Monday, June 17, 2024

অপহৃত নাবালিকাকে উদ্ধার করে ভিনরাজ্য থেকে ফেরার সময় দূর্ঘটনার কবলে পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ ও অপহৃতার পরিবার! মৃত ২, গুরুতর আহত ১

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে অপহৃতা এক নাবালিকাকে ভিনরাজ্য থেকে উদ্ধার করে ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ও অপহৃত নাবালিকার পরিবার। ঘটনায় চালক সহ ২জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক। তাঁর অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে বিহারের গয়া জেলার অন্তর্গত আমাস থানা এলাকায়। ঘটনার পরই বাকিদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেছেন স্থানীয় মানুষজনেরা। ঘটনার খবর পেয়েই অকুস্থলে রওনা দিয়েছেন পুলিশ এবং নাবালিকার পরিবার সদস্যরা। বিহার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

জানা গেছে কয়েকদিন আগে চন্দ্রকোনা থানার অন্তর্ভূক্ত চন্দ্রকোনা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড ইলামবাজার এলাকার এক নাবালিকাকে নিয়ে চম্পট দেয় স্থানীয় এক যুবক। নাবালিকার পরিবার যথেষ্ট প্রভাবশালী এই কারনেই মেয়েটিকে নিয়ে রাজ্য ছাড়ে ওই যুবক। নাবালিকার পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় চন্দ্রকোনা টাউন থানায়। তদন্তে নেমে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে ওই নাবালিকাকে নিয়ে যুবক রয়েছে উত্তরপ্রদেশের একটি স্থানে। পুলিশের কাছে এই খবর পেয়েই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে নাবালিকাকে উদ্ধারের জন্য নাবালিকার কাকা বাপি চাপড়ি একটি ভাড়া গাড়ি নিয়ে সোমবার উত্তরপ্রদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সঙ্গে যায় চন্দ্রকোনা থানার পুলিশও।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাহায্য নিয়ে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আগেই গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত যুবক। এরপর নাবালিকাকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে থাকে পুলিশ ও নাবালিকার পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতে বিহারের গয়া জেলার আমাস থানার অন্তর্গত লেম্বুয়া এলাকায় হঠাৎই গাড়িটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে বিকল হয়ে যায়। চারচাকাটি রাস্তার এক পাশে দাঁড় করিয়ে তা সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। আচমকাই একটি কন্টেনারবাহী লরি ধাক্কা মারে ওই চারচাকাকে। পরে রাস্তার পাশে খাদে উলটেও যায় সেটি।

ওই সময় পুলিশের এক আধিকারিক সহ চার কর্মী ও নাবালিকার জেঠু সমেত নাবালিকা গাড়ির ভেতরে ছিলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষার জন্য রাস্তায় গাড়িটির পাশে ছিলেন গাড়ির চালক তপন বেরা ও নাবালিকার কাকা বাপি চাপড়ি। প্রচন্ড ধাক্কায় চিড়ে চ্যাপ্টা হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁদের। আহত হন চন্দ্রকোণা থানার এক আধিকারিক প্রবীর দেবনাথ,অপর পুলিশ কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে ভর্তি করে স্থানীয় হাসপাতালে।অল্পের জন্য প্রানে বাঁচেন থানার পুলিশ কর্মী ও উদ্ধার হওয়া নাবালিকা।

জানা গেছে চন্দ্রকোনা থেকে নাবালিকা ও চালকের পরিবার শুক্রবার পৌঁছে গেছেন ঘটনাস্থলে। কয়েকজন নাবালিকাকে নিয়ে রওনা দিয়েছেন চন্দ্রকোণার উদ্দেশ্যে। অন্য একটি দল ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ দুটি নিয়ে রওনা দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে নিজের ভাইঝিকে মেয়ের চাইতেও বেশি মনে করতেন বাপী তাই খবর পাওয়া মাত্রই গাড়ি ভাড়া করে ছুটে গিয়েছিলেন। মাথায় ছিল দাদা বৌদির মুখে হাসি ফোটানো। তা’হয়ত হল কিন্তু জীবন থেকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেলেন বাপী। গোটা ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

- Advertisement -
Latest news
Related news