Monday, April 15, 2024

Ayush: দশক পেরিয়ে অবশেষে রাজ্যের আয়ুশ চিকিৎসকরা ঝুঁকি জনিত গোষ্ঠী বিমার আওতায়

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রায় ১০ বছর শহর থেকে রাজ্যের প্রান্তিক গ্রামাঞ্চলে কাজ করছেন তাঁরা। কর্মসূত্রে প্রায় প্রতিদিনই ছুটতে হয় মাইলের পর মাইল। বাস, ট্রেন, নৌকা কিংবা মোটর সাইকেল অথবা প্রাইভেট কার ব্যবহার করতে হয় প্রতিনিয়ত। দুর্ঘটনা ঘটার প্রবল সম্ভবনা নিয়ে নয়, দুর্ঘটনা নিয়েই করে যেতে হয় কাজ তবুও এতদিন তাঁরা অপরাপর সরকারি কর্মীদের মত তাঁরা ঝুঁকি জনিত গোষ্ঠী বিমার আওতায় ছিলেননা। রাজ্যের আয়ুশ চিকিৎসকরা প্রায়শ:ই তাঁদের প্রতি রাজ্য সরকারের উদাসীনতা এবং বঞ্চনার অভিযোগ করে থাকেন। সেই বঞ্চনা যে কতটা তীব্র তারই যেন উদাহরণ এটা। আয়ুশ চিকিৎসকদের প্রশ্ন, যাঁরা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য লড়াই করে যান তাঁদের জীবনই যদি ঝুঁকি পূর্ন হয়ে থাকে তবে পেশার দায়টাও অনেকাংশে যান্ত্রিক হয়ে যায়। তারই যেন কিছুটা সুরাহা হল এবার। রাজ্যের আয়ুশ চিকিৎসকদের সংগঠন ‘আমরা’ বা Ayush Medical Officers’ RBSK Association (AMRA)- র উদ্যোগে গোষ্ঠী বিমার আওতায় আসলেন তাঁরা। এরফলে মৃত্যু কিংবা অঙ্গহানি জনিত বিমার সুবিধা পাবেন তাঁরা অথবা তাঁদের পরিবার।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

‘আমরা’-র অন্যতম কর্মকর্তা ডঃ সুমিত সুর জানিয়েছেন, ” ২০১৩ থেকেই প্রত্যন্ত গ্রামে গঞ্জে গাড়িতে বা নৌকায় ঘুরে ঘুরে এই পরিষেবা দেয়ার মাঝেই ৭জন আয়ুষ মেডিক্যাল অফিসারগণ অনেকগুলি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন কর্তব্যরত অবস্থাতেই। ঘটনাক্রমে এঁরা প্রাণে বেঁচেছেন ঠিকই কিন্তু না বাঁচলে এঁদের পরিবার ধ্বংস হয়ে যেত কারন এঁরা কেউই গোষ্ঠী বীমার আওতায় ছিলেননা।
যদিও তাঁরা নানান প্রকার ওই দুর্ঘটনাজনিত শারীরিক সমস্যার কারণে ভুগছেন যদিও তা সত্ত্বেও ওনারা সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন আজও যথাযোগ্য গুরুত্ব সহযোগে। আজ এখানে তাদের মধ্যে অনেকেই উপস্থিতও আছেন। যৌথ প্রকল্পের আওতাভুক্ত হলেও আমরা কোনো প্রকার সরকারি সহায়তা পাইনি।”

‘আমরা’-র আরেক কর্মকর্তা ডঃ কামরুল হুদা বলেন,” দেশের ৭টি রাজ্য যেমন- উড়িষ্যা , কেরালা , রাজস্থান ,হরিয়ানা , পাঞ্জাব , বিহার , দিল্লি তাদের রাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ মিশনের আওতায় কর্মচারীদের জন্য এই ধরণের ইন্সুরেন্স এর ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু এই রাজ্যে সেই ব্যবস্থা নেই। আমরা মাননীয় কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি যাতে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য। সেটা কবে হবে, আদৌ হবে কিনা জানা নেই। আপাততঃ আমরা উদ্যোগ নিলাম। এই প্রকল্পে দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু ও তৎসহ অঙ্গহানির ক্ষতি ঘটলে ৩০লক্ষ টাকা অবধি সুবিধা পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য রাজ্য জুড়ে রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম বা RBSK আওতায় ব্লক ও মিউনিসিপালিটিতে মোট ৮২৮ টি মোবাইল টিমে বর্তমানে মোট ১২০০জন চিকিৎসক কর্মরত। এই প্রকল্পে বর্তমানে মোট ৪৪ধরণের রোগ আছে , যা ০-১৮বছর পর্যন্ত একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকে , অর্থাৎ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ ,অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র , প্রাথমিক বিদ্যালয় , উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত খুঁজে বের করা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এবং সারাবছর ধরেই এই আয়ুশ চিকিৎসকরাই নিরলস ভাবে এই কাজ করে চলেছেন । গত এক বছরে এঁদের জন্যই রাজ্যের ১৬০০ বাচ্চার হার্টে ফুটোর (জন্মগত হৃদযন্ত্রের ত্রুটি) অপারেশন সম্ভব হয়েছে। কারন বছর ভর এই চিকিৎসকরা স্কিনিং করে ওই ৪৪টি অসুখ খুঁজে বের করেন।

- Advertisement -
Latest news
Related news