Wednesday, May 22, 2024

Jallianwala Bagh: সৌন্দার্যায়নের নামে ক্ষতি জালিয়ানওয়ালা বাগের, সরানো হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামীর ছবি! অর্থেরও তছরুপ, মোদির প্রজেক্টের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন বিজেপির প্রবীণ নেত্রী

- Advertisement -spot_imgspot_img

বিশেষ সংবাদদাতা: স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিসৌধ সংস্কার ও সৌন্দার্যায়নের নামে কার্যত ধ্বংস করা হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরত্বের ঐতিহ্যকে। এবার কংগ্রেস, সিপিএম ও ইতিহাসবিদদের মতই গর্জে উঠলেন বিজেপির প্রবীণ নেত্রী লক্ষ্মীকান্ত চাওলা। তিনি বলেছেন সৌন্দার্যায়নের নামে জালিওয়ানওয়ালা বাগের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় পাঞ্জাব সরকারের এই প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী সোমবার সংবাদ মাধ্যমের কাছে বলেছেন, উন্নয়নের নাম করে যে ২০কোটি টাকা ব্যয়বরাদ্দ করা হয়েছিল তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া উচিৎ।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

গত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসছিল সংস্কার ও সৌন্দার্যায়নের নাম করে জালিওয়ানওয়ালা বাগ স্মৃতি সৌধের বিকৃতিকরন করছে মোদি সরকার। মুছে দেওয়া হচ্ছে  শহীদদের স্মৃতি। বিষয়টি নিয়ে সরব হন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি, ঐতিহাসিক ইরফান হাবিব প্রমুখরা। রাহুল গান্ধী বলেছিলেন,’ শহিদদের এই অপমান একমাত্র তারাই করতে পারে যারা স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, যাদের শহিদদের সাথে কোনও যোগসূত্রই নেই। কিন্তু একজন শহিদের সন্তান হয়ে এটা আমি মেনে নিতে পারিনা।’

 অন্যদিকে সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেছিলেন, ‘ জালিওয়ানওয়ালাবাগে সমবেত হিন্দু, মুসলিম ও শিখ জনতার নারকীয় হত্যাকাণ্ড আমাদের স্বাধীনতার ঐতিহ্যকে গৌরবান্বিত করেছে। এখানকার প্রতিটি ইট স্বাক্ষ্য দেয় ভয়াবহ ব্রিটিশ শাসনের। সেই ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করা একমাত্র তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে নিজেদের দুরে সরিয়ে রেখেছিল।”                        ঐতিহাসিক ইরফান হাবিব বলেছিলেন, ‘ শহিদদের স্মৃতি সৌধের বাণিজ্যিকরন করা হচ্ছে। ওখানে আধুনিকতার স্থাপত্য বসানোর নামে আমাদের ঐতিহ্যকে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। এটা দেখা উচিৎ যাতে না সেই সময়কার অনুভব আমরা হারিয়ে ফেলি।’

 অনেকটাই এই কথাগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে বিজেপির প্রবীণ নেত্রী। তিনি শুধু তথাকথিত সংস্কার আর সৌন্দার্যায়নেরই বিরোধিতা করেননি তার সাথে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন দর্শকদের দর্শন থেকে দেড় বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে এই শহিদ ক্ষেত্রটি। শ্রীমতি চাওলা বলেছেন, ‘ প্রথমতঃ ওই ২০কোটি টাকা কিভাবে খরচ হয়েছে তার তদন্ত হওয়া উচিৎ। দেখা উচিৎ কেন সেই সঙ্কীর্ণ পথ আর কুয়োর পটভূমি বদলে দেওয়া হল যা দেখে মনে হচ্ছে ওটা কুয়ো নয় একটা বাক্স? কেন স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে অমরজ্যোতির? কী করে শহিদ স্মারকের পাশেই অন্য কাঠামো তৈরি করা হল?”

বিজেপি নেত্রী আরও গুরুতর অভিযোগ করে বলেছেন, ” এখানকার গ্যালারি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামী চৌধুরী বাগ্গা এবং রতন চাঁদের ছবি! এতো রীতিমত জাতীয় অপরাধ (National Crime)! আমি অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখব।” এরপরই তাঁর প্রশ্ন কেন এই সংস্কার কাজ চলার সময় জালিওয়ানা বাগ ন্যাশনাল ট্রাস্ট প্রতিনিয়ত এই কাজের ওপর নজরদারি চালায়নি? এরপরই তিনি নিজেই জবাব দিয়েছেন, ‘ আমার মনে হচ্ছে এই ট্রাস্টের এক-দু’জন সদস্যই নিজেদের ইচ্ছামত এই সব সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে।’

  উল্লেখ্য ভারতে বিজেপি শাসিত সরকার গুলির বিরুদ্ধে বারংবার স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যকে ধ্বংস কিংবা চাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। যদিও এই অভিযোগগুলি বারংবার উঠে আসত কংগ্রেস কিংবা বামেদের তরফ থেকেই কিন্তু এবার সরাসরি নিজের ঘরের অন্দর থেকেই স্বাধীনতাকে কলঙ্কিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত হল মোদি সরকারের একটি পরিকল্পনা।

১৯১৯ সালের এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধেই ইংরেজের দেওয়া নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ। কুখ্যাত ডায়ারের নির্দেশে চলা গুলিতে সরকারিভাবেই মারা গেছিলেন আড়াই হাজার নরনারী আর কয়েকশ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ওই কুয়োতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেই কুয়োটাই বদলে দেওয়া হয়েছে!

- Advertisement -
Latest news
Related news