Tuesday, April 16, 2024

Nandigram: নন্দীগ্রামে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দিয়ে জমজমাট গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে তৃনমূল! ১৫ বছর পর মনোনয়ন দাখিল বামদের

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: একটা মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির নির্বাচন আর তাকে ঘিরেই একের বিরুদ্ধে আরেক প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নন্দীগ্রামের গোষ্ঠী কোন্দলকে প্রকাশ্যে নিয়ে চলে এল তৃনমূল কংগ্রেস। মাত্র দেড় বছরও হয়নি নন্দীগ্রাম তৃনমূলের গায়ে মুখ্যমন্ত্রীর মত প্রার্থীকে জেতাতে না পারার কলঙ্কিত অধ্যায় কিন্তু তাতে কার কী? সারা রাজ্য জুড়ে সেই কলঙ্কের দগদগে ঘা নিয়েও দলেরই একের বিরুদ্ধে অন্যজনকে প্রার্থী করে তৃনমূল প্রমান করে দিল নন্দীগ্রামের তৃনমূল নিজের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে, যে জায়গার নাম গোষ্টী দ্বন্দ্ব। বৃহস্পতিবার তাই নিয়ে উত্তেজনায় ফুটল নন্দীগ্রাম।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে আগামী ২৮শে আগস্ট নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের গুমগড় হাই মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন। মোট ৬ জন অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন ওই পরিচালন সমিতির জন্য। বৃহস্পতিবার দেখা গেল সেই ৬টি পদে প্রার্থী তালিকা জমা দিলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি স্বদেশ দাস। আবার ওই দিনই আলাদা করে ৬ সদস্যর একটি মনোনয়ন তালিকা জমা দিলেন দাউদপুরের প্রধান শামসুর ইসলাম। ঘটনাচক্রে স্বদেশ দাস পূর্ব মেদিনীপুর জেলাপরিষদ সহসভাপতি সেক সুফিয়ান ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে প্রধান শামসুর সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পীযুষ ভুঁইয়ার অনুগামী বলে পরিচিত। পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে এই দুই গোষ্ঠীর আলাদা করে মনোনয়ন দাখিল করাকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট উত্তেজনা নন্দীগ্রামের দাউদপুরে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, পরিচালন কমিটির নির্বাচনে কোন দলীয় প্রতীক না থাকলেও তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মনোনয়ন ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এলাকায়। এদিন সকালে নন্দীগ্রাম ১ ব্লক সভাপতি স্বদেশ দাসের নেতৃত্বে প্রথম ৬ জন তৃণমূল প্রার্থী মিছিল করে এসে মনোনয়ন জমা দেন। পরে অনুরূপভাবে পীযূষ ভুঁইয়ার নেতৃত্বে তৃণমূল সমর্থিত আরও ৬ প্রার্থী এসে মনোনয়ন জমা দেন। একই দলের কেন আলাদা আলাদা মনোনয়ন? প্রশ্নের জবাবে ব্লক তৃণমূলের সভাপতি স্বদেশ দাস বলেছেন, ‘বিধানসভা নির্বাচনে উনি মমতা ব্যানার্জিকে হারিয়েছেন। নন্দীগ্রামের মানুষ সব জানে।আর এখন দলকে ছোট করার খেলায় মেতেছেন। দলকে বিভাজন করতে চাইছেন । কিন্তু এসব করে কোনও লাভ হবেনা।’
যদিও ব্লক সভাপতির অভিযোগ মানতে রাজি নয় দলের জেলা চেয়ারম্যান পীযূষ ভুঁইয়া। তিনি বলেছেন, ‘ স্কুল পরিচালন কমিটির নির্বাচন পঞ্চায়েত নির্বাচন নয় । একমাত্র অভিভাবকরাই এই ভোটে প্রতিদ্বন্দীতা করতে পারেন। কোনও দলীয় প্রতীক ছাড়াই যে কোন অভিভাবক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতার জন্যে মনোনয়ন করতে পারেন। ওনারা কেন এই ধরণের কথা বলছেন বুঝতে পারছিনা। যারা গোষ্ঠী দ্বন্দের কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছেন তারা ভুল করছেন। তৃণমূলের মধ্যে কোন গোষ্ঠী নেই।’ তবে স্বদেশ দাসের বক্তব্যর জবাব দিতে গিয়ে শামসুর বলেছেন, ব্লক সভাপতি নিজের বুথ ও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে বসে আছেন।

তবে তৃনমূলের এই কোন্দলকে হারিয়েও বড় খবর এসেছে নন্দীগ্রামের সিপিএমের কাছ থেকে। ২০২১ সালে বিধানসভায় প্রার্থী দিলেও ২০০৭ সালের পর এলাকার ছোটখাটো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে সিপিএম প্রায় সরেই গেছিল। সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছিল নন্দীগ্রামে তীব্র সন্ত্রাসের বাতাবরনের কারণেই তারা এতদিন প্রার্থী দিতে পারেনি। কিন্তু ক্রমশ মানুষ তৃনমূলের চরিত্র বুঝতে পারছে। জনরোষ তৈরি হচ্ছে তৃনমূল নেতাদের প্রতি। তাই জোর জবরদস্তি করার জায়গাতে নেই তৃনমূল। সেই পরিস্থিতিতে এই ৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তারাও।

জেলা সিপিএমের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পরিতোষ পট্টনায়েক বলেন, ‘ মানুষের সমর্থন বাড়ছে, ভয় ভেঙে এগিয়ে আসছেন তাঁরা। তাঁদেরই দাবি মত এবার আমরাও নমিনেশন দিয়েছি। তৃনমূল দুটি কেন ওদের ৫টা গোষ্ঠীও মনোনয়ন জমা দিতে পারে। আমরা ওসব নিয়ে ভাবছিনা ।মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। আর সে কারণে সাদা তৃণমূল কালো তৃণমূলের অভিনয় করে মানুষকে বোকা বানাতে চাইছে তৃণমূল নেতারা।’

- Advertisement -
Latest news
Related news