Friday, April 19, 2024

Digha: কোটালের জলোচ্ছ্বাসে ভাসছে দিঘা ও শঙ্করপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা! পোয়া বারো পর্যটকদের, দেখুন সেই ছবি

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: পর পর ৩ দিন ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে দিঘার সমুদ্রে উপকূলে। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকত সংলগ্ন রাস্তায়। ফলে ব্যাপক উচ্ছাস পর্যটকদের মধ্যে। চলতি মরসুমে এত বড় ঢেউ আর এরকম জলোচ্ছ্বাস এই প্রথম। তাই খুশির বাঁধ ভেঙেছে পর্যটকদের মধ্যে। অবশ্য দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। বিপদসীমা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে পর্যটকদের। সমুদ্র তীর বরাবর দড়ি বেঁধে লক্ষণ গন্ডী দেওয়া হয়েছে যাতে না কেউ সমুদ্রে নামার চেষ্টা করেন। দিঘা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে কোটালের প্রভাবে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে সমুদ্রে জোয়ারের উচ্চতা। যে কারনে বুধবার, পূর্ণিমার আগের দিন মঙ্গলবার ও পরের দিন বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়েছে সমুদ্র। পাশাপাশি বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ আবহাওয়া যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও গভীর হয়েছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

সূত্র মারফৎ জানা গেছে মঙ্গলবার থেকেই সমুদ্র উত্তাল হতে শুরু করলেও বুধবার পূর্ণিমার ভরা জোয়ারের ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে দিঘা ও শঙ্করপুর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা। এই একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে বৃহস্পতিবারও। সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসা উঁচু উঁচু ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে গার্ডওয়ালের ওপর। সমুদ্রের জল ছাপিয়ে যায় সৈকত সরণি-সহ শহরের রাস্তাঘাট। জল ঢুকে যায় স্থানীয় দোকানগুলিতে। সমুদ্রের এই ভয়াবহ রূপ দেখার জন্য খুব স্বাভাবিক ভাবেই পর্যটকরা সকাল থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সৈকত সরনীতে। গার্ডওয়ালে লেগে ফেটে পড়া জলের উচ্ছ্বাস গায়ে মাখতে মাখতে উল্লাসে ফেটে পড়েন তাঁরা। নতুন এবং পুরানো দিঘার হোটেল গুলি কার্যত খালি করে সব্বাই ছুটে আসেন সমুদ্র সৈকতে। সৈকত সরণি লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। তবে জলোচ্ছ্বাসের জন্য কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকায় জোয়ারের সময় উত্তাল সমুদ্রে নামতে দেওয়া হয়নি পর্যটকদের। যদিও তাতে পর্যটকদের আনন্দে ভাটা পড়েনি। সৈকত সরণিতে দাঁড়িয়েই ধেয়ে আসা জলে স্নানের মজা নেন পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও নুলিয়াদের।

এদিকে পর্যটকদের পৌষ মাস হলেও সমুদ্র উপকূলের বাসিন্দাদের জন্য এই জলোচ্ছ্বাস সর্বনাশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারন সমুদ্রবাঁধ উপচে জল ঢুকেছে শঙ্করপুর, জলধা, চাঁদপুর, জামড়া-শ্যামপুর, তাজপুর প্রভৃতি গ্রামে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধ লাগোয়া বেশকিছু বাড়িঘর ।প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারগুলির মানুষদের দ্রুত সরিয়ে আনা হয় স্থানীয় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে।তবে নতুন করে সমুদ্র বাঁধের সেভাবে কোনও ক্ষতি হয়নি।জলোচ্ছ্বাসের কারণে বাঁধের একাংশে পাথর সরে যায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তা মেরামতিতে হাত লাগিয়েছে সেচ দপ্তর। কাঁথি মহকুমা সেচ বিভাগের মুখ্য বাস্তুকার শুভাশিস বেরা বলেন, ‘ পূর্ণিমা কোটালের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই জোয়ারের উচ্চতা বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই তীব্রতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার সকালে জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৬ মিটার। তবে জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসে সমুদ্রবাঁধের তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। বাঁধের উপচে দিঘা ও শঙ্করপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ভাটার পর জল নেমেও গেছে। জলের টানে শঙ্করপুর-তাজপুর ২.৮ কিমি বাঁধের দুয়েকটি জায়গায় পাথর সরে গিয়েছিল, তা দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে।’

- Advertisement -
Latest news
Related news