Tuesday, June 25, 2024

BJP Midnapore: প্রার্থী করার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়েছিলেন বিজেপি সভাপতি! ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় পশ্চিম মেদিনীপুর

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির স্বপ্নভঙ্গের পর মারাত্মক অভিযোগটি এনেছিলেন দলের প্রবীণ নেতা তথাগত রায়। বলেছিলেন, টাকা এবং মহিলার বিনিময়ে প্রার্থী পদ বিলি করেছে বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতারা। সেই পরিচালনা কমিটিতে ছিলেন তৎকালীন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এবার সেই দিলীপ ঘোষের সংসদীয় ক্ষেত্রেই এক বিজেপি কর্মী জানালেন যে তাঁকে প্রার্থী করার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন তৎকালীন পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সমিত দাস। এমনই কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে জেলা জুড়ে যেখানে বিজেপির এক সক্রিয় কর্মীকে বলতে শোনা গেছে যে দু’দফায় প্রাক্তন জেলা সভাপতির হাতে ৭৫ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন তিনি।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

নারায়নগড় বিধানসভা ক্ষেত্রের বেলদা থানার ঠাকুরচক এলাকার বাসিন্দা বিজেপির এক সক্রিয় কর্মী জন্মেঞ্জয় খুটিয়া একটি ফোনালাপে অন্য একজন বিজেপি কর্মীকে বলছেন, প্রথমে দল চালানোর জন্য ২৫হাজার টাকা চেয়েছিলেন সমিত দাস। তিনি দিয়েও ছিলেন। সেই নিয়ে তাঁর কিছু বলার নেই কিন্তু তাঁর আক্ষেপ পরের ৫০হাজার টাকা নিয়ে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে অমিত শাহ-র সভা আয়োজন করেছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বিজেপি। সেই বাবদ ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয় জন্মেঞ্জয় খুটিয়ার কাছে। জন্মেঞ্জয় খুটিয়া বলেন, ‘ আমাকে বলা হয়েছিল এই সময় দলকে যাঁরা সাহায্য করবেন তাঁদেরই প্রার্থী করার কথা ভাবা হবে। ওই সময় ওই টাকা নেওয়ার জন্য ‘রামলাল’ দিন রাত আমার পেছনে পড়েছিল। টাকা নেওয়ার পর বহু মিটিংয়ে রামলাল আমাকে বলতে থাকে যে, এবার প্রার্থী হচ্ছেন আপনিই।”

উল্লেখ্য এই রামলাল হলেন তৎকালীন নারায়ণগড়ে দলের সংযোজক রামলাল জানা। সমিত দাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ট এই রামলাল জানাকে সমিত দাস ব্যবহার করেছিলেন তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য। খুটিয়া বলছেন, সমিত দাসই বলেছিলেন যাঁরা দলকে টাকা দিয়ে সাহায্য করবে তাঁদের কথাই ভাববে দল এবং টাকা তিনি সমিত দাসকেই দিয়েছিলেন। যদিও কোনও ক্ষেত্রেই তাঁকে কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি। ঘটনা অবশ্য এই যে জন্মেঞ্জয় খুটিয়া বা দলের পুরানো কাউকেই টিকিট দেয়নি বিজেপি। টিকিট দেওয়া হয়েছিল ‘তৎকাল বিজেপি’ তৃনমূল থেকে আসা রমাপ্রসাদ গিরিকে। সম্ভবনাময় এই আসন হেরে যায় বিজেপি।

বিজেপির তৎকালীন জেলা সভাপতি তথা বর্তমানে রাজ্য সাধারন সম্পাদক সমিত দাস অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন ” এই অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। একেবারে পরিকল্পনা মাফিক করা হয়েছে। আমাকে ও দলকে বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে। আমি এইসবের কোনও গুরুত্ব দিচ্ছি না।” বিষয়টি নিয়ে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ করার কথাও বলেছেন। রামপদকে প্রার্থী ঘোষণার পর নিষ্ক্রিয় হয়ে যান জন্মেঞ্জয় খুটিয়া। যদিও দলের প্রতি তাঁর এখনও ভালোবাসা অটুট। তিনি বলেন, ‘আমি কোথাও কোনও অভিযোগ করিনি, করবও না। কথা প্রসঙ্গে এক পরিচিতজনকে এই কথা বলেছিলাম মাত্র। বাকিটা দল দেখবে।’

- Advertisement -
Latest news
Related news