Monday, April 15, 2024

CHandrakona: ২বছর ধরে বন্ধ চন্দ্রকোনা হাসপাতালে প্রসূতি রোগীদের সিজার ও জরুরি অপারেশন,চরম হয়রানির শিকার প্রসূতিরা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: একমাত্র নর্মাল ডেলিভারি হলেই বাঁচোয়া নইলে ছুটতে হবে ঘাটাল কিংবা মেদিনীপুর। নামেই ৬০ শয্যার গ্রামীন হাসপাতাল আর নামেই রয়েছে ও.টি। কিন্তু অপারেশনের প্রয়োজনে যদি রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন হয় তবে যেতেই হবে ঘাটাল কিংবা মেদিনীপুর। কথায় কথায় যেখানে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারের বৈপ্লবিক সাফল্যের কথা প্রচার করা হয় তখন গত ২বছর ধরে এমনই চিত্র চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালের। অথচ এমনই জেলার মধ্যে বহু পুরানো,রোগী পরিষেবা ও পরিকাঠামোর দিক দিয়ে একসময় রাজ্যসরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে একাধিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার লাভ করেছে এই হাসপাতাল। আর এখন একজন আ্যনাস্থেসিস্ট বা অজ্ঞান করার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অভাবের যেন হাসপাতালটি নিজেই
অজ্ঞান হয়ে বসে রয়েছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

অথচ চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালে শুধুই চন্দ্রকোনার দুটি ব্লক নয় বর্তমানে গড়বেতা ও পাশের কেশপুর ব্লকের বহু গ্রামের মানুষ চিকিৎসার জন্য ভিড় জমায় এই ৬০ টি বেড সংখ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে। আগের তুলনায় হাসপাতালে প্রসূতি মহিলাদের চাপ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে, কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালে জরুরি প্রয়োজনে প্রসূতিদের সিজার বা অন্য কোনও অপারেশনের প্রয়োজন পড়লে সেই পরিষেবা ব্যাহত হয় এবং চরম হয়রানিতে পড়তে হয় রোগী ও তার পরিজনদের।

হাসপাতালে প্রসূতিদের জরুরি ভিত্তিতে সিজার বা কোনও জরুরি অপারেশনে অতিঅবশ্যই প্রয়োজন একজন অ্যানাস্থেসিস্ট।কিন্তু গত প্রায় দুবছর আগে চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালে একজন অ্যানাসস্থেসিষ্ট থাকলেও, তিনি স্থানান্তরিত হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় আপাতত বন্ধ সিজার ও সমস্ত পরিকাঠামো থাকলেও আটকে জরুরি অপারেশন।

এখন এই সমস্ত রোগীদের ৪০ কিমি দুরে মেদিনীপুর মেডিক্যাল অথবা ২৪ কিমি দূরে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে রেফার করে দিতে হয় হাসপাতালের চিকিৎসককে।গত দু’বছর আগে এইসমস্ত পরিষেবা ঠিক থাকলেও বর্তমানে বন্ধ থাকায় চরম ঝুঁকির ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে প্রসূতি রোগী থেকে জরুরি অপারেশনের রোগীদের।

চন্দ্রকোনার বিএমওএইচ ও হাসপাতালের একমাত্র প্রসূতি চিকিৎসক ডঃ গৌতম প্রতিহার বলেন, “প্রায় দু’বছর বন্ধ এই পরিষেবা। আমরা বিষয়টি জেলায় জানিয়েছি আশাকরি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।” তিনি স্বীকার করেছেন, এখন প্রসূতিদের সিজারের প্রয়োজন হলে ঘাটাল কিংবা মেদিনীপুর রেফার করতে হয়। তবে সমস্যা শুধু প্রসূতি রোগীদেরই নয়, গ্রামীণ হাসপাতালে অভাব অন্যান্য চিকিৎসকেরও।

বর্তমানে একজন বিএমওএইচ,২ জন জেনারেল ফিজিশিয়ান সহ মোট ৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালে।খোদ বিএমওএইচ ডঃ গৌতম প্রতিহার নিজে হাসপাতালের একমাত্র প্রসূতি চিকিৎসক,তিনিও কিছুদিন বাদেই অবসর নেবেন কাজ থেকে এমনটাই হাসপাতাল সূত্রে খবর।ফলে এখনই হাসপাতালের দিকে জেলা বা রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর নজর না দিলে অ্যানাসস্থেসিষ্টের পাশাপাশি প্রসূতি চিকিৎসকের অভাবেও আগামী দিনে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাও।

- Advertisement -
Latest news
Related news