Wednesday, May 22, 2024

3 Farm laws Withdrwan: পিছু হটলেন নরেন্দ্র মোদী, প্রত্যাহার ৩কৃষি আইন! আইন পাশ না করলে সরছিনা রাস্তা থেকে, জানালেন টিকায়েৎ, অহংকারের পরাজয় বললেন রাহুল

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা:  পিছু হটলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পরাজিত হল সেই মনোভাব যেখানে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জেরেই আইন পাশ করানোর স্পর্ধা দেখানো হয়, জনস্বার্থের কথা না ভেবেই। এই পরাজয় নরেন্দ্র মোদী আজীবন তাড়া করবে কারন অনমনীয় প্রধানমন্ত্রী বারংবার কৃষকদের অবস্থান আন্দোলনকে অগ্রাহ্য করে বলে এসেছেন ওই কৃষি আইন কোনও মতেই প্রত্যাহার করবেনা সরকার। এই পরাজয় প্রধানমন্ত্রীকে দারুন ‘আহত’ করবে কারন, ব্যাংক, বীমা, রেল, বিমান, বন্দর ইত্যাদির মত কৃষিকেও তিনি তাঁর স্বাভাবিক ‘মিত্র’ আদানি-আম্বানী জাতীয় বন্ধুদের হাতে তুলে দিতে পারলেননা। কিছুই অবশ্য করার ছিলনা তাঁর। মাথার ওপর উত্তরপ্রদেশ সহ ৫ রাজ্যের নির্বাচন আর তার মধ্যে ৩ রাজ্যের সীমানা ছুঁয়েই গত প্রায় ১ বছর ধরে বসে রয়েছেন কৃষকরা। শুধু বসেই নেই, শয়ে শয়ে মামলা খেয়েছেন, দেশদ্রোহীর তকমা খেয়েছেন, পুলিশের লাঠি খেয়েছেন এবং ৬০০ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও অনড় কৃষকরা নাড়িয়ে দিল ‘অহংকার শাহী’কে। যাঁরা বলতেন মোদীকে নড়ানো না-মুনকিন হ্যায় তাঁরা বুঝলেন আন্দোলনের সামনে সব অহংকার গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়। আর তাই শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করছে কেন্দ্র।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

শুক্রবার জাতীর উদ্দেশে ভাষণে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যে কৃষি আইন বলবৎ করা নিয়ে অনড় ছিল কেন্দ্র, সেই অবস্থান থেকে সরে এসে শুক্রবার মোদী বললেন, ‘‘হয়ত আমাদেরও কিছু ত্রুটি ছিল।’’ সেই সঙ্গেই আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করে মোদীর আক্ষেপ, ‘‘আমাদের উদ্দেশ্য সৎ ছিল। কিন্তু কৃষি আইনের সুফলের কথা কিছু কৃষককে আমরা বোঝাতে পারিনি।’’ আন্দোলনের পথ ছেড়ে কৃষকদের আবার চাষের ক্ষেতে ফিরতেও আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আসুন, সব আবার নতুন করে শুরু করা যাক।’’ পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ‘‘এখন কাউকে দোষারোপের সময় নয়।’’
গুরু নানকের জন্মদিবসে মোদীর এই ঘোষণা ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিদের একাংশ। কারণ কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থানকারী কৃষকদের বড় অংশই পঞ্জাব এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। তাঁদের শিখ এবং জাঠ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অনেক। আগামী বছরের গোড়াতেই ওই পঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোট।

যদিও প্রধানমন্ত্রীর মুখের কথায় ভরসা রাখতে পারছেন না ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন (বিকেইউ)-এর নেতা রাকেশ টিকায়েত। সরকার যত ক্ষণ না পাকাপাকি ভাবে এই আইন প্রত্যাহারে সিলমোহর দিচ্ছে তত ক্ষণ অবস্থান উঠবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। টিকায়েত বলেছেন, “সবে তো শুরু! যত দিন না সংসদে এই তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পাশ হচ্ছে তত দিন অবস্থান জারি থাকবে। খুঁটি তখনই উঠবে যে দিন কাজ পাকা হবে।”

উল্লেখ্য ২০২০-র সেপ্টেম্বরে পাশ হয় তিন কৃষি আইন। তার পর থেকেই এই আইনের বিরোধিতায় হরিয়ানা, পঞ্জাব-সহ দেশের নানা প্রান্তে আন্দোলন শুরু হয়। নভেম্বরে কৃষকরা দিল্লিতে গিয়ে ধরনায় বসেন। সেই থেকেই আন্দোলন চলছিল। সেই আন্দোলনের শুরু থেকেই ছিল বিকেইউ। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী কৃষি আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করতেই বিকেইউ-এর নেতা টিকায়েত হুঙ্কার দেন, ৬০০ কৃষকের আত্মবলিদানকে বিফলে যেতে দেওয়া হবে না। এই আন্দোলনকে মজবুত করতে বহু কৃষক প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মবলিদানকে উৎসর্গ করে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা ভাবা হবে। তবে তিনি সাফ জানিয়েছেন, মুখের কথায় নয়, সরকার পাকাপাকি ভাবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ না করলে আন্দোলন জারি রাখা হবে। টিকায়েত আরও জানান, সংযুক্ত কিসান মোর্চা শুক্রবার এ বিষয়ে আলোচনা চালাবে। এবং সামগ্রিক বিষয় পর্যালেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণার পরই প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন একের পর এক রাজনৈতিক নেতা। নিজের টুইটারে রাহুল গান্ধী হিন্দিতে লিখেছেন, ‘দেশের অন্নদাতাদের সত্যাগ্রহ অহঙ্কারের মাথা নত করে দিয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয়কে অভিনন্দন। জয় হিন্দ। জয় হিন্দের (ভারতের) কৃষক।’ শুক্রবার সকালেই নিজের টুইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বিজেপি কৃষকদের প্রতি নৃশংস। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে সমস্ত কৃষক নিরন্তর লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন তাঁদের প্রত্যেককে আমার হার্দিক অভিনন্দন। এটা আপনাদের জয়। এই লড়াইয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা।’ সিপিএমের বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘সংযুক্ত কিসান মোর্চার নেতৃত্বে লক্ষাধিক কৃষকের সঙ্ঘবদ্ধ লড়াইয়ে জয় এল। মোদী সরকারের সমস্ত নোংরা চেষ্টা পরাজিত হয়েছে। স্বৈরাচারী রাজত্ব বাধ্য হয়েছে তিন কালা কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে। কৃষক মোদী সরকারকে শিক্ষা দিল: স্বৈরাচার কাজ করে না। শহিদ কিসানদের আমরা স্মরণ করছি এবং তাঁদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য গত বছরের নভেম্বর থেকে সিঙ্ঘু এবং টিকরি সহ রাজধানী দিল্লির সীমানা বরাবর চার জায়গায় অবস্থান আন্দোলনে বসেন কৃষকরা। ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে লালকেল্লা পর্যন্ত কৃষকদরে ট্র্যাক্টর র‌্যালি ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মামলা হয় বেশ কিছু কৃষকনেতার বিরুদ্ধে। বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের তরফে কৃষকদের দেশদ্রোহী, মাওবাদী ইত্যাদি নানা অভিধা দেওয়া হতে শুরু করে। কোথাও পুলিশের নির্মম লাঠিতে আন্দোলনকারীদের মৃত্যু হয়েছে কোথাও আবার গাড়ি চালিয়ে পিষে দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। কিন্তু এক ইঞ্চি জমি ছাড়েননি কৃষকরা। অবশেষে চাপে পড়ে কৃষি আইন পাশ হওয়ার এক বছর পর খোদ প্রধানমন্ত্রী সেই আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেন। জয় নিয়েই ঘরে ফিরতে চলেছেন কৃষকরা।

- Advertisement -
Latest news
Related news