Monday, April 15, 2024

Kharagpur School: খড়গপুরে স্কুল নাকি হরির হাট! শিক্ষক শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে ৫০টি মামলা, মেদিনীপুরে ডিআই কার্যালয়ের সামনে অনশনে শিক্ষক শিক্ষিকারা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: মামলায় মামলায় জেরবার স্কুল। কিছু হলেই একের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিচ্ছেন অন্যজন। সেই মামলার ঠেলা সামলাতে স্কুল ফেলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের ছুটতে হচ্ছে থানা, পুলিশ, আদালতে। তারই মধ্যে মাথার উপর খসে পড়ছে ছাদ। স্কুল বিল্ডিং যেন ভুতুড়ে বাড়ি! মিড মিল খাওয়ানোর উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই । স্কুলে পঠনপাঠনের সুষ্ঠ পরিবেশ নেই।শিক্ষক- শিক্ষিকাদের বক্তব্য, কলকাঠি নাড়ছে দু’একজন। তাঁদের কেউ আবার প্যারাটিচার, কেউ সদ্য সাসপেনশন কাটিয়ে স্কুলে ঢুকেই ফের শুরু করেছে মামলা মোকদ্দমার পর্ব। ঘটনা খড়গপুর গ্রামীণ থানার ভেটিয়া চন্ডী হাইস্কুলের। প্রশাসনের সর্বস্তরে দাবি জানিয়েও সুরাহা হয়নি। তাই স্কুল বাঁচাতে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসের সামনে অবস্থানে বসেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

সোমবার বেলা ১১টা থেকে মেদিনীপুর শহরের জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু করেন স্কুলের একটি অংশের শিক্ষক শিক্ষিকারা। অনশনে ছিলেন স্বয়ং স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক তরুণ কুমার শীট বলেন, মাত্র ৫ মাস আগে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হয়ে এসেছি। তাতেও রেহাই মেলেনি। মামলা হয়েছে আমরাও বিরুদ্ধে। এতদিনের স্কুল, অবস্থা দেখলে অবাক হবেন। স্কুলে ১২ বছর ধরে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে গোলমাল। একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করছেন। গোলমালের জন্য ওই স্কুলে ছেলে-মেয়েদের পড়তে পাঠাতে চাননা অভিভাবকরা। দিন দিন স্কুলের ছাত্রছাত্রী সংখ্যা কমছে। এবার স্কুলটাই না উঠে যায়।”

শিক্ষক শিক্ষিকাদের বক্তব্য, ওই কতিপয় শিক্ষককের কায়েমি স্বার্থ বজায় রাখার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা ডিআই থেকে জেলাশাসক, শিক্ষা কমিশনার, মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে জানিয়েছি। আমরা চাই, প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে সমস্যার সমাধান করে স্কুলটাতে লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরে আসুক।’ জানা গেছে খড়গপুর গ্রামীন থানার অন্তর্গত ওই ভেটিয়া চণ্ডী হাইস্কুল নিয়ে অতিষ্ট পুলিশ-প্রশাসনও। স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকা ২৭ জন। শিক্ষাকর্মী সহ প্রায় ৩২ জন। পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে কমতে দেড় হাজার থেকে সাড়ে ৪০০ তে এসেছে ঠেকেছে। তাও আবার এই ডামাডোলের জন্য মেরে কেটে শ’তিনেক পড়ুয়া স্কুলে আসে। অভিভাবকরা ছেলে মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করে কিন্তু পড়াতে পাঠায়না। এক সময় মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করত ছেলেমেয়েরা।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পৌঁছায় অনশন স্থলে। শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর পুলিশ কথা দেয় তাঁরাই দায়িত্ব আগামী শুক্রবার অতিরিক্ত জেলা শাসকের দপ্তরে আলোচনায় বসাবেন। উল্লেখ্য অতিরিক্ত জেলাশাসক (পঞ্চায়েত) স্কুল শিক্ষা বিষয়ক দায়িত্বে রয়েছেন। পুলিশের আশ্বাসে অবস্থান উঠিয়ে খড়গপুর ফিরে যান শিক্ষক শিক্ষিকারা।

- Advertisement -
Latest news
Related news