Tuesday, June 25, 2024

Kolkata Poll: দুই ওয়ার্ডে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার বিজেপির, ময়দানেই নেই রেজিমেন্ট দল! দিদির দলকে ময়দান ছাড়ছে মোদি বাহিনী অভিযোগ সিপিএমের

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: মমতা ব্যানার্জীর ভাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নির্দল প্রার্থী তৃনমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর রতন মালাকারকে অনেক কসরৎ করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করালেও ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বোন তনিমা চট্টোপাধ্যায় আর ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী হিসাবে দলেরই প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। অথচ শেষ বেলায় প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন দুই বিজেপি প্রার্থী ১৩৩ ও ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী যথাক্রমে সদানন্দ প্রসাদ ও মমতাজ আলি! ঘটনায় রীতিমতো হতভম্ব ওই দুই ওয়ার্ডের বিজেপি কর্মীরা এখন মুখ লুকানোর জায়গা পাচ্ছেননা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

শনিবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন। সূত্রের খবর, বিজেপির ওই দুই প্রার্থী এদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে ওই দুই ওয়ার্ডেই ভোট হবে। কারণ ১৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএমের প্রার্থী রয়েছে। ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী আছে। ফলে সব ওয়ার্ডেই ভোট হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, চাপ দিয়ে, ভয় দেখিয়ে আমাদের দলের ওই দুই প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে তৃণমূল। শাসকদলের পক্ষে অবশ্য বিজেপির এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, হার নিশ্চিত জেনেই ওই দুই বিজেপি প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

দোষ আর পাল্টা দোষারোপের মধ্যেও যে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে তা’হল পুরভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে কলকাতা পুরভোটে বিজেপির নির্বাচন পরিচালন কমিটিকে কার্যত নিষ্ক্রিয়ই দেখা যাচ্ছে । পরিচালন কমিটির সদস্যদের একাংশ দাবি করেছেন যে ২৭ নভেম্বর সব সদস্যকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটির শেষ বৈঠক হয়েছে। ২৯ তারিখ প্রার্থী ঘোষণার পরও কমিটির পূর্ণাঙ্গ আর কোনও বৈঠকই হয়নি। এমনই অভিযোগ নির্বাচন পরিচালন কমিটির সদস্যদের একাংশের। পাশাপাশি আরও অভিযোগ, কমিটির সদস্য করার পরও অনেকেরই পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে না প্রচার কিংবা রণকৌশল নিয়ে।

শুধু তাই নয়, উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে হাতে গোণা গোটা তিরিশেক ওয়ার্ড বাদ দিলে বাকি ওয়ার্ডে বিজেপির জমাটি প্রচারের ছবি সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। অনেক ওয়ার্ডইে প্রচারে সেভাবে দেখা মিলছে না কর্মী-সমর্থকদের। হাতেগোনা পাঁচ-ছয়জনকে নিয়ে প্রার্থীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। প্রচারে এখনও পর্যন্ত দেখা নেই দলের কোনও শীর্ষ নেতাদের। সংসদের অধিবেশন চলায় দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার থেকে শুরু করে দলের সমস্ত সাংসদই ব্যস্ত দিল্লিতে সংসদের অধিবেশন নিয়ে। ফলে সাংসদরাও সেভাবে থাকতে পারছেন না। দলের শীর্ষ নেতারা কলকাতায় প্রচারে কবে নামবেন সেটা নিয়েও প্রশ্ন কর্মীদের মধ্যে।

সিপিএমের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে তৃনমূলের সাথে গটআপ গেম খেলছে বিজেপি। যেমন ভাবনীপুর অঞ্চলের ৭০নম্বর ওয়ার্ড যেখানে বিজেপির ভালো সংগঠন, আরএসএস শক্তিশালী এবং বিজেপির দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর সেখানেই তেমন করে প্রচারে নেই বিজেপি। আসলে তৃনমূল পরিচালিত কর্পোরেশনের মদত ও তৃনমূলের নেতাদের যোগসাজশে বেআইনি প্রমোটারি রাজ, সিন্ডিকেট, তোলাবাজি রমরমিয়ে চালাচ্ছে বিজেপির ছোটবড় নেতারা। আর সেকারণেই তৃনমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে কুণ্ঠা বোধ করছেন বিজেপি নেতারা। সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী কলকাতা পুরভোটের প্রচারে গিয়ে বলছেন, ‘আসলে দিদির দলের পালে হওয়া লাগাতে ব্যস্ত মোদির বাহিনী। তাই লড়াইয়ে তাদের মনযোগ নেই।’

- Advertisement -
Latest news
Related news