Monday, May 20, 2024

Rajib Banerjee : রাজীব এল ঘরে, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা কী চলে গেল শোওয়ার ঘরে? লাখ টাকার প্রশ্ন

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ফিরতে চাইলে সব্বাইকে দলে ফেরানো হবে কিন্তু বেইমানদের নয়। কে কে বেইমান তা অবশ্য ব্যখ্যা করে বলেননি মূখ্যমন্ত্রী কিন্তু ‘বেইমান রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়’য়ের বিরুদ্ধে পোষ্টারে  পোষ্টারে ছয়লাপ হয়েছিল ডোমজুড়। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তখন তৃনমূল ছেড়ে বিজেপিতে গেছেন। স্বাভাবিকভাবে তৃনমূল কংগ্রেসে যা হয় তাই হয়েছিল, হঠাৎ আবিষ্কার হয় যে, রাজীব বনমন্ত্রী থাকাকালীন ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বিশেষ করে বনসহায়ক নিয়োগের ক্ষেত্রে। মূখ্যমন্ত্রী ফের হুঙ্কার দেন, ওই দুর্নীতি নিয়ে মামলা করা হবে। ক্যাবিনেটে পাশ হয় সেই সিদ্ধান্ত। মামলাও হয়।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে (SAT) মামলা দায়ের হল। মামলাকারী সজল দে-সহ ১২ চাকরিপ্রার্থীর আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানান, বনদপ্তরে ২০০০ শূন্য পদে নিয়োগের জন্য গত বছর ৮ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করে বনদপ্তর। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ চাকরিপ্রার্থীরা। ঘটনা হল, ওই পদে দু’লক্ষ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন । কিন্তু কোনওরকম তালিকা প্রকাশ না করেই ওই পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে রাজ্যের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়ে কোনও সুরাহা হয়নি। শেষপর্যন্ত চাকরি প্রার্থীরা স্যাটের দ্বারস্থ হয়েছেন। অন্যদিকে রাজীবও জবাব দেন কোথা থেকে নিয়োগের তালিকা পাঠানো হয়েছিল তা রাখা আছে। অর্থাৎ দুর্নীতি হয়েছে এবং তিনি দুর্নীতি করেছেন আর তা করেছেন তৃণমূলেরই নেতাদের পাঠানো তালিকা থেকে।

এরপর বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী রাজীব কিন্তু নিদারুণ পরাজয়। বিজেপির পশ্চিমবাংলায় ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ। আর এখন ক্ষমতায় আসা তো দুরের কথা, বিধায়ক আর সাংসদ ধরে রাখতে হিমশিম বিজেপি। প্রতিদিন বিজেপির কাউন্টার ছেড়ে তৃনমূল কংগ্রেসের কাউন্টারে ‘আমিও যাইব’র লম্বা ভিড়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দমবন্ধ হয়ে তৃনমূল থেকে বিজেপিতে আসা লোকজন যেন হঠাৎ করেই তৃনমূলের অন্দরে অক্সিজেন প্ল্যান্ট আবিষ্কার করেছেন, ক্ষমতার অক্সিজেন! ওদিকে নীচুতলার তৃনমূল কর্মীরা তখনও পোষ্টার মেরেই চলেছে, বেইমানদের ঘরে ফেরানো চলবেনা, বনদপ্তরের দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু দলত্যাগের ঠিক ৯ মাসের মাথায় তৃণমূলে ফিরলেন বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ত্রিপুরার আগরতলায় রবীন্দ্রভবনের সভামঞ্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে ফিরলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। দলত্যাগের জন্য জনসমক্ষে ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন তিনি। বললেন, “আমি লজ্জিত, অনুতপ্ত, ভুল স্বীকার করছি।” বললেন, রোজি পিকচার দেখে ভুল করেছিলাম। সভামঞ্চে প্রকাশ্যে বারবার নিজের ভুল স্বীকার করে নিলেন। বললেন, “অভিমানে ভুল করেছিলাম। রাগের বশে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই সময় অভিষেক আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি শুনিনি। আমাকে ভুল বোঝানো হয়েছিল। যেদিন বুঝতে পেরেছি, তখন অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। আজকে আমি লজ্জিত, অনুতপ্ত।”

ত্রিপুরার সভা থেকে বিজেপিকে তুলোধনা করলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিজেপি সব সময় বিদ্বেষ মূলক কথা বলে। আমি বারবার বলেছি, ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনওদিন বাংলার মানুষ ভালভাবে নেবে না। এই রাজনীতিতে বাংলার মানুষ মানবেন না।” তাঁর কটাক্ষ, বিজেপি শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভেই নানারকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তাঁর কোনওটাই ফলপ্রসূ হত না। সব মিলিয়ে এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজীব। এদিনই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বিজেপি আরেক বিধায়ক আশিস দাস।

এখন প্রশ্ন হল তা’হলে মামলার কী হবে? কী হবে সেই ২০০০ বেকার যুবকের যাঁরা যোগ্যতা থাকা স্বত্ত্বেও সুযোগ পেলেননা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথিত বনদপ্তরের নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির জন্য। অবশ্যই ঘুমিয়ে পড়বে সেই মামলা যেমনটা ঘুমিয়ে আছে সারদা, নারদা, রোজভ্যালি সহ কয়েকশ মামলা। প্রয়োজনে ঘুম ভাঙবে আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে কয়েকদিনের জন্য। একটু শোরগোল ফেলে আবার ঘুমিয়ে যাবে। মামলা তো এখন দলে টানার মামলা। দলে চলে আসলে মামলার আর প্রয়োজন কী?

- Advertisement -
Latest news
Related news