Sunday, April 14, 2024

পশ্চিম মেদিনীপুরে অভিনব কায়দায় কেপমারি দুষ্কৃতিদের! অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক খোয়ালেন ২লক্ষ টাকা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি যাওয়ার পথে ২লক্ষ টাকা খোয়ালেন এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রকাশ্য দিবালোকে ভরা বাজারে এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার গোপীগঞ্জ এলাকায়। ঘটনায় দাসপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই শিক্ষক। দাসপুর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে বৃদ্ধ ওই শিক্ষকের নাম প্রফুল্ল মাজি। তাঁর বাড়ি দাসপুর থানা আরিট এলাকায়।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বুধবার দিনের প্রথমার্ধেই গোপীগঞ্জ বাজারের একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্ক থেকে ২লক্ষ টাকা তুলেছিলেন প্রফুল্ল মাজি। সম্প্রতি নিজের বাড়ি নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছিলেন তিনি তাই তাঁর একসাথে অনেকটা টাকার দরকার হয়ে পড়ে। নিজের বাড়ি আরিট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে ওই ব্যাঙ্ক। প্রফুল্লবাবু সাইকেলে করেই যাতায়াত করেন। সাইকেলের হ্যান্ডেলে রাখা সবজির ব্যাগের মধ্যে তাঁর টাকার ব্যাগটি রাখা ছিল। সাইকেলে চড়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি খেয়াল করেন সাইকেলটি চলায় বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। সাইকেল থেকে নেমে দেখতে পান একটি দড়ি তাঁর সাইকেলের পিছনের গিয়ারে চেনের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি সাইকেল দাঁড় করিয়ে দড়ি ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

ওই সময় একটি বাইকে তিন যুবক হাজির হয় যার মধ্যে একটি যুবক বাজারের মধ্যে একটি দোকানে কিছু কেনার জন্য চলে আসে ক্রেতা সেজে। অন্য দুই যুবক বাইক নিয়ে প্রফুল্ল বাবুর সাইকেলের সামনে দাঁড়ায়। এই যুবকরা প্রফুল্লবাবুকে জিজ্ঞাসা করেন তারা তাঁকে দড়িটি ছাড়াতে সাহায্য করবে কিনা? স্বভাবতই প্রফুল্লবাবু তাঁদের সাহায্য চান। এক যুবক দড়ি ছাড়াতে গিয়ে প্রফুল্লবাবুকেও সেখানে ব্যস্ত ও মনোযোগী করে ফেলেন। অন্য যুবক সবজি ব্যাগ থেকে টাকার ব্যাগটি তুলে নেয়। এরপর ২জনে বাইকে চেপে সেই দোকানে চলে আসে যেখানে তৃতীয় যুবক কিছু কেনার অছিলায় ক্রেতা সেজে অপেক্ষা করছিল। তাকে বাইকে তুলে নিয়ে তিনজন চম্পট দেয়।

যে দোকানে তৃতীয় দুস্কৃতি ক্রেতা সেজে ঢুকেছিল সেই দোকানদার জানিয়েছেন, গোটা অপারেশন করতে দুষ্কৃতিরা মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেয়। ঘটনাটি আমাদের চোখের সামনেই ঘটল অথচ আমরা কিছু বুঝতেই পারলামনা। বাইক থেকে এক যুবক নেমে আমার দোকানে একটা ফেভিকলের কৌটা কিনতে এল। অন্য দুজনকে দেখলাম মাস্টার মশাইয়ের সাইকেলের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। আমি ফেভিকলের কৌটা নিয়ে হাজির হওয়ার মুখেই ওই দু’জন বাইক নিয়ে চলে এল এবং দোকানে থাকা যুবককে নিয়ে চলে গেল। ফেভিকল নিলনা। এরই মধ্যে মাস্টারমশাই এসে বললেন, তাঁর টাকার ব্যাগ খোয়া গেছে। মাস্টারমশাই আমাদের খুবই পরিচিত। সাথে সাথে ছুটলাম ওই যুবকদের খোঁজে কিন্তু ততক্ষণে ওরা মিলিয়ে গেছে।

দাসপুর পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি কেপমারিদের একটি চক্র সক্রিয় হয়েছে। শুধু দাসপুর নয় ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় এরা সক্রিয়। নানা কায়দায় মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা লুট করছে এরা। মাস খানেক আগে চন্দ্রকোনা থানা এলাকার একটি ভরা বাজারে খোদ দোকানদারকে বোকা বানিয়ে টাকা লুট করেছিল একটি দল। দোকানদারের কাছ থেকে একটি জিনিস কিনে কম টাকা দিয়ে চলে আসতে থাকে একজন। দোকানদার যখন ওই ব্যক্তিকে ধরতে দোকান থেকে বেরিয়ে ছুটছে তখন পাশে থাকা আরেকজন দোকানের ড্রয়ার থেকে টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। এরপর পাশাপাশি এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকে কোনও বাইকে চেপে পালিয়ে যায় এরা। দাসপুর পুলিশ ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের টাকা লুটের তদন্ত শুরু করেছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news