Saturday, April 20, 2024

SSC Scam: SSC তে জোচ্চুরি করে পাওয়া মন্ত্রী কন্যা অঙ্কিতার চাকরি কেড়ে নিল আদালত! দুই কিস্তিতে ফেরাতে হবে বেতনের টাকা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: শেষ অবধি চাকরি গেল রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী অঙ্কিতা অধিকারীর। জোচ্চুরি করে তাঁকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার পেছনে যাঁদের হাত রয়েছে তাঁদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার এসএসসি (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এমনই বড়সড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছেন, বেআইনিভাবে নিয়োগের অভিযোগে মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হল। শুধু তাইই নয়,তাঁকে কর্মজীবনের বেতনের সব টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দুই কিস্তিতে এই টাকা ফেরাতে হবে অঙ্কিতা অধিকারীকে। উল্লেখ্য গত ৩১ অগাস্ট, ২০১৮-য় এসএসসির সুপারিশপত্রের ভিত্তিতে অঙ্কিতা কোচবিহারের ইন্দিরা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসাবে চাকরি করছেন নিজেরই বাবা মেখলিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায়। মোট ৪৩ মাস চাকরি করছেন তিনি।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

উল্লেখ্য রাজ্যে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা সম্প্রতি এসএসসি নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই বেআইনি নিয়োগ মামলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছিল বাবার সুপারিশেই অঙ্কিতা যোগ্য নম্বর না পেলেও চাকরি পেয়েছিলেন বলে। সেই অভিযোগ যে সত্যি তা আদালতে দাঁড়িয়ে মেনেও নেন SSC চেয়ারম্যান। মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অঙ্কিতাকেও ডেকে পাঠায় সিবিআই। কিন্তু তিনি হাজিরা এড়ান। শুক্রবার এই সংক্রান্ত শুনানিতে আদালতের নির্দেশের পরেও মন্ত্রীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হল না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্ট। আদালত জানতে চায় অঙ্কিতা অধিকারীর কে নিয়ে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ? সে কি এখনও চাকরিতে আছে ? স্কুলে কাজ করছে ? এখনও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? মন্ত্রীর মেয়ে অঙ্কিতা কোথায়, তা এদিন জানতে চায় আদালত। তাঁকে আদালতে হাজির হতে বললে আসতে পারবে কিনা, তাও জানতে চায় হাই কোর্ট। আইনজীবী জানান, অঙ্কিতা কোচবিহারে আছে। ডাকা মাত্রই আসা সম্ভব নয়।

এদিন আদালত জানিয়েছেন, মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও সমস্ত টাকা দু কিস্তিতে ফেরত দিতে হবে এবং ন্যায় বিচারের জন্য মন্ত্রীকে ও অদৃশ্য হাত খুঁজে তাদের গ্রেফতার করা হোক। বঞ্চিত মেধা সম্পন্নদের দ্রুত চাকরি দেওয়া হোক। উল্লেখ্য সেই বঞ্চিতদের মধ্যেই একজন শিলিগুড়ি কোর্টমোড়ের গৃহবধূ ববিতা সরকার। মন্ত্রীকন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর চেয়ে ১৬ নম্বর বেশি পেয়েছিলেন। তবু ববিতার নাম তালিকার ২১ নম্বরে ছিল। আর পরেশের মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর নাম ছিল মেধা তালিকার শীর্ষে। শুধু তাই নয়, তার চেয়েও বড় কথা ইন্টারভিউ বা পার্সোনালিটি পরীক্ষাই দেননি মন্ত্রী কন্যা।

ববিতা ২০১৬ সালে স্কুলশিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় বসেন। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর মেধাতালিকা প্রকাশ হয়েছিল। সেই তালিকায় অবশ্য ববিতার নাম প্রথম ২০তেই ছিল। কিন্তু সেই তালিকা বাতিল করে দেয় এসএসসি। কিছু দিন পর প্রকাশিত হয় নতুন তালিকা। নতুন তালিকায় ববিতার নাম ছিল ওয়েটিং লিস্টে। আর পুরনো তালিকায় কোথাও না থাকা অঙ্কিতার নাম নতুন তালিকায় উঠে আসে! এরপরই লড়াই শুরু হয় ববিতার। সেই লড়াই শেষ অবধি চাকরি খেয়ে নিল মন্ত্রীকন্যার। এখন দেখার ববিতা সরকার চাকরি পান কিনা?

- Advertisement -
Latest news
Related news