Wednesday, May 22, 2024

BSF Empowere More: আধা সেনার হাতে অর্ধেক বাংলা! অসম ও পাঞ্জাবেও ক্ষমতা বাড়ল বিএসএফের

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ৫০কিলোমিটার অবধি ভেতর অবধি পুলিশের মতই তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত আর গ্রেপ্তার করার ক্ষমতার অধিকারী হল সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ (BSF)। বিএসএফের এই একই ক্ষমতা বেড়েছে পাঞ্জাব এবং অসমেও যা নিয়ে রাজনৈতিক চাপান উতোর শুরু হয়েছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
কালো রেখাটির ডানদিক ও নীচ বরাবর bsf আসতে পারে

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন জানিয়েছেন এই আদেশ প্রত্যাহার করার জন্য। যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে তেমন কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এখন বিষয় হল এটা কী এমন বিষয় যে এ নিয়ে রাজনৈতিক স্তরে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমতঃ রাজ্যের দিক থেকে দেখতে গেলে একমাত্র পুলিশেরই এই ক্ষমতা রয়েছে যে পুলিশ যেকোনও জায়গায় তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারে। পুলিশ ছাড়া রাজ্যের আরও কিছু সংস্থা যারা এটা করতে পারে যেমন গোয়েন্দা বিভাগ যা মূলতঃ পুলিশেরই অংশ। এছাড়া আবগারিদপ্তর, বনদপ্তর, ভেজাল বা দুর্নীতি দমন শাখা ওই দায়িত্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু তাদেরও কারও ব্যাপ্তি পুলিশের মত নয়। বরং বহুক্ষেত্রেই বড়সড় তল্লাশি, বাজেয়াপ্তকরন, গ্রেপ্তারিতে এদের পুলিশের সাহায্য নিতে হয়। অর্থাৎ সবার উপরে কার্যত পুলিশ।

অন্যদিকে কেন্দ্রের যে সমস্ত সংস্থাগুলি রাজ্যের যেকোনও জায়গায় এই কাজ গুলি অর্থাৎ তল্লাশি, বাজেয়াপ্তকরন, গ্রেপ্তারি করতে পারে তারা হল সিবিআই, ইডি, ইনকামট্যাক্স ইত্যাদি। কিন্তু এঁদের কাজের পরিধি সীমিত, পুলিশের মত বিস্তৃত নয়। এরা কেউই পুলিশের মত সশস্ত্রবাহিনীও নয়। প্রয়োজনে অধিক বলপ্রয়োগ করতে হলে এদেরকেও পুলিশের সাহায্য নিতে হয়। সর্বোপরি অপরাধ দমন, অপরাধের তদন্তের পাশাপাশি পুলিশের আরও একটি বড় কাজ হল আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ যা কিনা অন্য কাউকেই করতে হয়না।

বিএসএফ পুলিশের মতই কিংবা অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশের চেয়েও আধুনিক সশস্ত্রবাহিনী যা তল্লাশি, বাজেয়াপ্তকরন, গ্রেপ্তারির ক্ষমতা বহন করে অথচ আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কোনও দায়িত্ব তার নেই। যারা এতদিন অবধি বঙ্গ সীমান্তের ১৫কিলোমিটার অবধি এই ক্ষমতা পেত। বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকায় তারা আরও ৩৫কিলোমিটার অবধি ভেতর অবধি এই অধিকার পেল। হিসাবে দেখা যাচ্ছে প্রায় অর্ধেক পশ্চিমবঙ্গই বিএসএফের এই ক্ষমতার অধীনে চলে এল। এই মানচিত্র অনুযায়ী প্রায় সমগ্র কোচবিহার, উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর, নদীয়া, উত্তর ২৪পরগনা বিএসএফের এই ক্ষমতার অধীনে চলে আসছে। এছাড়া জলপাইগুড়ির ৭৫ভাগ, মুর্শিদাবাদের ৬০ভাগ, মালদহের অর্ধেক, দক্ষিণ ২৪পরগনার ৪০ভাগ এবং দার্জিলিংয়ের ৩০ ভাগ বিএসএফের ওই বিশেষ ক্ষমতার অধীন থাকবে। বিএসএফ তার প্রয়োজনে এই এলাকার মধ্যে বিশেষ ক্যাম্প, ছাউনি, ফাঁড়ি, দপ্তর ইত্যাদি নির্মাণ করতে পারবে।

কিন্তু কেন এটা কেন্দ্র সরকার করল? কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বক্তব্য হল, সাম্প্রতি পাক লাগোয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএসএফ-এর ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই প্রবণতায় রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নর্থ ব্লকের কর্তারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, জাতীয় সুরক্ষার দিকে লক্ষ্য রেখে সীমান্ত সংলগ্ন স্পর্শকাতর রাজ্যগুলোতে বেআইনি কার্যকলাপ রোধে এই সিদ্ধান্ত। এখন এটা তো ঘটনা যে জাতীয় সার্বভৌম ও সুরক্ষার সঙ্গে কোনও আপোষ চলেনা কিন্তু এটাও তো ঘটনা যে এরফলে রাজ্যগুলির একটি বিস্তীর্ণ অংশে নাক গলানোর জায়গা করে নিতে পারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কারন বিএসএফ তো কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন। যেমন করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআইকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে তেমন করে যদি বিএসএফকে ব্যবহার করা হয়? যে কারনে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিংহ চন্নী নয়া নির্দেশিকায় আপত্তি জানিয়ে টুইট করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দ্রুত এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত (ভারত-পাকিস্তান, ভারত-বাংলাদেশ) থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডের ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় বিএসএফ-কে এই বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। আগে এই সীমা ছিল ১৫ কিলোমিটার। এ ছাড়া সীমান্ত রক্ষী বাহিনী নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মনিপুর ও লাদাখে তল্লাশি এবং গ্রেফতার করতে পারবে। তবে ব্যতিক্রমও আছে। ভারত-পাক সীমান্তবর্তী গুজরাতে এত দিন বিএসএফ-এর আওতায় ছিল আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডের ৮০ কিলোমিটার এলাকা। নতুন নিয়মে তা কমিয়ে ৫০ কিলোমিটার করা হয়েছে। আর এক পাক সীমান্তবর্তী রাজ্য রাজস্থানে অবশ্য আগের মতো ৫০ কিলোমিটারই পরিধি রাখা হয়েছে। নয়া নির্দেশিকায় উত্তর-পূর্বের ৫ রাজ্যের ক্ষেত্রে এলাকা নির্দিষ্ট করা হয়নি। জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের ক্ষেত্রেও সীমানা ঠিক করা হয়নি।

একশ্রেণীর রাজনীতিবিদদের বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ ক্রমশঃ রাজ্যগুলির সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা ও অধিকারকে খর্ব করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ভাঙার জন্য নানা রকম ফন্দি ফিকির করেই চলেছেন। এই নির্দেশিকা তেমনই একটি প্রচেষ্টা। এরফলে বিকেন্দ্রীকরনের নীতি লঙ্ঘিত হবে এবং কেন্দ্রের আধিপত্য বৃদ্ধি পাবে। ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য যা একটি বিপদ হয়ে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে যে কাউকে একটি মামলায় অভিযুক্ত করে তাঁকে হেনস্থা করার রাস্তা খোঁজা হচ্ছে এই প্রক্রিয়ায়।

- Advertisement -
Latest news
Related news