেষ অবধি ওই চিকিৎসক শেষ অবধি রাজি হননি বলেই জানা গেছে। সেক্ষেত্রে অন্য বিকল্পের সন্ধানে তৃনমূল কংগ্রেস। এদিকে বিদ্যুৎ ভট্টাচার্যকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে উচ্ছসিত বামকর্মীরা এদিন নেমে পড়েছেন দেওয়াল লিখনে। বিধাননগর ও মিত্র কম্পাউন্ডের আশি শতাংশ দেওয়ালই লিখে ফেলেছেন তাঁরা। শুক্রবার থেকেই প্রার্থীকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচারে নামছেন তাঁরা। বলাবাহুল্য সেই প্রচারে না থেকেও থেকে যাবেন অনির্বান।

 

- Advertisement -
Latest news
Related news