Friday, April 19, 2024

Jangalmahal: অব্যাহত বজ্রপাতে মৃত্যু! জঙ্গলমহলে তরুণ সহ মৃত তিন ! ১ মাসে বাজের ছোবলে মৃত্যু সাতজনের, শালবনীতেই ৫ জন

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: মারাত্মক রকমের বৃষ্টিহীনতার শিকার সমগ্র জঙ্গলমহল সহ দক্ষিণবঙ্গ। প্রায় অঘোষিত খরা! পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে বর্ষার চাষ বড়সড় ধাক্কার মুখে। কিন্তু বৃষ্টি হলেই ভয়াবহ বজ্রপাত। আর প্রতিটি বজ্রপাতেই একাধিক মৃত্যু। ব্যতিক্রম হলনা শনিবারও। এদিন দুপুরে হঠাৎ বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে উৎপন্ন বজ্রপাতে মৃত্যু হল এক তরুণ সহ ৩ জনের। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে ৩টি মৃত্যুই হয়েছে কৃষিকাজ সম্পন্ন করার সময় মাঠে। ২জনের মৃত্যু হয়েছে মাঠে চাষের কাজ করার সময় আর ১জনের মৃত্যু হয়েছে কৃষিকর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে যাওয়ার সময়। তিনটি মৃত্যুই হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্তর্ভুক্ত জঙ্গলমহলের শালবনী থানা এলাকায়। মৃতদের মধ্যে রয়েছে এক ১৯ বছরের তরুণ। আর এই ঘটনা মিলিয়ে গত ১ মাসে পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে যারমধ্যে শুধু শালবনীতেই মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে শনিবারের বজ্রপাতের ঘটনায় ২টি পৃথক জায়গায় ৩ মৃতরা হলেন অমৃত মাহাত। ১৯ বছর বয়সী অমৃতের বাড়ি শালবনী থানার ভীমপুর এলাকার হাতিলোট এলাকায়। ওই কৃষকদের পরিবারের ক্ষেতে কৃষিকর্মে নিযুক্ত ছিলেন যে সমস্ত কৃষি শ্রমিক তাঁদের জন্যই দুপুরের খাবার নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। দুপুর দেড়টা নাগাদ হঠাৎই কালো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ। মৃদু বৃষ্টির সাথে শুরু হয় বজ্রপাত। সেই সময় খোলা মাঠে বাজের সংস্পর্ষে চলে আসেন তিনি এবং ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। ওই সময় কৃষি কাজ ফেলে ছুটে আসেন কৃষি শ্রমিকরা। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

প্রায় একই সময়ে অন্য ঘটনাটি ঘটে শালবনী থানারই
বাঁশবাঁধি নামক এলাকায়। সেখানেও কৃষিজমিতে ধানের চারা রোপনের কাজ করছিলেন কয়েকজন কৃষক। ভয়াবহ বজ্রপাতে লুটিয়ে পড়েন তিনজন কৃষক। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ৫৯ বছর বয়সী শঙ্কর মাহাত এবং ৪৫ বছরের শ্রীমন্ত দোলাইকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্য কৃষকটি অবশ্য প্রাথমিক চিকিৎসায় সাড়া দেন। তিনি বর্তমানে বিপদমুক্ত বলেই জানা গেছে। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জেলা প্রশাসনের তরফে মৃতদের পরিবারগুলিকে সরকারি নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য চলতি বর্ষার মরসুমে ভয়াবহ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছিল ২০শে জুন। ওই দিন গোয়ালতোড় থানার জোগাড়ডাঙায় সুকুমার মুর্মু ও যশোদা মুর্মু নামে এক দম্পত্তির মৃত্যু ঘটে। তাঁদের তিনবছরের শিশু সন্তান ওই ঘটনায় অনাথ হয়ে যায়। পরের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার স্বাক্ষী হয় শালবনী থানা। ১লা জুলাইয়ের বজ্রপাতে মৃত্যু হয় বড় কলসীভাঙা গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ আমেনা বিবির। বজ্রপাতের মুহূর্তে পোষ্য ছাগলগুলিকে মাঠ থেকে ফেরাতে গেছিলেন তিনি। অন্যদিকে ওই একই সময়
কর্নগড়ে খাঁদু হাঁসদা নামক এক ১০ বছরের বালক গরু চরানোর সময় তড়িদাহত হয়ে প্রাণ হারায়। চলতি মরসুমের বজ্রপাত জনিত দুর্ঘটনা এড়াতে বৃষ্টির সময় খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি আধিকারিকরা।

- Advertisement -
Latest news
Related news