Saturday, May 25, 2024

Debra Boycot: ৮০ বছরের বৃদ্ধা আর ১০মাসের শিশুর ওষুধ কিনতে দিশেহারা পশ্চিম মেদিনীপুরের বিজেপি সমর্থক পরিবার! ডেবরায় বয়কটে বন্ধ চাষ থেকে চায়ের দোকান, মারুতি থেকে মেশিন ট্রলি

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা কিংবা পরিবারের নাবালক ১০মাসের শিশুর ওষুধ কিনতে দিশেহারা একটি বিজেপি সমর্থক পরিবার। ১৭ জনের ওই পরিবারকে কার্যত ভাতে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে। অভিযোগ ওই পরিবারকে গত আগষ্ট মাস থেকে চাষ করতে দেওয়া হচ্ছেনা। সম্প্রতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাঁদের মেশিন ট্রলি ও মারুতি ভ্যান রাস্তায় নামা। ফলে উপার্জন হীন হয়ে পড়ে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে সপরিবারে আত্মহত্যা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই বলে জানিয়েছে ওই পরিবারের সদস্যরা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

ঘটনাটি ঘটেছে ডেবরা থানার ডিঙল গ্রামে। বয়কটের শিকার ওই পরিবারের কর্তার অশোক ভূঁঞা অভিযোগ করেছেন তারই একটি রায়তি চাষের জমি জোর করে দখল চাষ করছে তাঁর খুড়তুতো ভাই ও এলকার তৃনমূল বুথ সভাপতি অলোক ভূঞা। সেই দশ ডেসিমেল জমি তার নামেই লিখে দিতে হবে এই দাবি করছে সে। এই দাবি না মানার জন্য গত আগষ্ট মাস থেকে তাঁদের ১বিঘা জমির চাষবাস করতে দেওয়া হয়েছে। অশোকবাবু দাবি করেছেন ওই ১০ডেসিমেল জমিটি তাঁর মা এবং তাঁদের ৩ভাইয়ের সম্পত্তি।

অশোকবাবু আরও অভিযোগ করেছেন তাঁরা ৩ ভাই তাঁদের ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা ছাড়াও সংসারে ৩টি নাবালক সহ পরিবারের সংখ্যা ১৭জন। যার মধ্যে সর্বনিম্ন নাবালকটির বয়স ১০ মাস। ১বিঘা জমির চাষ ছাড়া তাঁদের আয়ের উৎস ছিল ২টি মেশিন ট্রলি ও একটি মারুতি ভ্যান। যা চালিয়ে তাঁদের সংসার চলত। গত ডিসেম্বরের ৯তারিখ থেকে সেগুলিকেও রাস্তায় নামাতে না বলে দিয়ে গেছে স্থানীয় তৃনমূল নেতারা। গ্রামের চায়ের দোকানে তাঁদের চা দিতে না বলা হয়েছে, মুদি দোকানেও জিনিসপত্র দিচ্ছেনা।

অশোকের ভাই দীপক ভূঁঞা বলেন, এ কোন রাজত্বে আমরা বাস করছি? বাড়ির গরুর দুধ বিক্রি করে যে পরিবারের ১০মাসের বাচ্চা কিংবা ৮০ বছরের মায়ের জন্য ওষুধ কিনে আনব তার উপায় নেই। আমাদের দুধ বিক্রি করাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামেই আমার দিদির বিয়ে হয়েছে। তাঁর কাছে টুকটাক সাহায্য পাই বলে তাকেও হুমকি দিয়ে আসা হয়েছে যে আমাদের সাহায্য করলে তাঁকেও সামাজিক বয়কট করা হবে। এই হুমকির কথা স্বীকার করে নিয়ে এই পরিবারের মেয়ে তথা গ্রামেরই গৃহবধূ ইলা রানী সর্দার বলেছেন, ‘ আমি থাকতে আমার ভাইরা, তাঁদের সন্তানেরা, আমার মা না খেয়ে মরবে? ওরা আমাকে হুমকি দিয়েছে বাপের বাড়িকে সাহায্য করতে। কিন্তু আমি করব। ওরা কী করে দেখব?’

অশোক বাবু জানিয়েছেন, এক সময় আমার ওই খুড়তুতো ভাই সিপিএম করত আর আমরা করতাম কংগ্রেস, পরে তৃনমুল কংগ্রেস। তখন থেকেই গায়ের জোরে জমি দখল করে রেখেছে। তখনও কোনও সুরাহা হয়নি। এরপর ওরা তৃণমূলে ঢুকে নেতা হয়ে সেই অত্যাচার চালু করেছে। বারবার দলের নেতাদের বলেও কোনও সুরাহা হয়নি। তাই আমরা বিজেপি সমর্থক হয়েছি। আর এখন অত্যাচার আরও বেড়েছে। প্রায়দিনই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ির সামনে এসে গালাগালি, মহিলাদের পর্যন্ত কু-মন্তব্য করে যাচ্ছে। থানা, বিডিও, পুলিশ সুপার, জেলাশাসক সর্বত্রই অভিযোগ করেছি কিন্তু সদুত্তর মেলেনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে শাসকদলের প্রায় সমস্ত
নেতাই এমন কী ডেবরা তৃনমূল কংগ্রেস ব্লক সভাপতি অনুপম দাসও।

অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন তৃনমূলের স্থানীয় নেতারা। অনুপম দাস বলেছেন, ‘কোথাও কোনও বয়কট হয়নি। ওদের মেশিন ট্রালির জন্য গ্রামের রাস্তা খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলে গ্রামের লোকেরাই ওই মেশিন ট্রলি রাস্তায় নামাতে বারণ করেছে। আমরা কিছু করিনি। তৃনমূল কংগ্রেস এই কাজ করেনা। গ্রামের মানুষের মেশিন ট্রলি বন্ধ করার ঘটনা যদি সামাজিক বয়কট হয় তো কিছুই বলার নেই।’

যদিও বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাস অভিযোগ করেছেন,’ এটা কোনও গ্রামীন বিষয়ই নয়। পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা! বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বের হওয়ার পর থেকেই গ্রামে গ্রামে বিজেপি সমর্থক পরিবারগুলির ওপর এই নির্যাতন নামিয়ে আনা হয়েছে। ডিঙল গ্রামেও সেই একই ঘটনা চলছে। পরিবর্তনের রাজত্বে কী চলছে তারই নির্মম স্বাক্ষ্য বহন করছেন ডিঙল গ্রামের ভূঁঞা পরিবার।

- Advertisement -
Latest news
Related news