Friday, April 19, 2024

Digha: দিঘায় উপচে পড়ছে ‘বাসন্তী ইলিশ!’ পৌষ মাস অকাল স্বাদের, সর্বনাশ দেখছেন বিজ্ঞানীরা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: আষাঢ়ি ইলিশ যেন উপচে পড়ছে চৈত্রের দিঘায় ! লোকে মজা করছে বাসন্তী ইলিশ বলে। যে ইলিশের আসার কথা ছিল বর্ষায় সে ইলিশের দেখা মেলেনি তখন। প্রায় গোটা বর্ষাকালটাই বাঙালির পাত হাহাকার করে গিয়েছে এক টুকরো দিঘার ইলিশের জন্য। যদিও রসনা অতৃপ্তই থেকে গেছে বাঙালি অথচ এই বসন্তে কোথা থেকে উঠে আসছে ঝাঁক ঝাঁক ইলিশ! ইলিশ পুরাণের চিরায়ত সূত্র অনুযায়ী রিমঝিম বৃষ্টি আর পূবালি বাতাসই নাকি ইলিশ আহ্বানের মন্ত্র। কিন্তু এখন না আছে বৃষ্টি আর না আছে পূবালি বাতাস তবে কেন ওরা আসছে? কোন মন্ত্রে এই অকাল সৈকত যাত্রা? অবাক হচ্ছেন মৎস্যচাষী, ব্যবসায়ী, ক্রেতা মায় মৎস্য আধিকারিকরাও। শুধু ইলিশ মিলছে বলেই নয়, স্বাদে গন্ধেও অতুলনীয় এই ইলিশ, আর আকারেও রীতিমত প্রমাণ সাইজের।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

সোমবার দিঘা মোহনার বেশ কিছু আড়তে দেখা মিলেছে ৫০০ গ্রাম থেকে ২কেজি ওজনের ইলিশ। কেজি প্রতি পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকায়। যেমন ১ কেজি ওজনের ইলিশের পাইকারি বাজারদর ছিল ৬০০ -৮০০ টাকায়। দেড় কেজি থেকে ২ কেজি ওজনের ইলিশ বিকিয়েছে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকায় আর ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ মিলছে ৫০০ টাকায়। না, শুধু সোমবার নয়, গত কয়েকদিন ধরেই আসছে ইলিশ। দিঘা ফিশারম্যান এন্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, ‘ গত ১৫ দিন ধরে রোজ ২-৩ কুইন্টাল করে ইলিশ উঠছে গভীর সমুদ্র থেকে। এই সময়ে ইলিশ আগে দেখা যায়নি।বেশিরভাগের ওজন পাঁচশো থেকে সাতশো গ্রাম। এক-দেড় কেজি ওজনের ইলিশও উঠছে। স্বাদে হার মানাচ্ছে বর্ষার ইলিশকে।’

অসময়ের এই ইলিশের আগমন স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও আগে দেখেননি বলে জানাচ্ছেন। অন্যদিকে বর্ষা না হওয়া সত্ত্বেও পেল্লাই সাইজের ইলিশের ছড়াছড়ি দেখে অবাক ক্রেতারাও।দামও তুলনামূলক কম। সস্তায় ইলিশ কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন দিঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও। তাঁরাই আদর করে নাম দিয়েছেন বাসন্তী ইলিশ! সোমবার দিঘা মোহনার আড়তে বেশকিছু পর্যটকদের দেখা গেল দেড় কেজি ওজনের কয়েক জোড়া কিনে নিয়ে পেটি ভর্তি করে বাড়ি নিয়ে যেতে। কাঠের পেটিতে ভরে তা বহনযোগ্য করে তৈরিও করে দিলেন বিক্রেতারা। অসময়ে ইলিশ আমদানির খবরে রীতিমত বিস্মিত কাঁথির সহ মৎস্য অধিকর্তা ( সামুদ্রিক) সুরজিৎ বাগ। তাঁর মতে আবহাওয়ার পরিবর্তনেই হয়ত ইলিশ সরনীর সময়ের ঘড়িতে এই পরিবর্তন। মৎস্য অধিকর্তা বলছেন, ” এতদিন চাকরি করছি কিন্তু মার্চে ইলিশ উঠতে দেখিনি। একবার নভেম্বর -ডিসেম্বর মাসে ইলিশ উঠতে দেখা গিয়েছিল বটে কিন্তু এই প্রথমবার দেখলাম অসময়ে বড় মাপের ইলিশ উঠতে।’

যদিও এই অসময়ের এই ইলিশ প্রাপ্তিতে সর্বনাশেরই প্রহর গুনছেন বিজ্ঞানী ও প্রাণী গবেষকরা। তাঁদের মতে মানুষের লোভ সিন্ধু ছেঁচে অমৃতের বদলে তুলে আনছে ভবিষ্যতের গরলকে। মহিষাদল রাজ কলেজের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শুভময় দাস বলছেন, এই ঘটনায় অস্বাভাবিকতা কিছু নেই। আর কিছুদিনের মধ্যেই চলে আসছে ইলিশের প্রজননকাল। গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলে যাওয়ার প্রাক মুহূর্তে বিশেষ জালে তুলে ফেলা হচ্ছে মাছগুলিকে যার বেশিরভাগই মেয়ে ইলিশ। অধ্যাপক দাস বলেন, ‘ইলিশ গভীর সমুদ্রের মাছ। মা ইলিশ বছরে দু’বার ডিম দেয়। অধিকাংশরা শীতের সময় এবং বাকীরা বর্ষার সময়। বর্ষায় যারা ডিম পাড়ে তারাই এখন গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলের দিকে আসছে। এরা সবাই পরিণত মাছ। ঠান্ডা পছন্দ করে। তাই গভীর জলে থাকে। সহজে এদের ধরা সম্ভব না। সমুদ্রের তলদেশ ছেঁচে (বটম ট্রলিং) এই ইলিশ শিকার করা হচ্ছে। ইলিশ সংরক্ষণে যা নিষিদ্ধ হওয়া জরুরি। না হলে একদিন শুধুমাত্র জাদুঘরেই দেখা মিলবে ইলিশের।”

- Advertisement -
Latest news
Related news