Monday, April 15, 2024

Debra: ডেবরায় সমবায় সমিতির বেনিয়মকে কেন্দ্র করে তৃনমূলের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব চরমে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: সমবায় সমিতিতে বিপুল অংকের টাকার বেআইনি লেনদেনকে কেন্দ্র করে তৃনমূলের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা থানার অন্তর্গত পাটনা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির বেশকিছু বেনিয়ম নজরে এসেছে সমবায় সমিতি ডিরেক্টরের। আ্যসিসটেন্ট রেজিস্টার অফ কো-অপারেটিভের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে পাটনা সমবায় সমিতির সম্পাদক তথা তৃনমূল পরিচালিত ভাবনীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জগন্নাথ মুলার নামে কয়েকটি ধাপে ৫১লক্ষ টাকা ঋণ ধার্য হয়েছে আবার কয়েকটি ধাপে সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ এই ঋণ বাবদ কোনও সুদ মেটানো হয়নি। আবার জগন্নাথ মুলার আত্মীয়দের নামে ৫১লক্ষ ৮৭হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে যা আজ অবধি মেটানো হয়নি। এছাড়াও কয়েকজন বোর্ড সদস্য বা তাঁদের আত্মীয়দের নামে ঋণ অনুমোদন হয়েছে। সব মিলিয়ে কোটি টাকার বে-আইনি লেনদেন সহ বেশকিছু বেনিয়ম উঠে এসেছে এই রিপোর্টে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

বিষয়টি রবিবার পাটনা এলাকায় একটি প্রতিবাদ মিছিল ও অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ঘটনাক্রমে এই বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ করছেন তৃণমূলেরই একটি বড় অংশ। এলাকার প্রাক্তন প্রধান তৃনমূল নেতা বিশ্বজিৎ কবি, স্থানীয় ব্যক্তিত্ব গৌতম মাজি ইত্যাদিদের অভিযোগ জগন্নাথ মুলা তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার তছরুপ করেছেন। এই নিয়ে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। গড়ে তোলা হয়েছে পাটনা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি বাঁচাও কমিটি।

অভিযুক্ত ওই সমবায় সমিতির সম্পাদক তথা স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জগন্নাথ মুলা জানিয়েছেন, ” আমি এলাকায় এক সময় তৃনমূলের প্রধান ছিলাম। দলের একটা অংশ আমাকে বাদ দিয়ে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা তৈরি করে যাতে তৎকালীন প্রধান দুর্নীতিগ্রস্ত বিশ্বজিৎ কবির মত লোকেরা ছিলেন। সেই প্রার্থী তালিকা চ্যালেঞ্জ করে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিলাম প্রতিটি আসনে। আমরা জয়ী হয়ে পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করি এবং ফের দলে ফিরে যাই। বর্তমান বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর আমাকে বিশেষ স্নেহ করেন। এটাই ওই হেরো পার্টিদের সহ্য হচ্ছেনা। তাই একটা চক্রান্ত শুরু হয়েছে যাতে সামিল হয়েছেন এই সমবায় সমিতির ম্যানেজার। তিনি এক প্রমোটারকে ব্যক্তিগত দায়িত্বে টাকা দিয়েছেন ব্যবসার জন্য। যা আমার নামে লোন দেখানো হয়েছে। আমি লোনের জন্য আবেদনও করিনি, লোন গ্রহণ করিনি, পরিশোধও করিনি। লোন নেওয়ার জন্য আমার কোনও আবেদনপত্রই জমা পড়েনি সমিতিতে কারন আমি জানি যে সম্পাদক হিসাবে আমার লোন নেওয়ার অধিকারই নেই।”

সমবায় সমিতির বোর্ডের চেয়ারম্যান নিতাই জানা ও বোর্ড সদস্যা চম্পা সামন্তও জানিয়েছেন, ‘কোনও লোন অনুমোদন করতে গেলে বোর্ডের মিটিংয়ে তা অনুমোদন করাতে হয়। আমরা সম্পাদকের তেমন কোনও আবেদনপত্রই পাইনি। তাহলে তাঁর নামে ঋণ অনুমোদন হল কী করে ভেবে আশ্চর্য হচ্ছি। গোটা বিষয়ের মধ্যে রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি আমরা।’ জগন্নাথ মুলা বলেন, ” ওই ম্যানেজার গত আড়াই মাস ধরে সমিতির অফিসে আসছেননা। অথচ শনিবার আমার বাড়িতে গিয়ে বলেছেন যে তিনিই আমার নামে লোন তুলে অন্যকে দিয়েছেন এবং এও বলেছেন যে ওই টাকা তিনি পরিশোধ করে দেবেন। পুরো বিষয়টি রেকর্ড করা আছে যা সময় মত প্রমান হিসাবে দাখিল করা হবে। গত বোর্ডে প্রচুর বেনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। সেটা যখন আমরা পূরণ করার চেষ্টা চালাচ্ছি তখনই এই সব পরিস্থিতির তৈরি করা হচ্ছে।’

- Advertisement -
Latest news
Related news