Monday, April 15, 2024

Social Boycott: বিজেপি করায় বয়কটের অভিযোগ সবংয়ের পরিবারের ,বন্ধ চাষবাস, সামাজিক মেলামেশাও ! দুয়ারে নেই ‘দুয়ারে সরকার’

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধান: কার দুয়ারে সরকার? শুধুই কি তৃনমূলের দুয়ারে? অন্ততঃ তেমনটাই অভিজ্ঞতা পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকের বলপাই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পানিথর গ্রামের বাসিন্দা দীপক সামন্ত এবং তাঁর পরিবার সদস্যদেরর। দিন কয়েক আগেই তাঁদের এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত জনগনের দুয়ারে উপস্থিত সরকার। সেই সুবিধা নিতে গিয়েছিলেন দীপক সামন্তের এক বৃদ্ধা আত্মীয়া। তার জন্য দরকার ছিল আয়ের সার্টিফিকেট। সেই সার্টিফিকেট দেবেন প্রধান। অতএব গিয়েছিলেন প্রধানের কাছে। কিন্তু অভিযোগ প্রধান আর তাঁর তৃনমূল নেতা স্বামী মিলে দূর দূর তাড়িয়ে দিয়েছেন ওই বৃদ্ধাকে। বলেছেন, “লজ্জা লাগেনা তোদের? বিজেপি করিস আর সুবিধা নিতে এসেছিস তৃনমূল সরকারের?”

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

না, আজকের ঘটনা নয়! বয়কট চলছে সেই বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই। বয়কটের নামে এও এক নীরব ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস। পানিথর গ্রামের বিজেপি বুথ সভাপতি দীপক সামন্ত তার অভিযোগ , ভোট-পরবর্তী ফলাফলের পর তাদের বাড়িতে এসে হামলা চালাচ্ছে তৃণমূল বাহিনীরা, এমনকি বাড়ির মহিলাদের উপর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। সমস্ত রকম সরকারি সুযোগ সুবিধা সহ তাদের সামাজিক ভাবে বয়কট করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বরা। দীপক সামন্তের আরও অভিযোগ, এ বিষয়ে বারংবার থানায় জানানো হলেও কার্যত নীরব থেকেছে পুলিশ প্রশাসন!

বিজেপি পরিবারের অভিযোগ, জমিতে চাষ করতে দেওয়া হচ্ছে না , চাষের জমিতে জল সরবরাহকারী থেকে ট্রাক্টরের লাঙ্গল যাঁরা করেন তাঁদেরও রীতিমত শাশানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে যাতে জমিতে কোনরূপ চাষাআবাদ না করা যায়। কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানেও প্রতিবেশীদের সাথে সখ্যতা বিনিময় বারণ! না হলে তাদেরও হুমকি দিচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বরা। ফলে রীতিমতো গ্রামে বসবাস করেও একঘরে রয়েছেন হয়ে রয়েছেন তাঁরা । এরপরই তাঁরা জানান, দুয়ারে সরকার নিয়ে তাঁদের বিস্ফোরক অভিযোগ। দীপক বলেন, “গত কয়েকদিন আগে আয়োজিত দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে বিজেপি পরিবারের এক মহিলা সেখানে উপস্থিত হলে স্থানীয় তৃণমুল প্রধান ও তার স্বামী অকথ্য ভাষায় ওই মহিলাকে গালিগালাজ করেন এবং তাকে বলা হয় ‘বিজেপি করিস লজ্জা লাগেনা তোদের তৃণমূলের কাছে এসে সাহায্য নিতে ! সেখানে রীতিমতো হেনস্তা করা হয় ওই বিজেপি পরিবারের মহিলাকে।

ওই বিজেপি পরিবার অভিযোগ করেছেন যে তাদের পরিবারকে গত এক বছর ধরে গ্রামের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান,চাষাআবাদ সহ সামাজিক ভাবে একঘরে করে রাখা হয়েছে, মুহুর্মুহু হুমকি আসছে! বিজেপি পরিবারের এক সদস্যা বৈশালি সামন্ত বলেন, ‘স্থানীয় তৃণমূল নেতা কিরণ পাল, গোপাল মাইতি, বিকাশ মাইতি, ভোলানাথ সাউ এরা বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, আমাদের অপরাধ আমরা বিজেপি কর্মী বলে। দুয়ারে সরকার অনুষ্ঠিত এক কর্মসূচীতে আমার বৃদ্ধা শশুর শাশুড়ি বার্ধক্য ভাতা পাওয়ার জন্য আয়ের সার্টিফিকেট নিতে যাওয়াই সেখানে উপস্থিত অঞ্চল প্রধান এর স্বামী আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে আমাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বলা হয় ‘বিজেপি করিস তৃণমূলের কাছে সাহায্য নিতে এসেছিস, তোদের লজ্জা করে না! দীর্ঘ দিন আমাদের চাষ বন্ধ করে দিয়েছে তৃণমূলের নেতারা। প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলা থেকে কারও অনুষ্ঠানে যাওয়াও নিষেধ আমাদের! না হলে জরিমানা করা হবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।’

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে কিরণ পাল বলেছেন, “সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছেন ওই ব্যক্তি। উনি লোকের লাঙল করার টাকা, জলসেচের টাকা মেটাতে পারেননি বলেই কেউ ওনার কাজ করতে চাইছেনা। সামাজিক বয়কটের প্রশ্ন নেই। আমি নিজে সিপিএম আমলে বয়কটের শিকার হয়েছি তাই বয়কটের যন্ত্রনা বুঝি। ওনার সমস্যা নিয়ে থানায় বসা হয়েছে কিন্তু সমাধানসূত্র বের হয়নি। এখন উনি নতুন করে এই সব বলতে শুরু করেছেন।” বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়েছেন, সবংয়ের বরিষ্ঠ তৃনমূল কংগ্রেস নেতা তথা ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অমল কুমার পান্ডা। তিনি বলেন, “আমার কাছে আপাতত এরকম কোনও খবর এখনও আসেনি। আমি আপনাদের কাছে বিষয়টি জানলাম। ওই এলাকার নেতৃত্বদের কাছে খোঁজ খবর নিয়ে জানব। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তবে নিশ্চই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের সুবিধা সবার জন্যই। এখানে কোনও রাজনীতি দেখার কথা নয়।”

- Advertisement -
Latest news
Related news