Sunday, April 14, 2024

Adani Power: বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ বিক্রী করবে আদানি, কাটা পড়বে মুর্শিদাবাদের আম লিচুর বাগান! ‘ বাগান দেবনা’ আন্দোলনে জনতা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রায় দু’মাস ধরেই ধিকিধিকি করে জ্বলছিল আগুন, রবিবার জ্বলে উঠল দাউদাউ করে। মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কার দাদনতলার গ্রামবাসীরা ১১ হাজার কিলোভোল্ট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য ৮৪ এবং ৮৫ নম্বর টাওয়ার তৈরির কাজ আটকে দিলেন। খবর পেয়ে ছুটে গেছিলেন স্থানীয় যুগ্ম বিডিও ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক কিন্তু নিজেদের অবস্থান থেকে নড়ানো যায়নি গ্রামবাসীদের। তাঁদের সাফ কথা, বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ, ব্যাবসা করবে আদানি তার জন্য আমরা কেন জমি দেব?

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আদানিদের কাছ থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার জন্য চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খন্ডের গোড্ডা জেলায় আদানিদের নির্মীয়মান সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নিয়ে যেতে মোট ২৪৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করতে হবে। এর মধ্যে ৯৫ কিলোমিটার অংশে পড়বে ভারতে আর তার একটি বড় অংশই পড়ছে মুর্শিদাবাদে। জানা যাচ্ছে এই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎবাহী তার পরিবহনের জন্য মুর্শিদাবাদ ও মালদার ঐতিহ্যবাহী বেশ কিছু আমবাগান কেটে ফেলতে হবে। কাটা পড়বে লিচুর গাছও। আর তারই বিরুদ্ধে এবার জোট বাঁধতে চলেছেন স্থানীয়। মানুষ জন।

জমি কিংবা গাছের মূল্য অবশ্য দিচ্ছে আদানিরা। একটি টাওয়ার বসাতে জায়গা লাগছে চারকাটা। কাটা প্রতি চার লক্ষ টাকা দিচ্ছে আদানিরা। দালাল মারফৎ কব্জা করার চেষ্টা হচ্ছে জমির। একটি আম গাছ কাটা পড়লে দেওয়া হচ্ছে আশি হাজার আর লিচু গাছ পিছু সত্তর হাজার। বাজারের তুলনায় দাম বেশ ভালই কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। কৃষি জমিতে কাটা প্রতি চারলাখ পুষিয়ে গেলেও বাস্তুজমির জন্য ওই মূল্য যথেষ্ট নয় আর দুটি টাওয়ারের মধ্যবর্তী যে জায়গার ওপর দিয়ে তার যাবে সেই হাজার হাজার বিঘার জমির জন্য কোনও ক্ষতিপূরণ নেই, এমন কী জমির মালিকের কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট নেওয়ার ব্যবস্থাও নেই। নেওয়ার দরকারও নেই। যদিও এই সব জমির ওপর দিয়ে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন তার নিয়ে যাওয়ার ফলে ওই জমিতে বৃক্ষ জাতীয় গাছ কিংবা দোতালাবাড়ি করতে পারবেননা জমির মালিকরা। ফলে তাঁরা তাঁদের জমির ওপর দিয়ে তার নিয়ে যেতে দেবেননা বলেও জোট বাঁধছেন। রবিবার এরাও জুটেছিলেন বিক্ষোভে

ওদিকে মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার বেনিয়াগ্রামে পাঁচটা দশটা গাছ নয় একটি গোটা বাগানই কেটে ফেলতে হবে বলে জানা যাচ্ছে। প্রাচীন গোলাপখাস আম বাগান কাটার জন্য নোটিস নিয়ে হাজির হয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর এই আমবাগানের ওপর দিয়েই আদানির বিদ্যুৎ বাংলাদেশে যাবে। তাই পাওয়ার গ্রিডের হাই টেনশনের তার টাঙানো হবে। কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। গঙ্গার মধ্যেও পোল বসেছে। এখন আদানির স্বার্থে কাটতে হবে এই শতাব্দী প্রাচীন আমবাগান। বুধবার পুলিশ এসে গ্রামবাসীকে জমি নেওয়ার নোটিস ধরাতে গিয়েছিল। বুড়ো, জোয়ান, বাচ্চা মেয়ে, যুবতী মহিলা, বিধবারা এসে পুলিশের কাছে কেঁদে পড়েন। বাগান গেলে খাব কী? এত বাপ ঠাকুরদার আমলের সম্পত্তি। তা’ছাড়া গাছের মালিক না হয় টাকা পেল কিন্তু এই বাগানের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিক পরিবারগুলির কী হবে? ইতিমধ্যেই আমবাগানের মধ্যেই গণ – কনভেনশন সংগঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এই কনভেনশনর মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়েছে ‘জমি-জীবন-জীবিকা-প্রকৃতি লুট বিরোধী জনগনের কমিটি’। এখানে এগিয়ে এসেছে এপিডিআর।

কংগ্রেস মুছে গিয়ে মুর্শিদাবাদ জুড়ে এখন শুধুই জোড়া ফুল! কিন্তু মায়াকাজল বোধহয় এবার চোখের জলে ধুয়ে পড়ছে ক্রমশঃ। দাদনতলা, বেনিয়ার ওই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বক্তব্য, “চাষের জমি শিল্পের জন্য নেওয়া যাবে না, এই কথাই বলে একসময় আন্দোলন করে তৃণমূল ভোটে জিতে সরকারে এসেছে। এখন দেখছি, তারা যা বলেছিল, তার উল্টো কাজ করছে। তাই জোট বাঁধা ছাড়া উপায় নেই।” রবিবার গ্রামবাসীদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে যুগ্ম বিডিও ও পুলিশ আধিকারিককে। ক্রোধের আগুন ছড়াচ্ছে গঙ্গা পেরিয়ে মালদার দিকেও। মালদার বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার মধ্যে দিয়েও যাবে এই বিদ্যুৎ পরিবাহী তার। শোনা যাচ্ছে সেখানেও চলছে আন্দোলনের প্রস্তুতি। ফলে আদানির বাংলাদেশ পৌঁছানো খুব একটা সহজ হবে বলে মনে হচ্ছেনা। ইতিমধ্যে মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্টেও।

- Advertisement -
Latest news
Related news