Monday, May 20, 2024

IIT Kharagpur: জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক ঝড়ে বিপর্যস্ত হতে চলেছে দিঘা থেকে হলদিয়া হয়ে ডায়মন্ড হারবার! জানালেন আইআইটি খড়গপুরের বিজ্ঞানীরা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: আর শুধু ভরা মরা কোটাল বা মরা কোটালই নয়, নয় নিম্নচাপ অথবা সাইক্লোন এবার তার সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে ধারাবাহিক জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক ঝড়ের প্রবণতাও। আর এই প্রবণতার জেরে বছরে ৬ মাস জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক ঝড়ে বিপর্যস্ত হতে চলেছে দিঘা থেকে ডায়মন্ড হারবার বাংলার ১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র উপকূল। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা ছুঁয়ে যাওয়া মোট তিনটি জেলার উপকূলবর্তী এক বিশাল অংশের মানুষ এরফলে ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে পড়তে পারেন বলেন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change )এই ঝোঁক বঙ্গপোসাগর এবং দক্ষিণ ভারত মহাসাগর এবং আরব সাগরের চরিত্রই বদলে দিতে চলেছে। বাড়তে চলেছে সমুদ্রের জলস্তর। একের পর এক মারণ ঝড় আছড়ে পড়বে বাংলা-সহ ভারতের উপকূল এলাকাগুলিতে। বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ ভারত মহাসাগরীয় উপকূল এই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে দক্ষিণ চিন সাগরেও।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

সাম্প্রতিক গবেষণাটি করেছেন আইআইটি খড়গপুরের (IIT Kharagpur) ওসান
ইঞ্জিনিয়ারিং ও নাভাল আর্কিটেকচার বিভাগের
(Department of naval architecture and ocean engineering) দুই অধ্যাপক অথিরা কৃষ্ণন ও প্রসাদ কে ভাস্করন। সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দিল্লীতে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি(NIT Delhi)
ডিপার্টমেন্ট অফ আ্যপলায়েড সায়েন্সের (department of applied sciences)
গবেষক প্রশান্ত কুমার। একটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ‘ক্লাইমেট ডায়নামিক্স স্প্রিংগার’ (climate dynamics springer) নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে ওই ত্রয়ীর গবেষনাপত্রটি যা নিয়ে ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক স্তরেও। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে প্রকাশিত ওই গবেষণা পত্র শুধু ভারত নয় কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে।

চিন্তার কারন শুধু এই নয় যে, বছরে পাকাপাকি তিন মাস গেড়ে বসতে যাওয়া ওই জলোচ্ছ্বাস ও বিধ্বংসী ঝড় উপকূলবর্তী মানুষের বাসস্থান, রাস্তাঘাটের ক্ষতি করবে। চিন্তা তারও চেয়ে বেশি যে এক বিস্তৃত অংশ ক্রমশ গ্রাস করে নেবে নোনাজল। অচাষযোগ্য হয়ে পড়বে লক্ষ লক্ষ একর কৃষি জমি। এমনটাই জানাচ্ছেন আইআইটি খড়্গপুরের গবেষকেরা। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সমুদ্রে বড় ঢেউয়ের প্রবণতা বাড়তে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপকূল এলাকা। সমুদ্রের নোনা জল স্থলভাগে ঢুকে মিশবে ভূগর্ভস্থ জলের সঙ্গে। নষ্ট হবে প্রচুর ফসল। অর্থাৎ, এর প্রভাব সরাসরি পড়বে আর্থ-সামাজিক ভিত্তির উপর।

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, মূলত জুন-জুলাই-অগস্ট এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ঝোড়ো হাওয়াএবং বড় ঢেউয়ের প্রবণতা বাড়বে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরীয় উপকূলে। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়তে পারে অন্তত এক মিটার। অন্য দিকে, গত শতাব্দীর প্রবণতা থেকে গবেষকদের দাবি, ঝড়ের দাপট বাড়বে মধ্য বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায়। উত্তর ভারত মহাসাগর, উত্তর-পশ্চিম আরব সাগর, দক্ষিণ চিন সাগর এবং উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ঢেউয়ের উচ্চতা প্রায় ০.৪ মিটার বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়াও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে গবেষনা পত্রে। এই গবেষণাকে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় PMO নিয়ন্ত্রণাধীন প্রেস ব্যুরো অফ ইন্ডিয়া বা PIB তরফে এই তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সমস্ত মহলে। বাংলার উপকূলে থাকা ৫টি বন্দর অর্থাৎ কলকাতা, হলদিয়া, তাজপুর, কুলপি এবং সাগরে সরাসরি প্রভাব পড়বে জলবায়ু পরিবর্তনের এই ফলাফল।

- Advertisement -
Latest news
Related news