Sunday, July 14, 2024

Tmc leader raise Gun: উত্তরপ্রদেশের কায়দায় বন্দুক উঁচিয়ে হুমকি তৃনমূল নেতার! বিজেপির চক্রান্ত বললেন সভাধিপতি

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: রীতিমত বিহার উত্তরপ্রদেশের নেতাদের কায়দায় বন্দুক উঁচিয়ে জনতাকে হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গেল তৃনমূলের এক নেতাকে। তাও নিজের নয় হাতে তুলে নিয়েছিলেন নিজের দেহরক্ষীর বন্দুক। মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সেই ঘটনার মুহূর্তটি। যদিও ঘটনাটিকে বিজেপির কারসাজি বলে দাবি করেছেন ওই তৃনমূল নেতা। ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার পুঞ্চা এলাকায় আর অভিযুক্ত নেতা তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তাঁর দাবি, তিনি বন্দুক হাতে তুলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কারসাজি করেছে বিজেপির লোকেরা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার পুঞ্চায় একটি মনসা পূজার একটি সমাবেশে। ওই এলাকায় মনসা পুজো হয় ধুমধাম করেই। করোনা পরিস্থিতি স্তিমিত হতে এবছর জাঁকজমক একটু বেশিই বেড়েছে। জমকালো মঞ্চ সজ্জার পাশাপাশি আলো ও সাউন্ড সিস্টেম, ডিজে ইত্যাদি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রচুর জনসমাগম হয়েছে এলাকায়। বৃহস্পতিবার আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে সেখানে হাজির হয়েছিলেন তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি দেখতে পান জেনারেটর থেকে শট সার্কিটের ফলে আগুন ধরে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীকে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন ওই তৃণমূল নেতা।

নিরাপত্তারক্ষী বিষয়টি দেখতে যান কিন্তু অস্ত্রটি রেখে যান সভাধিপতির কাছে।সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আগুন জ্বলছে দেখেও জনতার একাংশ বিষয়টি নজর করেননি উল্টে কিছু মানুষ ডিজের তালে এমনই উত্তাল নাচে নাচছিলেন যে তাদের দিকে সবার নজর ছিল। চারদিকে মানুষের ভিড়, হইচই, ডিজের গান সবমিলিয়ে মানুষ মেতে ছিলেন। তিনি বারংবার চিৎকার করে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি মানুষের নজরে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে বন্দুকটি উঁচিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন মাত্র। সেখানে থাকা বিজেপির কর্মী সেই ছবি তুলে এডিট করে ভাইরাল করেছে যাতে মনে হয় যে তিনি বন্দুক উঁচিয়ে হুমকি দিচ্ছেন।

সুজয় বাবুর অভিযোগ ওই ভিডিওটি এডিট করে কৃত্রিমভাবে শব্দও বসানো হয়। এ বিষয়ে সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা বিজেপির কাজ। ওরা এডিট করে ভিডিওটিকে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমি শুধুমাত্র মানুষের প্রাণ বাঁচাতে, তাঁদের সতর্ক করতে বন্দুকটি হাতে তুলেছিলাম। মানুষকে সতর্ক করতে না পারলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমি প্রয়োজনে ফের একাজ করতে তৈরি।”

যদিও বিজেপির বক্তব্য, পুরো মিথ্যা কথা বলছেন ওই তৃনমূল নেতা। ওই সময় ভাসানের জন্য ঠাকুর ননিয়ে যাচ্ছিল জনতা। ভিড়ে আটকে পড়ে তৃনমুল নেতার গাড়ি। এরপরই ক্ষুব্ধ নেতা গাড়ি থেকে নেমে নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে বন্দুক নিয়ে জনতার উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বন্দুক উঁচিয়ে বলেন, রাস্তা না ছাড়লে গুলি করব।বিজেপির আরও অভিযোগ নিরাপত্তারক্ষী কোথাও যায়নি বরং তাঁর গা ঘেঁসেই দাঁড়িয়েছিল। ছবিতেও অবশ্য তাই দেখা যাচ্ছে।  এ বিষয়ে জেলা বিজেপি সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, “সরকার তাদের, তাই যা ইচ্ছে তাই করছে । এটা আইনত অপরাধ । যেখানে গণতন্ত্র নেই, সেখানে পাওয়ারকে কাজে লাগিয়ে যা ইচ্ছে করছে। আজকে তৃণমূলের নেতারা গুন্ডায় পরিণত হয়েছে। এই গুন্ডামি করে ওরা ভোটে জিতেছে। এটার বিরূদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিলে বিজেপি রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।”

আসলে ঘটনাটি ভিন্নমাত্রা পেয়ে গেছে কয়েকমাস আগে ২৭ মার্চের একটি ঘটনায়। ওই দিন পুরুলিয়ায় বিধানসভা ভোট ছিল। প্রথম দফার সেই ভোটের দিন সকালে পুরুলিয়ার মুনসেফডাঙা এলাকার এক বিজেপি কর্মীকে গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল সুজয়বাবুর বিরুদ্ধে। তখন অবশ্য তাঁর কাছে অস্ত্র ছিল না। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল।

সুজয়বাবুর যুক্তি যাইহোক না কেন বিজেপির লোকেরা যদি এই ভিডিও নিয়ে কারসাজিও করে থাকেন তবুও সুজয়বাবু আইনত কাজটি ঠিক করেননি। আইন বলছে কোনও অবস্থাতেই তিনি এভাবে অস্ত্র তুলতে পারেননা। এই প্রক্রিয়া মানুষকে খুনের হুমকি দেওয়ারই সামিল আর যদি ভুলক্রমে ওই বন্ধুক থেকে গুলি ছুটত তবে ভয়ঙ্কর কান্ড ঘটে যেতে পারত। তৃতীয়তঃ এই বন্ধুক তাঁর নিজের নয়,পুলিশের যা তিনি হাত দিতে পারেননা। অন্যদিকে নিজের বন্দুক যথাযথ হেফাজতে না রেখে গর্হিত কাজ করছেন ওই নিরাপত্তারক্ষীও। বর্তমানে মাওবাদী অধ্যুষিত না হলেও কোনও দুষ্কৃতি ওই বন্দুকের দখল নিতে পারত। সরকারের দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্র কোনও পুলিশকর্মী উপযুক্ত হেফাজত ব্যতিরেকে নিজের হাত ছাড়া করা যায়না।

- Advertisement -
Latest news
Related news