Wednesday, May 22, 2024

বালিচকে এলেন রেলের আধিকারিকরা, স্টেশন কমিটির সাথে ঘুরে দেখলেন সমস্যা! বন্যা নিবারণসহ এলাকার উন্নয়নের আশা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: বালিচক রেল স্টেশনকে ঘিরে থাকা সন্নিহিত এলাকার বন্যা নিবারণ সহ সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নের পথে আরও একধাপ এগুলো বলে মনে করছেন স্টেশন কমিটির সদস্যরা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণপূর্ব রেলের খড়গপুর ডিভিশনের পক্ষ থেকে বালিচক স্টেশনে উপস্থিত হওয়া আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পর এমনই আশা প্রকাশ করা হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

উল্লেখ্য চলতি মরশুমে এই এলাকায় ভয়াবহ ভাবে জলবন্দি হয়েছিলেন স্থানীয় অধিবাসীরা। আর তারপরই এলাকার সমস্যা নিয়ে রেলের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য বারংবার আবেদন জানিয়েছিল বালিচক স্টেশন উন্নয়ন কমিটি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রতিনিধিদলটি উপস্থিত হয়েছিলেন বৃহস্পতিবার। উন্নয়ন কমিটির সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানান, ‘বালিচক রেলস্টেশনের উত্তর দিকে বন্যা পরিস্থিতির ছবিসহ এবং নানান সমস্যা জানিয়ে বালিচক স্টেশন উন্নয়ন কমিটির পক্ষ থেকে খড়গপুরে ডিআরএম-এর কাছে বিষয়গুলি বারবার তুলে ধরা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিআরএম অফিস থেকে এইএন রাজেশ কুমার সিং কমিটির নেতৃত্বে সঙ্গে যোগাযোগ করেন ২০ অক্টোবর। তিনি কথা দেন ডি আর এম-এর নির্দেশের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বালিচক রেলস্টেশন নিজে উপস্থিত হয়ে সমস্যা গুলি পর্যবেক্ষণ করবেন। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকাল চারটা নাগাদ সময়ে এইএন রাজেশ কুমার সিং এবং আইওডব্লিউ সুব্রত কুমার আচার্য সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকগণ উপস্থিত হন। উন্নয়ন কমিটির পক্ষ থেকে আমাদেরও একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। দুই পক্ষই বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সমস্যার স্বরূপ পর্যবেক্ষণ করেছে যৌথভাবে।”

এদিন পর্যবেক্ষণ শুরু হয় বালিচক রেলস্টেশনের উত্তর দিকে পাওয়ার স্টেশনের কাছে যেখানে সংকীর্ণ জল নিকাশির বেহাল অবস্থার জন্য ভোগপুর, রঘুনাথপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। কমিটির পক্ষ থেকে দেখানো হয় সেই জল নিকাশের কী বেহাল অবস্থা এবং ছোট্ট একটি কালভার্ট দিয়ে জল নিকাশির কোনভাবেই সম্ভব নয়। নতুন করে চওড়া কালভার্ট এবং নালাটিকে প্রশস্ত করে কংক্রিটের দেওয়াল নির্মাণের দাবি জানানো হয়। এই সমস্যাটি দেখার পর রেল কর্তৃপক্ষ কমিটির সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। দ্বিতীয়ত, বালিচক পাওয়ার স্টেশন থেকে রঘুনাথপুর পর্যন্ত মোরাম রাস্তাটির বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিনের। সেই রাস্তাটিকে উঁচু করে কংক্রিটে ঢালাই রাস্তায় রূপান্তরিত করার জন্য রেলের কাছ থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার প্রয়োজন। সে ব্যাপারেও আবেদন জানালে রেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবেন বলে কথা দিয়েছেন।

তৃতীয়তঃ বালিচক রেল ক্রসিংয়ের কাছে জল নিকাশির জন্য রাস্তার নিচ দিয়ে যে সরু চোঙ রয়েছে সেটিও পর্যবেক্ষণ করেন। যদিও রেলক্রসিংয়ের ঠিক উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে উড়ালপুল নির্মাণের সঙ্গে বড় দুটি কালভার্ট নির্মিত হবে – এ দাবি আগেই আদায়ে করেছে বালিচক স্টেশন উন্নয়ন কমিটি। এরপর কমিটির প্রতিনিধি দলকে নিয়ে রেল ক্রসিংয়ের দক্ষিণ দিকে জল নিকাশির নালাটি সম্পূর্ণভাবে ঘুরে দেখেন রেল দপ্তরের এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং আইওডব্লিউ। সেখানে ইরিগেশন দপ্তর নির্মিত সরু কালভার্টটি জল নিকাশির ক্ষেত্রে যে বড় বাধা সেটিও তাঁরা দেখেন। পাশাপাশি কমিটির পক্ষ থেকে বালিচক স্টেশন রোডের বেহাল দেখানো হয়। রেল দপ্তরে আধিকারিকগণ সেই বিষয়টিও নথিভুক্ত করেছেন।

এছাড়াও বালিচক স্টেশনে একটি প্রশস্ত বাস স্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, নতুন প্রশস্ত একটি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলি তাঁদের নজরে আনা হয়। রেল কর্তৃপক্ষ প্রতিটি বিষয় নোট করেছেন। তাঁরা কথা দিয়েছেন প্রতিটি সমস্যা তাঁরা ডিআরএম-এর কাছে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য যথাসম্ভব ভূমিকা গ্রহণ করবেন এবং এ ব্যাপারে কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে বলে তাঁরা জানান। বালিচক স্টেশন উন্নয়ন কমিটির পক্ষ থেকে রেল আধিকারিকদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে এবং আশা প্রকাশ করা হয়েছে বিগত দিনের ন্যায় বালিচক রেলস্টেশন সংলগ্ন সমস্যাগুলি সমাধানে আজও তাঁদের দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন রেল কর্তৃপক্ষ।

স্টেশন উন্নয়ন কমিটির সম্পাদক শ্রী অধিকারী বলেন, ‘ এই সমস্যার কিছু অংশ যেমন রেল দপ্তরকে উদ্যোগ নিতে হবে সমাধানের জন্য তেমনি কিছু সমস্যা রয়েছে যেগুলি রাজ্য প্রশাসনকে সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।’ আমরা আশাবাদী উভয় পক্ষই এই ভূমিকা পালনে সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করবেন নচেৎ বড় ধরনের আন্দোলনে নামবে কমিটি। বালিচক স্টেশন উন্নয়ন কমিটির পক্ষ থেকে আজ উপস্থিত ছিলেন সুভাষ চন্দ্র মাইতি, কালিশংকর গাঙ্গুলী, শিবু দাস, সুরেন্দ্রনাথ হেমরম, কিংকর অধিকারী, বিশ্বজিৎ ভূঁইয়া, চতুর্ভুজ মাইতি, শ্যামলী পাত্র, অভা গাঁতাইত, সুবল ভূঁইয়া, শক্তিপদ পড়্যা, ডাক্তার এস. কে. বেরা, নিভা ওঝা, বেলা মাইতি, অমিত রায়, ভোলানাথ কর, গৌতম মাইতি, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, স্বপন কর সহ এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ভুক্তভোগী মানুষ। উল্লেখ্য এই কমিটির ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলেই বালিচকে উড়ালপুলের কাজ শুরু হয়েছে এবং তার অনেকটাই সম্পূর্ণ হওয়ার পথে।

- Advertisement -
Latest news
Related news