Monday, June 17, 2024

Student Leader Killed: আনিসকে তিন তলা থেকে ছুঁড়ে খুন করেছিল পুলিশই? খুনের ঘটনায় সাসপেন্ড ৩ পুলিশ কর্মী

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: পুলিশের পোশাক পরা গুন্ডারা নয় সম্ভবতঃ গুন্ডামি করেছে পুলিশই। মঙ্গলবার আমতা থানার ৩ পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করার পর এমনই তত্ত্ব প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। যদিও এখনও এই ৩ পুলিশ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেনি বিশেষ তদন্তকারী দল কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদ চলছে তাঁদের। আনিসের পরিবারের অভিযোগ ছিল, শুক্রবার মধ্যরাতে আনিস খানের বাড়িতে তাঁর বাবাকে বন্দুকের মুখে আটকে রাখে এক পুলিশ আধিকারিক। ৩ জন পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তি উঠে গেছিল ওপরে। তিনতলায় ছিলেন আনিস। তাঁকে ব্যাপক মারধরের পর ওপর থেকেই নিচে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল। তারপর ওই তিনজন নেমে এসে আনিসের বাবাকে আটকে রাখা পুলিশ আধিকারিককে বলেছিল, ‘ স্যার কাজ হয়ে গেছে!’

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই আমতা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে আনিস খানের বাড়িতে কেউ যায়নি।’ স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছিল তাহলে কী পুলিশের পোশাক পরেই গুন্ডারা গিয়েছিল আনিসের বাড়িতে? কিন্তু সোমবার আনিস হত্যাকাণ্ডের জন্য গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট তিন পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করার পরই প্রাথমিক ভাবে এটাই মনে করা হচ্ছে যে সেদিন রাতে পুলিশই গেছিল আনিস খানের বাড়ি। আর যদি সেটাই হয়ে থাকে তবে নিশ্চিত ভাবেই আনিস খুনের মামলা আমতা পুলিশের ঘাড়েই চাপবে। আর তদন্তের শুরুতেই বড় পদক্ষেপ করল তদন্তকারী দল।

সোমবার পুলিশের তরফে মৃত ছাত্রনেতার পরিবারের সদস্যদের রয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল। গতকাল রাতে আমতা থানায় গিয়ে পুলিশকর্মীদের রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সিটের দুই শীর্ষ আধিকারিক ডিআইজি সিআইডি অপারেশন মিরাজ খালিদ, বারাকপুর কমিশনারেটের যুগ্ম কমিশনার ধ্রুবজ্যোতি দে পুলিশকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ঘটনার রাতে যারা যারা থানায় ছিলেন, সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় গতরাতে। এরপরই সাসপেন্ড করা হয় এএসআই নির্মল দাস, কনস্টেবল জিতেন্দ্র হেমব্রম, হোমগার্ড কাশীনাথ বেরা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, যেদিন আনিসকে হত্যা করা হয়, সেদিন ছাত্রনেতার বাড়িতে গিয়েছিল পুলিশই। ঘটনায় সাসপেন্ড হওয়া তিন পুলিশ কর্মীর ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে তদন্তকারীদের মনে।

সবচেয়ে অবাক করা কান্ড এটাই যে আনিস যে খুন হতে পারেন এটা সাত মাস আগেই পুলিশের কাছে অভিযোগ আকারে জানিয়ে ছিলেন। সেই অভিযোগে সুনির্দিষ্ট ভাবেই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আনিস জানিয়েছিলেন যে এলাকায় একটি রক্তদান শিবির করার পর থেকেই সে টার্গেট হয়ে গেছিল স্থানীয় তৃনমূল নেতৃত্বের। আনিস সেই অভিযোগ পত্রে লিখেছিলেন, ‘আমাদের গ্রাম কুশবেরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধানের ও স্থানীয় তৃণমূল বুথ সভাপতি মালেক খাঁন ও তার জেষ্ঠ পুত্র মাসুদ খাঁনের নেতৃত্বে এবং তাদের কিছু অনুগামীরা হুমকি সহকারে আমাকে প্রকাশ্য রাস্তায় জানায় “রক্তদান শিবির করা যাবে না আর করলে ফল ভীষণ খারাপ হবে”। আনিস এও বলেছিল যে ওই নেতারা তাঁকে হুমকি দিয়েছিল এই বলে যে, “এবারের নির্বাচনে আমাদের পার্ট থেকে তৃণমূল ছাড়া অন্যরা ভোট পেল কেন? এর দায় আমাকে নিতে হবে।” এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে তাহলে তৃনমূলের হয়ে কাজটা কী ওই পুলিশ কর্মীরাই করে দিল?

প্রশ্ন এও উঠেছে যে, কেন আনিসের অভিযোগ স্বত্ত্বেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি? উল্টে কেন অনিসেরই বাড়িতে অভিযান চালালোপুলিশ? অভিযান চালানোর পরও কেন তা অস্বীকার করল পুলিশ? আনিসের বাড়ি যাওয়ার কথা অস্বীকার করল? খুনের ঘটনার খবর পেয়েও পুলিশ কেন ঘটনাস্থলে গেলনা? ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এই সব প্রশ্ন থেকে একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল যে খুনটা পুলিশই করেছিল। আনিসের বাবাও তাই দাবি করেছিলেন। এখন দেখা যাচ্ছে সেই তত্ত্বই ক্রমশ সামনে আসছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news