Monday, April 15, 2024

Suvendu Left Party Group: পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির কাঁথায় আগুন! তীব্র গোষ্ঠী কোন্দলের মধ্যেই গ্রুপ থেকে ‘লেফট’ হয়ে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফল আশাভঙ্গের বেদনা ক্ষোভ হয়ে আছড়ে পড়েছিল আগেই। পরে সেই ক্ষোভ বিক্ষোভের ঝড় তুলেছে জেলায় জেলায়। জেলাগুলির সাংগঠনিক পদাকারীদের মনোনয়ন পর্ব শুরু হতেই খসে পড়ছে বিজেপির ‘পার্টি উইথ ডিফারেন্স’ বা অন্যরকম দলের চরিত্র। খোদ দিলীপ ঘোষ আর সুকান্ত মজুমদার যখন মুখোমুখি সমরে তখন জেলাগুলো কোন্দল ছেড়ে বের হয় কি করে? রবিবার সেই কোন্দল পাঁকই দুর্গন্ধ হয়ে বেরিয়ে এল পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক সাংগঠনিক কমিটির পদাধিকারী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। সেই কোন্দল এতটাই জোরালো হয়ে উঠেছে যে বিকাল থেকে বিজেপি সাংগঠনিক কমিটির হোয়াটস্যাপ গ্রুপ ছাড়তে শুরু করেছেন দলের বাঘা বাঘা নেতা ও বিধায়ক এবং শেষ অবধি সবাইকে চমকে দিয়ে গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রাম বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী!

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

রবিবার তমলুক সাংগঠনিক জেলার একটি সভা ঘোষণা হয়েছে যেখানে তমলুক সংসদীয় ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত ৯টি বিধানসভা ক্ষেত্রের ৪৪টি নগর মন্ডলের সভাপতির নাম। এই ঘোষণার পরই তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তপন ব্যানার্জী ও হলদিয়ার বিধায়িকা তাপসী মন্ডলকে। বিষয় নিজ নিজ অনুগামীদের ওই কমিটি গুলোর মাথায় বসাতে না পারা। ক্ষোভের আগুন বেশ কিছুদিন ধরেই চাড়া দিচ্ছিল বিশেষ করে হলদিয়া এলাকায়। হলদিয়ায় তাপসী মন্ডল উপস্থিত এরকম একাধিক কর্মসূচি এড়িয়ে যেতে দেখা গেছে জেলা সভাপতিকে। সিপিএম থেকে বিজেপিতে এসে তাপসী মন্ডলের বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই গুরুত্ব হারাচ্ছেন পুরানো দিনের কর্মীরা এমন অভিযোগ ছিলই। বর্তমান কমিটিতে হলদিয়া বিধানসভা এলাকার ৫জন প্রাক্তন সভাপতিকেই ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ফলে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। তপন ব্যানার্জী গোষ্ঠীর দাবি এসবই হচ্ছে তাপসী মন্ডলের সুপারিশ মেনে শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে।

বিক্ষোভের আঁচেই এদিন ৪৪ নগরমন্ডলের ৪টি মন্ডল সভাপতির নাম ঘোষণাই করা যায়নি ২টি হলদিয়া ও ২টি ময়না বিধানসভা ক্ষেত্রের। বলাবাহুল্য ময়নাতেও পুরানো নেতাদের ছেঁটে ফেলতে নবাগত বিধায়ক অশোক দিন্ডা কারসাজি করছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। ঘিয়ে আগুন পড়ার কাজ করে যখন জানা যায় হলদিয়ায় ঘোষিত দুটি মন্ডল সভাপতির মধ্যে হলদিয়া ১ নগর মন্ডলের সভাপতি হিসাবে স্নেহাশিস মাইতির নাম ঘোষিত হতে দেখা যায়। উল্লেখ্য এই স্নেহাশিস মাইতি হলেন কেশপুরের তৃনমূল বিধায়িকা শিউলি সাহার বোনপো। হলদিয়ার পুরানো নেতাদের সরিয়ে নন্দীগ্রাম কন্যা শিউলি সাহার বোনপোর মাধ্যমে শুভেন্দু-তাপসীরা হলদিয়া কব্জায় নিতে চাইছে এমন অভিযোগ ওঠে।

উল্লেখ্য, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই হলদিয়া পুরসভার নির্বাচন। স্বাভাবিক ভাবেই হলদিয়া পুরমন্ডলগুলির সভাপতির পদ দখলে রাখতে পারলে কাদের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী করা হবে তার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সহজ হবে। নিজ নিজ গোষ্ঠীর লোকেদেরই টিকিট দেওয়া সহজ হবে। ফলে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। এই দ্বন্দ্ব চলার মাঝেই একে একে সাংগঠনিক জেলার গ্রুপ ছাড়তে দেখা যায় ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্ডাকে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সবাইকে অবাক করে দিয়ে গ্রুপ ছাড়েন শুভেন্দু অধিকারী ও শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ নন্দীগ্রামের যুবনেতা তথা তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি সাহেব দাস। সব মিলিয়ে জমজমাট বিজেপির কোন্দল।

- Advertisement -
Latest news
Related news